এম. এ হান্নান সরকার

১৯৯৭- এর অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির অংশ হিসেবে পার্বত্য জেলা পরিষদের হাতে পুলিশকে হস্তান্তর করলে বাঙ্গালীরা হয়রানির শিকার হবে, বাড়বে অপরাধের প্রবণতা।

কি রয়েছে পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনে?

২৪) (ক) ৬২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই উপ-ধারাটি প্রণয়ন করা হইবে : আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তদনিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাহাদের বদলি ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে।

চুক্তির এ ধারা বাস্তবায়নে সরকারকে ইতোমধ্যে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ দুঃখজনক যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু ভাষাভাষী মানুষের বসবাস তবুও এখানকার সকল সুযোগ-সুবিধা ও আইন কানুন এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সহ নেতৃত্বের সিংহভাগই উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর কতিপয় ব্যক্তিদের হাতে৷ এখানে জাতিগত বৈষম্য, অনিয়ম, অবিশ্বাস ও উপজাতি বাঙ্গালী ভেদাভেদ এবং উপজাতি বাঙ্গালী আস্তার তীব্র সঙ্কট রয়েছে। এমন করুণ অবস্থায় যদি পুলিশকেও উপজাতীয়দের অধীনস্থ পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়, ‘তাহলে পুলিশ বাঙ্গালীদের হয়রানি করবে নিঃসন্দেহে।’ এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী টিকে থাকা দায়ী হয়ে যাবে৷ ইতোমধ্যে পার্বত্য চুক্তির অংশ উপজাতি কোটা। আর এই কোটায় একতরফাভাবে সুযোগ পেয়ে সরকারী চাকরিতে উপজাতীয়দের উপস্থিতি অতিরঞ্জিত ভাবে বেড়ে চলছে! সমতলে থাকা উপজাতীয় পুলিশদের বিগত বছর গুলোতে পাহাড়ে পাঠালেও তারা নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ে৷ রাঙ্গামাটি কোর্ট পুলিশে বদলি হয়ে আসা “হিমেল চাকমা নামে পুলিশ কনস্টেবল” দীর্ঘদিন হতে আদালতের গোপন তথ্য এবং রাষ্ট্রীয় তথ্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিকট সরবরাহ করে আসছে! হিমেল চাকমার অত্যাচারে এবং হয়রানির কারণে অনেক বাঙ্গালী কোর্টে প্রয়োজনীয় কাজে যেতে ভয় পাচ্ছে৷ উপজাতি ও বাঙ্গালী কোন জাতিগত মামলা হলে হিমেল চাকমা বাঙ্গালীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং টর্চার করে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে তার ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে নির্যাতন করে।

অধিকাংশ উপজাতি পুলিশ তথাকথিত শান্তিবাহিনীর আত্মসমর্পণকারী সদস্য। তারা চুক্তি শর্ত মোতাবেক শান্তিবাহিনী হতে পুলিশে এসেছে। তারা বাঙ্গালী বিদ্বেষী, বাঙ্গালীদের চরমভাবে ঘৃণা করে। পুলিশে চাকরি করে রাষ্ট্রীয় অনেক গোপন তথ্য জেএসএস সন্ত্রাসীদের নিকট সরবরাহ করে। নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত অধিকাংশ পুলিশ সদস্য বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক মনোভাবের। তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জেএসএস সন্তু ও ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের সদস্য ও সমর্থক। তারা পুলিশে এসে পার্বত্য বাঙ্গালীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।

গত- ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ি পানছড়িতে উপজাতি পুলিশ সদস্য মদপানের ভান করে নিজের অস্ত্র উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়৷ তদন্তের পর অস্ত্র খোয়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। মদপান নাকি তাদের জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং প্রথাগত নিয়ম। তাই তাদের জন্য মদপান বৈধ!

২০১৩ সালে রাজধানী ঢাকা হতে উপজাতীয় ২ পুলিশ সদস্য অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাহাড়ের স্বজাতি সন্ত্রাসীদের নিকট পাচারকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আটক হয়। এ থেকে অনুমেয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় জনগোষ্ঠী হতে পুলিশ নিয়োগ ও পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোর হাতে পুলিশ নিয়োগ এবং শাস্তি ব্যবস্থা সহ পুলিশকে হস্তান্তর বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য মোটেও সুখময়- স্বস্তির হবে না।

যদিও পাহাড় হতে ২১৮ জন উপজাতি পুলিশ সদস্যকে সমতলে নিয়ে যেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করেছিলো একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি দীর্ঘ ৫ বছরেও! পাহাড়ে এখনো উপজাতি পুলিশ সদস্য বিদ্যমান। তাছাড়া সরকার যদি অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুলিশকে পার্বত্য তিনটি জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করে তাহলে অচিরেই পার্বত্যাঞ্চলে বাঙ্গালীর অস্ত্বিত্ব বিলীন হবে।

তিন পার্বত্য জেলায় কর্তব্যরত সব উপজাতি পুলিশ সদস্যদের ফের সমতলে বদলির সুপারিশ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এ ব্যাপারে ২০১৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য জেলাগুলোয় কর্মরত উপজাতি পুলিশ সদস্যরা সরকারের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন।
পার্বত্য এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের প্রলোভন, আঞ্চলিকতা ও আত্মীয়তায় প্রভাবিত হয়ে তারা রাষ্ট্রের গোপনীয়, স্পর্শকাতর ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তথ্য পাহাড়ের কিছু আঞ্চলিক সংগঠনের কাছে পাচার করছে।
এসব তথ্য ইউপিডিএফ, জেএসএস (সন্তু লারমা) ও জেএসএসের (সংস্কার) মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে। এমনকি দুষ্কৃতকারী ধরতে যেসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তারও আগাম তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন এসব উপজাতি পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুসারে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এবং তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টিতে ২০১২ সাল থেকে সমতলের কিছুসংখ্যক উপজাতি পুলিশ সদস্যকে পার্বত্যাঞ্চলে বদলি করা হয়। এ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, পাহাড়ি নিবন্ধনহীন আঞ্চলিক সংগঠন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত কর্মসূচি উপলক্ষে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দিকনির্দেশনামূলক তথ্যাদি উপজাতি পুলিশ সদস্যরা আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কাছে ফাঁস করে দিচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই দুরূহ হয়ে পড়ে।
এতে জননিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ গৃহীত পদক্ষেপগুলো ফলপ্রসূ না হয়ে অনেক সময় হিতে বিপরীত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ ছাড়া উপজাতি পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে তথ্য পাচার হওয়ায় বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি চরম হুমকি। এ প্রেক্ষাপটে তাদের পার্বত্য এলাকায় নিয়োজিত না করে সমতলে নিয়োজিত করার সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শান্তিচুক্তি পরবর্তী সময়ে আত্মসমর্পণকৃত সদস্যদের পুলিশে নিয়োগদানের পর মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে সমতলে বদলি করা হয়। বর্তমানে তাদের সমতল থেকে পার্বত্য এলাকায় বদলি করায় অধিকাংশই আগের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

বর্তমানে পাহাড়ে একতৃতীয়াংশেরও বেশি পুলিশ সদস্য সমতলের বাঙ্গালী৷ নেতৃত্ব শ্রেণী উপজাতি সম্প্রদায় হবার কারণেই বাঙ্গালীরা আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত হতে হয় মাঝেমধ্যেই। এতোকিছু মধ্যেও অন্ততপক্ষে বাঙালিরা কিছুটা হলেও বাঙ্গালী পুলিশের কাছে নিরাপদ। কিন্তু যখন সব উপজাতি পুলিশ হয়ে যাবে এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের কব্জায় পুলিশ থাকবে তখন পার্বত্য বাঙ্গালীরা প্রতিটি মূহুর্তে হয়রানির শিকার হবে। এখানে টিকে থাকা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।

By admin

মতামত

x