Home / পর্যটন শিল্প / প্রেস বিজ্ঞপ্তি : চন্দ্র পাহাড় পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : চন্দ্র পাহাড় পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

পর্যটন বিকাশের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ পর্যটন বিকাশে আবার কিছু বাঁধাও আছে পাহাড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলো পর্যটন শিল্প বিকাশে বরাবরই বিভিন্ন ভাবে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। এসকল বিষয়ে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

বান্দরবানের চন্দ্রপাহাড়কে যেন প্রকৃতি তার আপন হাতে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ করেছে। এই পাহাড়ে দাঁড়ালে দেখা যায় উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ আর নিচে সবুজের গালিচা। দৃষ্টি নন্দন এই পাহাড়ে আন্তর্জাতিক মানের রির্সোট নির্মাণ হলে তা এই এলাকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে। যথাযথ পরিকল্পনা করে এই এলাকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে পারলে দেশীয় পর্যটকদের সাথে পাশ্ববর্তী দেশ সমূহ হতে প্রচুর পর্যটক এর আগমন ঘটবে। একই সাথে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের জনগনও এর সুফল ভোগ করবে। তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে আগত পর্যটকদের নিকট বিত্রিু করে লাভবান হবেন। সামগ্রীকভাবে যা আমাদের দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বান্দরবান জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে অত্র জেলার চন্দ্রপাহাড়ে একটি বিশ্বমানের রিসোর্ট নির্মানের জন্য আর এন্ড আর হোল্ডিং লিমিটেড এবং আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের প্রতিনিধি হিসেবে সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড-এর মধ্যে গত ১২ জুন ২০১৬ খ্রিঃ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০.০০ (বিশ) একর তৃতীয় শ্রেণীর জমি পর্যটন কার্যত্রুম গ্রহণ ও পরিচালনার নিমিত্তে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এর অনুকূলে লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ খ্রিঃ চুক্তিবদ্ধ হয়। উক্ত চুক্তিতে বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশহ্লা স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী স্থাপন নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট ভূমি উন্নয়নে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কার্যত্রুম গ্রহণ করা হবে না। পর্যটন শিল্প বিকাশে জনস্বার্থ পরিপন্থী কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ এবং স্থানীয় উপজাতীদের জীবন যাপন ও আচরণ বিঘ্নিত করে, এরূপ কার্যত্রুম চুক্তির আওতাভুক্ত করা হয়নি। পর্যটন শিল্প পরিচালনায় ও ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। বর্তমানে উত্ত স্থানে একটি উন্নতমানের হোটেল নির্মাণের কার্যত্রুম চলমান। পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রকৃতি ঠিক রেখে উন্নত নির্মাণ শলীর আদলে রিসোর্ট তরী করা হবে। উক্ত জায়গাটি একটি তৃতীয় শ্রেনীর জায়গা এবং বসবাসের অযোগ্য। জায়গাটিতে কোন রাস্তাঘাট, পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ তথা কোন নাগরিক সুবিধা নেই। উক্ত এলাকাতে লোক বসবাস করে না। ঐ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপিত হলে পরিবেশের উপর কোন বিরূপ প্রভাব সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে চন্দ্রপাহাড় রিসোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন, প্রয়োজনীয় রাস্তাসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রকল্প এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

পার্বত্য বান্দরবান জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্প বিরোধী কিছুসংখ্যক স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়া অপ্রচার করে আসছে যে, পাবর্ত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান জেলার বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের ডান পার্শ্বে চিম্বুক পাহাড়ের কোলে ৩০২ নং লুলাইং মৌজা এবং ৩০৫ নং সেপ্রত মৌজায় কাপ্রতপাড়া, দোলাপাড়া, এরাপাড়া ও শোং নাম হুংপাড়ায় (যাহা চন্দ্র পাহাড় নামে পরিচিত) অমতত ১০ (দশ) হাজার ম্রো জনগোষ্ঠীর বসবাস। কিন্তু সরেজমিনে পরিলক্ষিত হয় যে, উক্ত চন্দ্র পাহাড় এলাকায় মাত্র ০৪ (চার) টি ম্রো পাড়া রয়েছে। চন্দ্রপাহাড়ের নিকটবর্তী পাড়াগুলোর নাম যথাত্রুমে কাপ্রতপাড়া, দোলাপাড়া, কালাইপাড়া এবং এরাপাড়া। চন্দ্রপাহাড় হতে কাপ্রতপাড়া উত্তর-পশ্চিমে ৩.৫ কিঃমিঃ দূরতত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ৪৮ টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ৩২০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে দোলাপাড়া
১ পূর্ব-দক্ষিণে ২.৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ২০ টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ১২০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে কালাইপাড়া পূর্বে ০৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ৩৭ টিপরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ২৫০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে এরাপাড়া উত্তরে ০৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ১৯টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ১২৭ জন। বর্তমানে উক্ত চন্দ্রপাহাড় এলাকায় সর্বমোট ১২৪ টি পরিবারের এবং ৮১৭ জন ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করছে। যা গুজব রটনাকারীদের প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চট্রগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯, পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১, পার্বত্য শান্তিচুত্তি ১৯৯৭ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে ম্রোসহ অন্যান্য প্রথাগত জনগোষ্ঠীর অধিকার চর্চায় বাধা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ নেই। সরেজমিনে বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং উপরোক্ত দলিলসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, উল্লেখিত এলাকায় কোন জাতী গোষ্ঠীর অধিকার চর্চায় বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। উপরোক্ত উল্লেখিত ২০ (বিশ) একর জায়গা পার্বত্য শান্তি চুক্তি

১৯৯৭ ধারা ৬৪ (ক) মোতাবেক জেলা পরিষদের মাধ্যমে সহানীয় পর্যটন শিল্প উন্নয়নে লিজ নেয়া হয়েছে এবং উক্ত জমিটি তৃতীয় শ্রেণীর হওয়ায়, সেখানে ইতিপূর্বে কোন জনবসতি অথবা খামার ছিল না। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকল্পের বিষয়ে প্রচারিত সকল তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায় যে, ম্রো জনগোষ্ঠী অত্যান্ত নিরীহ ও সহজসরল প্রকৃতির। এপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তথা সেনাবাহিনী পক্ষ হতে কোনরুপ ভয়ভীতি প্রদর্শনের নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে প্রতিবাদগুলো ম্রোদের বলে প্রচার করা হচ্ছে তার সবগুলোই বরং বিভিন্ন কুচক্রী ও স্বার্থন্বেষী মহল কর্তৃক তাদের অসাধু স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ম্রো জনগোষ্ঠীকে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে সংগঠিত করেছে।

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী ম্রোদের কল্যাণে আলীকদম উপজেলায় একটি মুরং হোস্টেল পরিচালনা করছে। এছাড়াও জেলা পরিষদের সহায়তায় বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় একটি ম্রো হোস্টেলসহ বিশেষ স্কুলের কাজ চলমান রয়েছে। আরেকটি তথ্য সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ২০১৫ সালে আত্মসমাপর্ণকৃত মুরং বাহিনীর সদস্যদের পূর্ণবাসন এবং তাদের নামে থাকা বিভিন্ন মামলা হতে অব্যাহতির কার্যত্রুম চলমান রয়েছে।

আরো প্রচার করা হয় হোটেলের প্রয়োজনে ২০ একর জমি নেওয়ার কথা বলা হলেও কার্যতঃ বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সীমানা খুঁটি সহপানের কাজ করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় যে, শুধুমাত্র ২০ (বিশ) একর জায়গার চতুরপার্শ্বে সীমানা খূঁটি স্থাপনের কার্যত্রুম অব্যাহত রয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, ২০ (বিশ) একর জায়গার অতিরিক্ত কোন স্থাপনা বর্তমান প্রকল্পের আওতাধীন নয় এবং ভবিষ্যতেও গ্রহণ করা হবে না। কতিপয় চক্রান্তকারীরা পর্যটন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে এবং মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সাথে বান্দরবান জেলা পরিষদের সম্পাদিত চুত্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উত্ত ২০ (বিশ) একর জায়গা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪০ (চল্লিশ) বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়েছে যেখানে সেনাবাহিনীর নিজেস্ব প্রয়োজনে কোন স্থাপনা নির্মিত হবে না। উপরোক্ত লিজ শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ এর ৬৪ (ক) ধারা মোতাবেক নিয়ম মেনে করা হয়েছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় অধিবাসীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কুচত্রুীমহল পার্বত্য বান্দরবান জেলার উন্নয়নের বিরোধীতা করে অপ্রচার চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

চন্দ্রপাহাড়ে পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ কাজ শুরুরপর থেকেই জেএসএস (মূল), পিসিপি সহ স্বার্থন্বেষী কিছু কুচত্রুী মহলের ইন্ধনে বান্দরবান শহরে তথা প্রকল্প এলাকার আশে পাশে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সমন্বয়ে প্রকল্পের বিপক্ষে নিম্নবর্ণিত সভা ও র্যালীর আয়োজন করা হয়ঃ

গত ০৮ নভেম্বর ২০২০ খ্রিঃ বান্দরবান চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের প্রতিবাদে নীলগিরির কাপ্রতপাড়ায় কিছু সংখ্যক উগ্রপন্থী স্থানীয় উপজাতি জেএসএস (মূল) এর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মানববন্ধন করে।

গত ১৫ নভেম্বর ২০২০ খ্রিঃ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদে বান্দরবান শহরসহ বঙ্গবন্ধু মুত্তমঞ্চ সংলগ্ন সড়কে পিসিপি কর্তৃক একটি মানববন্ধন করা হয়। উত্ত মানববন্ধনে পিসিপি’র আনুমানিক ৩৫-৪০ জন সদস্য উপস্থিত ছিল।

গত ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিঃ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের প্রতিবাদে পিসিপি-এর পৃষ্ঠপোষকতায় থানচি বাজার এলাকায় থানচি উপজেলার তথাকথিত সচেতন ছাত্র সমাজ এর আয়োজনে একটি র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। উত্ত র্যালীতে আনুমানিক ৩০-৩৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিল।

গত ১১ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিঃ জেএসএস (মূল) এর প্ররোচনায় নীলগিরি চিম্বুক রেঞ্জ সংলগ্ন নাইতং পাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে কাপ্রতপাড়ায় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কতিপয় সদস্যদের আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উত্ত সংবাদ সম্মেলনে আনুমানিক ৩০-৩৫ জন ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর যুবক উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়ার কোন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের কতিপয় উশৃংখল যুবক সংবাদ সম্মেলনটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে প্রচার করে।

গত ০৬ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিঃ জেএসএস (মূল) এবং কিছু স্বার্থন্বেষী কুচত্রুী মহলের ইন্ধনে আনুমানিক ৮০-১০০ জন উগ্র উপজাতী ঝাড়ুর ফুল কাটা’কে ইস্যু করে জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ের সেনা পোষ্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আসে। উত্ত সেনা পোষ্টের দায়িত্বরত পোষ্ট কমান্ডার আগত ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জনগণকে পোষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করলে তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক সেনা পোষ্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে ফুলের ঝাড়ু কাটতে থাকে। এক পর্যায়ে উগ্র উপজাতীয় জনগণ পাশে থাকা আরএন্ডআর কোম্পানীর প্রজেক্টের নিরাপত্তারক্ষীদের আত

্রুমন করে আহত করে। পরবর্তীতে মেনচিং ম্রো (মেম্বার, কাপ্রতপাড়া) উত্ত স্থানে এসে উগ্র উপজাতীদের সাথে কথা বলার পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গত ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রিঃ জেএসএস (মূল) এবং পিসিপি এর ইন্ধনে ম্রো জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহনে একটি লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। তারা বান্দরবানের ১৪ কিঃমিঃ পয়েন্ট হতে লং মার্চ করে বান্দরবান শহরসহ রাজার মাঠ পর্যন্ত আসে। রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দ্বিতীয় পত্নী ইয়েন ইয়েন উত্ত লং মার্চে সশরীরে উপস্থিত থেকে ইন্ধন যুগিয়েছেন। ইয়েন ইয়েন-এর সরাসরি তত্তবাবধানে অনেক বহিরাগত ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ উত্ত লং মার্চে উপস্থিত ছিলেন। ইয়েন ইয়েন লং মার্চের খাবার এবং পরিবহণ ভাড়া বাবদ প্রায় ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ টাকা মাত্র) টাকা খরচ করেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উস্কানীমূলক পোষ্ট দিয়ে নিরীহ ম্রো জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস তিনি অব্যাহত রেখেছে।

রিসোর্ট নির্মাণ বিষয়ে চলমান বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষিতে বান্দরবান রিজিয়ন কর্তৃক নিমণবর্ণিত ব্যবসহা গ্রহণ করা হয়ঃ

গত ১৭ নভেম্বর ২০২০ খ্রিঃ অত্র রিজিয়ন এর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে এ বিষয়ে ভুল ধারণা পরিস্কার করার জন্য ম্রো জনগোষ্ঠী ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে বান্দরবান শহরসহ মুত্তমঞ্চ সংলগ্ন সড়কে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ম্রো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং অত্র এলাকার সচেতন জনগণ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের পক্ষে তাদের বত্তব্য উপস্থাপন করেন। উত্ত মানববন্ধনে আনুমানিক ৬০০-৭০০ জন ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিল।

গত ২২ নভেম্বর ২০২০ খ্রিঃ বান্দরবান জেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব ক্যশহ্লা কর্তৃক চন্দ্রপাহাড়ে রির্সোট নির্মাণ বিষয়ের উপর একটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং এ তিনি রিসোর্ট নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে আহ্বান করেন।

বান্দরবানের উজানীপাড়ায় ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিল অফিসে গত ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রিঃ চন্দ্রপাহাড় এলাকার স্থানীয় ম্রো নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উত্ত সভায় রিসোর্ট নির্মাণের বিপক্ষে প্রচারকৃত নানা অপপ্রচার এর ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার জন্য আহবান জানানো হয়।

গত ০৯ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিঃ জীবননগর কাপ্রতপাড়া এলাকায় জোন কমান্ডার রতমা জোন এর নেতৃত্বে রির্সোট নির্মাণ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উত্ত সমন্বয় সভায় ম্রো সম্প্রদায় এর নেতৃত্ব শ্রেণীর ব্যত্তিবর্গসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আর এন্ড আর হোল্ডিং গ্রুপের প্রতিনিধি প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ সিরাজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সভায় সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় ম্রোদের কল্যাণে নিম্নবর্ণিত প্রস্তাবনা দেয়া হয়ঃ

“অত্র এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হবে।”

” ম্রোদের জন্য রির্সোট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে একটি শপিং কমপ্লেক্স তরী করা হবে।”

“শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে চাকুরী দেওয়া হবে।”

“ঝাড়ুর ফুল কাটার সুযোগ দেওয়া হবে।”

“সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাদের সাথে সেনাবাহিনী কাজ করবে।”

“তাদের’কে সাথে রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।”

“যে কোনো প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করা হবে। “

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এটা প্রতীয়মান হয় যে, শুধুমাত্র কিছু অসাধু, স্বার্থান্বেষী চত্রু নিজেদের অনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নৈতিকতা বিবর্জিত এ সকল লোকের কার্যত্রুমের সাথে স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কোন প্রকার সম্পৃত্ততা নেই। সহজ সরল ম্রো জনগোষ্ঠী যাতে অগ্রসর হতে না পারে, চিরদিন যেন ঐ সকল কুচত্রুী মহলের আজ্ঞাবহ হয়ে জীবনযাপন করে এটাই তাদের অপপ্রচার এর মূল উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সহ পাহাড়ী এলাকায় উন্নয়ন ও সম্প্রীতি স্থাপন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তখনই এ অসাধু চত্রু ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে এখনই এদের প্রতিহত করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে দেশের সুশীল সমাজ সহ বান্দরবান জেলার পাহাড়ী বাঙ্গালীসহ সকল শ্রেণীর পেশার মানুষকে। উন্নয়নের স্বার্থে এসকল কুচত্রুী মহলকে জাতীয় ভাবে বর্জন করা এখন সময়ের দাবি।

মতামত

x