Home / ব্লগার / এক বাঙ্গালি আরেক বাঙ্গালির পেছনে আটার মত লেগে থাকা অত্যান্ত বেদনাদায়ক!!!

এক বাঙ্গালি আরেক বাঙ্গালির পেছনে আটার মত লেগে থাকা অত্যান্ত বেদনাদায়ক!!!

আপনি পাহাড়ের বাঙ্গালি তাই ইউপিডিএফ-জেএসএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের লেখার বিরুদ্ধোতা করেন। রাষ্ট্র ও জনপদের পথ সুগম করার লেখাকে ঘৃণার চোখে দেখে সুশীল ভাব ধরেন! আবার, আমাদের ঘৃণার চোখে দেখেন। একটিবারও জাতির কথা ভাবেন না। আপনার উদাসীনতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সারাজীবন উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের পা চেটে যাবে… সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাঙ্গালি কোনদিন পাবে না। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসনে যোগ্য শুধু উপজাতিরা। তিনটি আসন বাঙ্গালি পাবে না। এখন থেকে পরবর্তীতে যারা খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান নেতৃত্ব দিবে সবাই উপজাতি সন্ত্রাসীদের মনোনীত এজেন্টই আসবে মনে রাখুন। তিন পার্বত্য জেলায় একজন সংরক্ষিত নারী এমপি সহ ৪ জন এমপি উপজাতি! এ খবরাখবর কি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনি রাখেন? পাহাড়ে কতজন উপজাতি জনপ্রতিনিধি আছে আর তার বিপরীতে কতজন বাংগালী জন প্রতিনিধি আছে তা কি জানেন? জনসংখ্যার পরিসংখ্যানে এখন উপজাতি-বাঙ্গালি প্রায়ই সমপরিমাণ। পড়াশোনা, চাকরি, রাজনৈতিক পদ-পদবী ক্ষমতা বলে উপজাতীয়দের তুলনায় বাংগালীরা অনেকাংশেই পিছিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ধারে কাছেও পৌছানো সম্ভব না। আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে বাঙ্গালিদের উদাসীনতা আর রাজার হালে রাজ্যবিহীন চলাফেরার নির্মম পরিহাস দেখে। পার্বত্যাঞ্চলের সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক সহ সরকারি প্রতিটি দপ্তরে ৯৫% চাকরিজীবী, চাকমা-মারমা ও ত্রিপুরা। ডিসি অফিসে গেলে চাকমাদের হাতে বাঙ্গালিরা কতটা বৈষম্য ও অপদস্তের শিকার হতে হয় তা কি আপনি জানেন? পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে দিনদিন তা আপনার অনুভব হয় না! আপনি পার্বত্য বাঙ্গালি সারাজীবন সন্ত্রাসীদের এজেন্টদের দালালি আর পদলেহন করে যাবেন। কখনো রাজনৈতিক দলগুলোর বড় পদে ক্ষমতার আসনে থাকবেন না। মাঠে ময়দানে কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও হানাহানি করে মামলা-হামলা আপনার মত বাঙ্গালিরাই খাবে। আর বড় বড় পদ-পদবী গুলো উপজাতি সন্ত্রাসীদের প্রতিনিধি গুলো নিয়ে যাবে! একটা মিছিল মিটিংয়ে উপজাতি কয়জন কর্মী-সমর্থক আগমণ করে?আর বাঙ্গালি কতজন আগমণ করে তা কি পার্বত্য বাঙ্গালি হিসেবে অনুভব করেন না! অনুভব করবেন বা কিভাবে? কারন আপনাদের মত কিছু লোক জাতির শ্রেষ্ঠ বেইমান এবং মীরজাফরদের উত্তরসূরী। পার্বত্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা লিখলে আমাদের লেখায় সুশীল ভাব ধরে এড়িয়ে যান। গোঁড়ামি করেন! সেনাবাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসীরা মিথ্যা বানোয়াট প্রোপাগান্ডা রটিয়ে দিলেও মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন! আর আমরা যারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করি তাদের নাম ঠিকানা সন্ত্রাসীদের হাতে দিয়ে আসেন একটু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য। দাদা বাবুদের মনের গহীনে উঁকি দেওয়ার জন্য তো অনেক কিছুই করেন।

আরেকটি দুঃখের বিষয় যে, কিছু অসাধু কতিপয় সরকারী কর্মকর্তা নিজেকেই সবসময় জাহির করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। পার্বত্য বাঙ্গালি ও লেখকদের সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান-ধারণা নেই সেও বাঙ্গালির ভবিষ্যত নির্ধারিত করার কর্ণাধার!!! আমাদের লেখকদের ইতিহাস সে একনিমিষেই শেষ করে দিতে চায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কতটা ঝুঁকি নিয়ে একজন লেখক লিখেন তা ৩/৪ বছর চাকরি করতে এসে অনুধাবন করা অসম্ভব।

একজন বাঙ্গালি হয়ে আরেকজন বাঙ্গালির পেছনে আটার মত লেগে থাকা নিকৃষ্ট মানুষের কাজ। চাটুকারিতা আর পদ-পদবীও ক্ষমতার মোহে এক বাঙ্গালি আরেক বাঙ্গালির প্রতিপক্ষ হয়ে জলন্ত অগ্নিশিখার মতো আবির্ভাব হয়! অথচ সমতল ভূমির বাঙ্গালিরা আমাদের প্রতিটি লেখায় সমর্থন দিয়ে করার চেষ্টা করে। তাছাড়া পার্বত্যাঞ্চলের উপজাতি ব্যতিত বাকি জনগোষ্ঠীকে অউপজাতি হিসেবে পার্বত্য চুক্তিতে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে আপনি জাতি হিসেবে এখন আর বাঙ্গালি না। পার্বত্য বাসিন্দা হিসেবে আপনি অউপজাতি! তবুও আপনার হুঁশ হবে না। লজ্জা আত্মসম্মানবোধ তো অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছেন। দয়া করে একটি সম্প্রদায়ের নিকট নিজে ভালো হয়ে থাকার জন্য সমগ্র জাতিকে খাটো করবেন-না কেউ প্লিজ। এখনো সময় আছে উপজাতীয় কতিপয় নেতাদের পদলেহন ছেড়ে সঠিক পথে ফিরে আসার। উপজাতিদের প্রতি ভালোবাসা মায়ামমতা আমাদেরও আছে৷ তাই বলে জাতির স্বার্থ বির্সজন দিয়ে নয়। আমাদেরও অনেক উপজাতি বন্ধুবান্ধব রয়েছে তারা অত্যান্ত ভালো। সব উপজাতি খারাপ নয়, যারা সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসীদের এজেন্ট হয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দল গুলোর পদ-পদবী দখল করে বাঙ্গালিকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে শুধু তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লেখা গুলো। সাংবিধানিক অধিকার হারা পার্বত্য বাঙ্গালিদের জন্য আমাদের লেখা চলমান থাকবে। অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ ও দেশদ্রোহী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম চলবে অবিরত ধাঁচে।

লেখক আদিল মাহমুদ, বান্দরবান রুমা।

মতামত

x