পলাশ বড়ুয়া, রাঙামাটি

পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া গ্রামে জোর পূর্বক ধর্ষন চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে উপজাতি মারমা এক গৃহবধূকে দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে গৃহবধূর মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় একই এলাকার উপজাতি মারমা কতিপয় যুবক থুইমং মারমা। সে বিবাহিত। সে ডাকবাংলো পাড়া এলাকার রেগ্গা মারমার ছেলে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। (রবিবার) ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয়রা। পরে আহত গৃহবধূর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান মিশনারী হাসপাতালে পাঠায়, অবস্থার অবনতি হওয়ার দ্রুত গৃহবধূরকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। দাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা ও গলায় মারাত্মক জখম হয়। রাজস্থলী থানার ওসি ইকবাল বাহার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা অভিযুক্তকে আটকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি চিকিৎসার জন্য আহতকে চট্টগ্রাম রেফার্ড করা হয়েছে৷ মামলারও প্রস্তুতি চলছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যেসমস্ত তথাকথিত আঞ্চলিক সংগঠন গুলো কাজ করে তারা এখানে বাঙালি কর্তৃক কোনো উপজাতি নারী ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ঘটনা ঘটলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ করে থাকে, এবং গণমাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে মারাত্মক অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। অথচ উপজাতি কর্তৃক কোন উপজাতি নারী ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ধর্ষিত হলে তখন তারা রহস্যজনক ভাবে নিশ্চুপ থাকে৷ সাম্প্রতিক উপজাতি কর্তৃক চারটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তার একটি নিয়েও তারা প্রতিবাদ করেনি! বিষয় খুবই দুঃখজনক। পার্বত্য চট্টগ্রামে যত দোষ নন্দ ঘোষ।

এদেশের তথাকথিত নারীবাদী, সুশীল, প্রগতিশীল, রাম-বাম ও বিশিষ্টজনরা এখন কোথায়? তারা এখন নীরব কেন? নাকি তারা শুধু বাঙালির দোষগুণ নিয়ে প্রতিবাদী?

বিবাহিত পুরুষ হয়েও অন্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এভাবেই কুপিয়ে জখম করা সভ্য সমাজের মানুষের কাজ হতে পারেনা। অথচ এই উপজাতিদের নিয়ে আবার কিছু চাটুকার গর্ব করে বলে এদেশে উপজাতিদের মধ্যে ধর্ষণ নামক প্রতিশব্দ নেই। উপজাতিদের মধ্যে ধর্ষণ ঘটে না! আর এই সংবাদটি প্রথম আলো পত্রিকা ফলাও করে প্রকাশ করে। সুযোগ সন্ধানীরা সংবাটি গর্ব করে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখে বাঙালিরা ধর্ষক, এবং মানুষ হিসেবে নিকৃষ্ট!

এখন আমার প্রশ্ন যারা এতোদিন বাঙালিকে নিয়ে ঘৃণিত মনোভাব দেখিয়েছেন, আজ তাদের প্রতিক্রিয়া কী? তাদের স্বজাতি কর্তৃক যে, একের পর এক ধর্ষণের মতো ঘৃণিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তা নিয়ে তাদের পদক্ষেপ কী? এবং গৃহবধূর উপর যে হামলা হয়েছে তা নিয়ে তারা কতটুকই লজ্জিত?

আমার এই প্রশ্নের জবাবে কিছু উপজাতি উগ্রবাদী বলবে, বাঙালি থেকে ধর্ষণ শিখে উপজাতিরা ধর্ষণ করছে। তারা যে বাঙালি থেকে শিক্ষা -দীক্ষা, জীবনযাপন শিখে নিজেদের আধুনিক করেছে সেটা তারা স্বীকার করবে না। বাঙালি তাদের জীবনমান পরিবর্তন করে তাদের সভ্য জাতিতে পরিণত করেছে। তাদের নিত্যদিনে সকল চাহিদা বাঙালির কারণে কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে। এই অবদান তারা অস্বীকার করে। সরকারি, বেসরকারি চাকরি ও কর্মস্থল সবকিছু বাঙালির সৃষ্টি। বাঙালি এ রাস্ট্রের বৃহৎ জনগোষ্ঠী। বাঙালিকে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। আমার প্রশ্ন তারা বাঙালি থেকে কেন খারাপটা শিখলো? তাদের দাবি বাঙালি খাটো, নিচু ও সংকর জাতি। আর তারা উন্নত জাতি। উন্নত জাতি কেন বাঙালির মতো খাটো, নিচু ও সংকর জাতি থেকে শিখবে???

উপজাতি সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে উগ্রবাদীদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে। কারণ এরা উপজাতি বাঙালির মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে নিতে তৎপর। এদের চিহ্নিত করতে হবে বেশ করে যারা উপজাতি বাঙালি ভেদাভেদ করে তাদের। পার্বত্য চট্টগ্রাম নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, এখানে উপজাতি বাঙালি সবাই বাংলাদেশী। সবাই জেনো সহাবস্থানে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে সচেতন ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে।

By admin

মতামত

x