Home / অপরাধ / অযৌক্তিক দাবি ও অসাংবিধানিক আদিবাসী শব্দ ব্যবহার! এ বিষয়েই কিছু কথা না বললে নয়।

অযৌক্তিক দাবি ও অসাংবিধানিক আদিবাসী শব্দ ব্যবহার! এ বিষয়েই কিছু কথা না বললে নয়।

নিজেস্ব প্রতিনিধি– জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের
অন লাইন আলোচনা সভা।

#Ipnews নামের একটি তথাকথিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে অদ্য ০৮-০৫-২০২১ খ্রিঃ সকাল এগারোটা হতে আদিবাসী বিষয়ক বিতর্কিত সংসদীয় ককাসের নেতৃত্বে একটি অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় যোগদান করা প্রতিটি ব্যক্তি, বর্গ নিঃসন্দেহে বিতর্কিত। এবং বরাবরই বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর উস্কানিমূলক মতামত ও কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি প্রতিকূলের দিকে ধাবিত করেছে। আজকেও তারা যেসমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, এক কথায় পূর্বেকার ন্যায়।

যেখানে বাংলাদেশ সংবিধান এদের উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে এই জ্ঞানপাপী গুলো ভাগবাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্য উপজাতিকে আদিবাসী বলে সংবিধান লঙ্ঘন করে আসছে। আর যেসমস্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করার কথা বা আইনি লড়াই করার কথা তারাও রহস্যজনক ভাবেই নীরব!
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও উপজাতি। কিন্তু এ তথাকথিত মহলটি বরাবরই এদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কিংবা উপজাতি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে উল্লেখ করে সংবিধান ও রাস্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আরো দাবি করে আসছে সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী স্বীকৃতির। আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না!
১৯৯৭ সালের ২-রা ডিসেম্বর যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) ও সরকার মধ্যকার পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হয়, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীকে উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ খোদ উপজাতি নেতা সন্তু লারমা নিজেদের উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করে চুক্তি সম্পাদিত করে। আজকে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়!
দুঃখজনক, এ ষড়যন্ত্রকারী মহলটি অসৎ উদ্দেশ্যে, এবং বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আদিবাসী বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে। অসাংবিধানিকভাবে গঠন হয়েছে “আদিবাসী সংসদীয় ককাস।”  যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই৷ খামখেয়ালিভাবে, এবং নিজেদের খেয়াল খুশি মত আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করে আসছে এই বিতর্কিত অসাংবিধানিক সংগঠনটি।

অন্যদিকে সরকার, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বারবার আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলে আসছে যে, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এবং উপজাতি জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে না বলার জন্য। সরকারি আমলা, গণমাধ্যম, টকশো, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ সর্বমহলকে আদিবাসী শব্দ পরিহার করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করে।”
অথচ আজ এই সরকারেরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আদিবাসী বাজেট বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করা রাস্ট্র ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার শামিল।

আজ এই বিতর্কিত আদিবাসী সংসদীয় ককাস দাবি করছে তথাকথিত আদিবাসীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার। ভবিষ্যতে দাবি করবে এই তথাকথিত আদিবাসীদের জন্য আলাদা রাস্ট্র গঠনও! এরাই বাংলাদেশকে ভেঙে খানখান করবে। এই কথা শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই, সেদিন আর বেশি দেরি দূরে নয়। আদিবাসী সংসদীয় ককাস, এদেশের ষড়যন্ত্রকারী মহল ও উপজাতি সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র সে বহু আগ থেকে করে আসছে। তা বাস্তবায়ন করার জন্য অবৈধ অস্ত্র হাতে নিয়েছে, এবং কূটনীতিক জোরদার করে কাজও করছে।

ভাবতে অবাক লাগে, সরকার ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে, এবং একতরফাভাবে ৭২টি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরেও আবার তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ চায়! এরা কেমন মানুষ? এদের এসমস্ত দাবিদাওয়া এদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ নয় কি? রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জান্নাতি ফেরদৌস, মেজবাহ কামাল, রানা দাশ গুপ্ত ও আরেমা গুপ্তদের কার্যকলাপ ইতোমধ্যে কমবেশি সকলেই অবগত। এরা যা করছে তা রাস্ট্রের জন্য নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনী নিয়ে এরা বহু আগ থেকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে আসছে। পাহাড় থেকে বাঙালী ও সেনাবাহিনী সরাতে এদের তৎপরতা পূর্বেকার মত বিদ্যমান। এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না৷

আজকের আলোচনা সম্পর্কে যদি বলি, তাহলে বলতে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী এখন এখন কোনভাবেই পিছিয়ে পড়া নয়। তারা বর্তমানে চালকের আসনে অবতীর্ণ।
উপজাতিদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যাক-
১. তিন পার্বত্য জেলার তিন জন সংসদ সদস্য (এমপি) উপজাতি।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উপজাতি।
৩. তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজাতি।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান উপজাতি৷
৫. পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিটি সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব উপজাতিদের আধিপত্য।
৬. উপজাতি কোটার মাধ্যমে ৯৬% সরকারি চাকরি, শিক্ষা-দীক্ষা সহ সবধরনের সুযোগ-সুবিধা উপজাতিরা পেয়ে আসছে।
৭. পার্বত্য ভূমি কমিশনের সঙ্গে যুক্ত সবাই উপজাতি।
৮. এ অঞ্চলে নিয়োজিত হেডম্যান, কার্বারীরাও উপজাতি।
তারপরেও আবার বরাদ্দ চাওয়া, এবং পিছিয়ে পড়া বলা এটা উদ্দেশ্যে প্রণোদীত ছাড়া অন্য কিছু নয়।  আজকে এই অনলাইন মিটিং-এ যারা উপস্থিত হয়েছেন, এরা সবাই বিতর্কিত ব্যক্তি। এরা রাস্ট্র বিরোধী অপশক্তি৷ বিভিন্ন সময় রাস্ট্র নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সবাই এদের চিহ্নিত করে বর্জন করুন।

মতামত

x