Home / খাগড়াছড়ি / অন্তরালে রয়ে গেলো খাগড়াছড়ি রামগড় পাতাছড়া গণহত্যার ইতিহাস।

অন্তরালে রয়ে গেলো খাগড়াছড়ি রামগড় পাতাছড়া গণহত্যার ইতিহাস।

জিহান মোবারক খাগড়াছড়ি।

পার্বত্য ইতিহাসে তথাকথিত শান্তিবাহিনী পাতাছড়ায় কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত করে। ১৯৮৬ সালের ১৩’ই জুলাই (মঙ্গলবার) পাতাছড়া গণহত্যা সংঘঠিত হয়। এই দিনে সংঘটিত গণহত্যায় নারী,শিশুসহ ৭ নিরীহ বাঙ্গালীকে গুলি করে, এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) লারমার শান্তিবাহিনী।

এই ঘটনার ঠিক ১দিন পর ১৪’ ই জুলাই সিলেট থেকে বেড়াতে আসা মোঃ সাত্তার (৩৫) কে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সে লাশ পচে গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার পর জানাজানি হয়।

এর ১ মাস পর ১৩’ই আগস্ট আবারো তথাকথিত শান্তিবাহিনী এই গ্রামটিতে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে। এই গণহত্যায় শফি উল্লাহ (৪৬) পিতা আব্দুল করিম নামে একজনকে হাত-পা ভেঙে পিলাক নদীর ওপারে নিয়ে যায়, এরপর থেকে আজ পর্যন্ত লাশ পাওয়া যায়নি৷

পাতাছড়া গণহত্যায় ঠিক কতজন বাঙালিকে হত্যা করেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যানটি পাওয়া যায়নি। কারণ তৎকালীন গণহত্যার শিকার অনেক বাঙালি পরিবার প্রানের ভয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিলেন সমতলে। যায় কারণে অনেক বাঙালি গণহত্যার শিকার হলেও তাদের পরিসংখ্যান ও নাম উঠে আসেনি।

পার্বত্য ইতিহাসে স্থান পায়নি পাতাছড়া গণহত্যাটি। অন্তরালে রয়ে যায় তথাকথিত গণমাধ্যমের নীরবতার কারণে, এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায়।

আজও স্বজন হারা পরিবার গুলো বিচার চেয়ে অপেক্ষার পহর গুনছে। এই গণহত্যার ৩৫ টি বছর অতিক্রম করলেও রাস্ট্র-প্রশাসনের বিবেকে নাড়া দেয়নি! বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। তথাকথিত শান্তিবাহিনীর প্রধান সন্তু লারমা ও তার বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে দাপটে।

মতামত

x