তাপস কুমার পাল, রাঙামাটি

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিক্তিতে সেনাক্যাম্প না বসালে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

লংগদু উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস অনেক আগ থেকেই সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।
সন্ত্রাসীরা তাদের কার্মকাণ্ডে অনেকবার সফলও হয়েছে।
লংগদু উপজেলায় জেএসএস সন্ত্রাসীদের সফল অভিযান গুলোর অন্যতম হচ্ছে ১৯৯৭ সালের ৯ ই সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালীতে ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা।
১৯৮৯ সালের ৪ ই মে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জনাবা আব্দুর রশিদ সরকারে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করা।

২০১৭ সালের ১লা জুন লংগদু ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নয়নকে হত্যা করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির লক্ষ্যে নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করে নিজেদের শক্তি জানান দেয়ার পাশাপাশি স্বার্থ হাসিল করা।

নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানতে পেরেছি লংগদু উপজেলার বর্তমান জেএসএসের সভাপতি মনি শঙ্কর চাকমা লংগদু উপজেলাকে নরকে পরিনত করার মাষ্টারপ্ল্যান করেছে। বর্তমানে মনি শঙ্কর চাকমা কয়েক মামলার আসামি হয়ে তার দলবল নিয়ে ভারতের মিজোরামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণ শেষেই বড় ধরনের অঘটন ঘটাবে বলে আশঙ্কা করছে সাধারণ জনগন।
লংগদু উপজেলায় মনি শঙ্কর চাকমাকে বুদ্ধি দিয়ে আইনগত সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা, এবং লংগদু ইউপি চেয়ারম্যান।
মনি শঙ্কর চাকমার বিশ্বস্ত সহচর গুলোর অন্যতম হচ্ছে (চাইল্যাতলি) বিন্দুময় হেডম্যান, জ্ঞানজ্যোতি চাকমা, কালা চুক্কা চাকমা, শান্তি কার্বারী, বিমুল কার্বারী ও বিনয় কার্বারী ইত্যাদি।

লংগদুতে জেএসএসের সন্ত্রাসী কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হয়, লংগদু সদরের কাঁঠালতলা, করল্যাছড়ি এবং ভাসান্যাদম এলাকায়।
সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হলো কাঁঠালতলা এবং ভাসান্যাদমের চাইল্যাতলি এলাকায়।
অস্ত্র রাখার স্থানগুলো হচ্ছে কাঁঠালতলা বৌদ্ধ বিহার, করল্যাছড়ি আর্যগিরি বনবিহার, আটারক ছড়া অরন্য কুটির ইত্যাদি।

মনি শঙ্কর চাকমা এবং তার বাহিনী বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর আগে কয়েকটি ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে তাদের রাস্তা পরিষ্কার করতেছে।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় গত ৩ ই আগষ্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দে চাইল্যাতলিতে বন থেকে বাঁশ কাটার অভিযোগে তিনজন বাঙালিকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছে মনি শঙ্কর বাহিনী। ভিকটিমরা যথাক্রমে- মো. ফয়েজ উদ্দীন, মো. নুরুন্নবী (সুজন) ও মো. শওকত।

ভুক্তভোগী মানুষগুলো বিচারের জন্য থানায় বারবার ঘুরে ঘুরে মামলা করতে চাইলেও মামলা নিচ্ছেনা লংগদু থানার ওসি। থানার ওসি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া খুবি দুঃখজনক।
ভিক্টিমপরিবারগুলো একদিকে সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে শারীরিক নির্যাতনে কাতরাচ্ছে
অন্যদিকে পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা না পেয়ে মানুষিকভাবে ভেঙে পড়ছে।
এ অবস্থা চলমান থাকলে উপজাতি সন্ত্রাসীদের দেশদ্রোহী সব ভয়ঙ্কর কার্মকাণ্ড নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নেমে আসবে শুন্যের কোটায়।
এমতাবস্থায় জননিরাপত্তার স্বার্থে লংগদুর উপজেলায় অতিশীঘ্রই তিনটি সেনা ক্যাম্প বসানো খুবই জরুরী।
কারণ, সেনাবাহিনীই পারবে সন্ত্রাস দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে।

যেখানে অতিশীঘ্রই সেনা ক্যাম্প প্রয়োজনঃ
১. সদর উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকায়।
২. চাইল্যাতলি এলাকায়
৩. ডাঙ্গাবাজার এলাকায়।

By admin

মতামত

x