২৬) ৬৪ নম্বর ধারা সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই ধারাটি প্রণয়ন করা হইবে :

(ক) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ কোন জায়গা-জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইজারা প্রদানসহ বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করা যাইবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (Reserved বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(খ) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সাথে আলোচনা ও ইহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।

(গ) পরিষদ হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।

(ঘ) কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাষা (Fringe Land) জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া হইবে।

বর্ণিত তথাকথিত পার্বত্য চুক্তি নিঃসন্দেহে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী, এবং রাস্ট্রের ভূমি অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশে সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের সমান অধিকার। এবং দেশের সর্বত্র একই আইন বিরাজমান থাকার কথা। ভূমি অধিকার নিয়েও তাই বলা হয়েছে সংবিধানে। অথচ ১৯৯৭ সালের তথাকথিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জমি ইজারা প্রদানসহ পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মতি ব্যতিরেকে বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করতে পারবে না সরকার। সব জমি নিয়ন্ত্রণ করবে উপজাতি জেলা পরিষদ। যা দেশের অন্য কোথাও নেই। এমন বৈষম্যমূলক অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির বিধিমালা এ অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। রাস্ট্র যদি রাস্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং জনসাধারণের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করতে না পারে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাস্ট্রীয় সংবিধান অক্ষুন্ন থাকলো কিভাবে?

By admin

মতামত

x