||পারভেজ মারুফ, বান্দরবান||

Jumma Sudipta নামক পরিচয় বিহীন ফেসবুক একাউন্ট হতে গত ২৪ আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি অপার সম্ভাবনায় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে! যা বিশ্বাসঘাতকতা ও রাস্ট্রদ্রোহীতার শামিল।

প্রথমে বলে রাখি একটি জাতির অধিকার ও দাবিদাওয়ার বিষয় উত্থাপন কেউ নাম পরিচয় গোপন রেখে করেন না। এখানে Jumma Sudipta নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে কাপুরুষের পরিচয় দিয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যে বেনামে একাউন্ট খুলে ফেসবুক নীতিমালা লঙ্ঘন করে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার প্রচেষ্ঠা করছে। যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং সন্ত্রাসবাদ জিইয়ে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিরতা করার অপকৌশল মাত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক জাতিসংঘে প্রেরিত চিঠির অভিযোগের ‘সত্য মিথ্যা’ যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায় পাঠকের জ্ঞাতার্থে প্রকৃত বাস্তবতা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরছি নিম্নে…

1) পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (PCJSS)-এর সন্ত্রাসীরা জাতিসংঘে প্রেরিত চিঠিতে প্রথম অভিযোগে বলেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর শাসন চলছে, এবং অপারেশন উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।” এই অভিযোগের প্রকৃত বাস্তবতা ও সত্য মিথ্যা হচ্ছে- পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছুসংখ্যক সেনাবাহিনী রয়েছে এবং 1997 সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে।1997 সালের পার্বত্য চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করে PCJSS এখনো অবৈধ অস্ত্র নিয়ে সক্রিয় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি করার পাশাপাশি একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ছে৷ এতে পাহাড়ে হানাহানি, ভেদাভেদ, হিংস ও প্রতিহিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ 2001 সালে এই উপজাতি সন্ত্রাসীরাই তিন বিদেশী নাগরিককে অপহরণ করে 3 কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছিল। এটা কারোই অজানা থাকার কথা নয়। এসব বন্ধের জন্য সেনাবাহিনীরা পুলিশ সমন্বয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।
আরোকটি তথ্য হলো- পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র উপজাতি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ত্যাগ শিকার করে আসছে মানবসেবার অংশ হিসেবে। সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে চাঁদাবাজি ও ভাগবাটোয়ারা করতে ব্যর্থ হয়, যার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ করছে।

2) সন্ত্রাসীদের দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে- “পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ও বাঙ্গালীদের প্রত্যাহার করতে হবে!” এই অভিযোগ করার অধিকার নেই সন্ত্রাসীদের। কারণ তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি পুত্র নয়, এমনকি এ অঞ্চলের তাদের বসবাসের ইতিহাস খুবি নগন্য। তারা ভিনদেশী দখলদার। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক ও বাহিনী কোথায় বসবাস করবে বা থাকবে সেটা তাদের নিজেস্ব এখতিয়ার। এ বিষয়ে কথা বলার বা অভিযোগ করার অধিকার তাদের নেই৷ সুতরাং দেশের জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলা অনাধিকার চর্চা।

3) তাদের তৃতীয় অভিযোগ হচ্ছে- “সরকার ১৯৯৭ সালে PCJSS -এর সঙ্গে সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তি একটুও বাস্তবায়ন করছেন না!” নিসন্দেহে বলা যায়, এই অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট উদ্দেশ্যেপ্রণোদীত। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়নে PCJSS সরকারকে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেনি। এমনকি চুক্তি লঙ্ঘন করে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন করার জন্য একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২৩৯ টি সেনাক্যাম্প ব্যারাকে ফেরত এনেছে। বাকী অবশিষ্ট ৪ টি সেনা বিগ্রেড পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাহাড়ে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে৷
একটি উদাহরণ দিয়ে রাখি- বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় যেমন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, যশোর, সিলেট, নোয়াখালী ও কক্সবাজার যদি সেনাবাহিনী থাকতে পারে তাহলে কেন সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) থাকতে পারবে না? দেশের অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে অবশ্যই থাকা বাঞ্ছনীয়। সরকার পার্বত্য চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়িত করেছেন, ১২ টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন করেছেন, অবশিষ্ট ১২ টি ধারা বাস্তবায়ন প্রতিক্রিয়াধীন। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে বিধায়ী সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা ভোগ করে আসছেন। তিন পার্বত্য জেলার তিনটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজাতি সম্প্রদায় হতে৷ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান উপজাতি হতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উপজাতি। তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত নারী এমপি সহ মোট ৪ জন এমপি উপজাতি হতে। সরকারি চাকরিতে এ অঞ্চলে ৯৫% উপজাতি হতে। ধর্মীও বরাদ্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের জন্য এদেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী চেয়ে অধিক হারে বেশি। এবং রাস্ট্রীয় অধিককাংশ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি উপজাতি কোটায় আজকে তারা অধিক উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে। তাদের অতীত ইতিহাস মোটেও উজ্জ্বল নয়। তারা ছিল একটি যাযাবর জাতি। কোন দেশ তাদের আশ্রয় দেয়নি। প্রতিবেশি রাস্ট্র বার্মা ও ইন্ডিয়া হতে যুদ্ধে বিতাড়িত হয়ে তারা বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৭৩০ সালের পরবর্তী সময় আশ্রয় গ্রহণ করেন৷
বাংলাদেশ সরকার তাদের এদেশে নাগরিকত্ব দিয়েছে, জীবনমান উন্নয়নের জন্য সর্বদিক দিয়ে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। ৯৫% সরকারী চাকরিতে তারা।
৯৫% সরকারি অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকে তারা। বিভিন্ন দপ্তরে কোটায় সুযোগ পেয়ে আজকে সুবিধাজনক অবস্থানে। বাংলাদেশ সরকার ও বাঙ্গালীরা অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্বার প্রতি অতি সহনশীল৷ যার কারণে অভিবাসী ও ভিনদেশী হওয়ার স্বত্তেও এদেশে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তারা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় বহন করবে। এসমস্ত অকৃতজ্ঞ আচরণের প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী রাস্ট্র বার্মা ও ইন্ডিয়াতে তাদের নাজুক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।
তারা ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলেন- “সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না করে এক্ষেত্রে তারা যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে!” বাস্তবিক অর্থে এটি তাদের অতি বাড়াবাড়ি, এবং দুঃসাহস দেখানোর দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদ ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে৷ যখন দেশের মানচিত্রে আঘাত আসবে তখন বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দিবে না। বাংলাদেশ সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে দেশের মাটির দ্বিখণ্ডিত করার দুঃসাহস দেখানোর পরিণতি কোনভাবেই মঙ্গলজনক হবে না। সুতরাং সাধু সাবধান।

4) জাতিসংঘে চিঠিতে তারা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করেছে! এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। এই বিষয়ে কিছু প্রকৃত সত্য তুলে ধরা উচিত বলে মনে করি-
উপজাতি পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫০ বছর, এবং তার থেকে কম সময় ধরে বসবাস করে সংবিধানে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তোলে। কি আশ্চর্য্য ব্যাপার৷ দুঃখজনক তারা এমন পরিচয়ও বহন করে। এটা সত্যি হাস্যকর ও লজ্জাজনকও বটে। অথচ তারা এদেশের আদিবাসী নয়। তারা অভিবাসী, তারা বার্মার Chompok Nogor হতে এদেশে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয়িত হয়েছেন৷
২০০৭ সালের জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে- আদিবাসী হতে হলে সর্বপ্রথম তাকে ভূমি পুত্র হতে হবে। এবং উক্ত স্থানে কমপক্ষে এক হাজার থেকে দেড় হাজারের বেশি সময় বসবাসের ইতিহাস থাকতে হবে। এমনকি তাদের বর্তমান সভ্যতার সমাজের সংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে নিজ আদি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করতে হবে। নিজেস্ব হাজারের উপর ভাষা থাকতে হবে। কিন্তু আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের অধিকাংশ এদেশের বৃহৎ গোষ্ঠী বাঙ্গালীর মাতৃভাষা কথা বলে। যা অবাক করা তথ্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি উপজাতির মধ্যে মাত্র ৩টি উপজাতির নিজেস্ব ভাষা রয়েছে, কিন্তু তাও আবার বাঙ্গালীর ভাষার সঙ্গে সংমিশ্রিত! অথচ জাতিসংঘে প্রেরিত চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছে তাদের ১০টি ভাষা রয়েছে৷ এটা অত্যান্ত দুঃখজনক যে, তারা মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়েছে৷ তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠী হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। তারা 2007 সালের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের অপব্যাখা দিয়ে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির নোংরা প্রচেষ্ঠা করছে।

5) পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনী কর্তৃক ২১ টি গণহত্যা চালিয়ে উপজাতিদের নিধন করার যে, অভিযোগ’টি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, গুজব, মনগড়া ও কাল্পনিক গল্পকাহিনী প্রচারই মাত্র। এমন মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের দারস্থ হয়েছে PCJSS নামক Shontho Larmar সন্ত্রাসীরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন কালে উপজাতি জনগোষ্ঠীর উপর বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যা কিংবা ধর্ষণ সংঘটিত হয়নি৷ এমনকি কোনপ্রকার সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন কিংবা হত্যা, ধর্ষণ চালানো হয়নি। বরং বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা নিজ দেশের ভূখন্ডে বসতিস্থাপন কালে Shontho Larma PCJSS সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালীদের উপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট সংঘটিত করেন। চিঠিতে প্রেরিত গণহত্যা গুলোর ইতিহাস সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং বর্ণিত তারিখে গণহত্যা গুলো বাঙ্গালীর উপর পরিচালিত করেছে সন্তু Shontho Larmar PCJSS কর্তৃক। তারা বাঙ্গালীর উপর গণহত্যা পরিচালনা করে আবার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তা বাঙ্গালী কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিচ্ছে।

উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘঠিত বাঙালি গণহত্যা গুলোর ইতিহাস…

1) লংগদু গণহত্যা, 19 শে ডিসেম্বর 1979 ইং বা খ্রিস্টাব্দে।

2) কাউখালী গণহত্যা 25 শে মার্চ 1980 ইং, এসময় 1 হাজার বাঙ্গালী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

3) নানিয়ারচর বেতছড়ি গণহত্যা 15 ই সেপ্টেম্বর 1980 ইং

4) বানরাইবারী, বেলতলী, বেলছড়ি গণহত্যা, 26 জুন 1981 ইং

5) তাইন্দং, আচালং, গৌরাঙ্গ পাড়া, দেওয়ান বাজার, তবলছড়ি, বর্ণাল, গণহত্যা রামছিরা, গোমতি গণহত্যা, 19 সেপ্টেম্বর 1981 ইং

6) গোলকপতিমা ছড়া, মাইচ্যেছড়া, তারাবনছড়ি গণহত্যা,26 জুন; 1983 ইং

7) বরকল ভূষণছড়া গণহত্যা, 31 মে 1984 ইং

8) পানছড়ি গণহত্যা, 29 এপ্রিল 1986 ইং

9) দিঘীনালা গণহত্যা, 29 এপ্রিল 1986

10) মাটিরাংগা গণহত্যা, 29 এপ্রিল 1986 ইং

11) কুমিল্লাটিলা, শুকনাছড়ি, দেওয়ান বাজার, সিংহপাড়া, তাইন্দং গণহত্যা 18 মে 1986 ইং

12) দিঘীনালা গণহত্যা, 2 জুলাই 1986

13) ভাইবোন ছাড়া গণহত্যা, 23 ফেব্রয়ারি 1986 ইং

14) হিরাচর, শ্রাবটতলী, খাগড়াছড়ি, পাবলাখালী গনহত্যা 1988 সালের 8 আগষ্ট, 9 আগষ্ট, 10 আগষ্ট

15) লংগদু গনহত্যা 1989 সালের 4ঠা মে

16) নাইক্ষ্যাছড়ি গণহত্যা 1990 সালের 16 এপ্রিল

17) মাল্যে গনহত্যা 1992 সালের 2রা ফেব্রুয়ারি

18) লোগাং গনহত্যা 1992 সালের 10ই এপ্রিল

19) নানিয়ারচর গনহত্যা 1993 সালের 17 নভেম্বর

20) লংগদু পাকুয়াখালী ট্রাজেডি 1996 সালের 9 সেপ্টেম্বর

21) রামগড় পাতাছড়া গণহত্যাও তারা সংঘটিত করেছিল৷

সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া অভিবাসী উপজাতীয়রা “সন্ত্রাসী সংগঠন (PCJSS Shontho Larma Group কে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে না।
এই PCJSS কোনভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমগ্র উপজাতি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। কারণ পাহাড়ে আরো বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জাতির অধিকার নিয়ে কাজ করার গ্রুপ রয়েছে। প্রকৃত উন্মোচিত সত্য হলো- PCJSS অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাস্ট্র গঠন করার হুমকি দিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রমাণ হিসেবে বলতে পারি Jumma Sudipta নামের ফেসবুক পোস্টের দেশভাগের হুমকি গুলি৷ পোস্টে সংযুক্ত করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভেঙে জুম্মল্যান্ড করার মানচিত্র ও মুদ্রার ছবিগুলো।
কল্পিত স্বপ্নের জুম্মল্যান্ড নামক রাস্ট্রের মানচিত্র ও মুদ্রা তৈরি করে প্রচারোনা চালিয়ে তারা সাধারণ উপজাতিদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে৷ কতবড় দুঃসাহস হলে স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তারা। এমন বিশ্বাসঘাতকতা সত্যি দুঃখজনক। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালী, এবং সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদীত তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক করার গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছে PCJSS Shontho Larma সন্ত্রাসীরা।
তারা বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারই অংশ হিসেবে জাতিসংঘে তাদের এই চিঠি প্রেরণ মূলত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা, এমনই অভিযোগ সন্ত্রাসীদের। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা নয়। এইটি হচ্ছে উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি, এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতময় সমস্যা৷ সত্য এটা যে, সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি বন্ধ করলে, এবং অবৈধ অস্ত্র পরিহার করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়বে।

By admin

মতামত

x