||সমিরণ দাশ, কাউখালী||

রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাউখালী সদর ঘিলাছড়া সড়কের বামপাশে অবস্থিত শামুকছড়ি গ্রামের জায়গাগুলো সরকার ১৯৮০/১৯৮১ সনে পুনর্বাসিত বাঙ্গালীদের নামে কবলিত করে দেন এবং বসতি স্থাপন করে দেন। পরবর্তীতে তথাকথিত শান্তিবাহিনীর আক্রমণে বাঙ্গালীরা যেখান থেকে চলে এসে গুচ্ছগ্রামের বন্দিশালায় আশ্রয় গ্রহণ করেন৷ বাঙ্গালীদের রেকর্ডীয় জায়গা বাঙ্গালীরা এতবছর সেগুনচারা সৃজন করে দখলে রাখলেও বর্তমানে ইউপিডিএফের সহযোগিতায় শামুকছড়ি গ্রামের কিছু উগ্রবাদীলোক বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করেন৷ খুব সহজেই বাঙ্গালীদের রেকর্ডীয় জায়গা দখলে নিয়েছেন উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

১৯৭৯ সনে সরকার নিয়ে আসা অধিকাংশ বাঙ্গালীদের শামুকছড়ি এলাকার জায়গাগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও জায়গা নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছগ্রামের বন্দিশালায় ও কাউখালী সদর মিনি মার্কেট এলাকার বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই মূহুর্তে তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিলে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিহীন হয়ে যাবে এবং আশ্রয়হীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত জায়গাতে পূর্বে ছিলেন, যশোর গ্রুপ, দিনাজপুর ৪, দিনাজপুর পূর্ব ১, সিলেট ২, নোয়াখালী ৩ গ্রুপসহ মোট ৩০০ পরিবার। বর্তমানে ৩০০ পরিবারের ৯০০ একর জায়গা দখলের জন্য ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের কাউখালী উপজেলার পরিচালকের নির্দেশে শামুকছড়ি গ্রামের কিছু উশৃংখললোক গত- সোমবার (৩১ শে জানুয়ারী) ২০২২ খ্রিস্টাব্দে গভীর রাতে টিন শেডের ক্যাং ঘর (বৌদ্ধ বিহার) নির্মাণ করেন। এমনই খবর জানতে পারেন জায়গাগুলোর মালিক ৩০০ শতাধিক বাঙ্গালী পরিবার ও দীর্ঘদিন থেকে জায়গাগুলো নিয়ে তৎপর থাকা জয়নাল মুন্সী, আব্দুল সামাদ ও বশির লিডার। বাঙ্গালীরা জানার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জায়গা দখল বন্ধ করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু উপজাতি নেতৃত্বশ্রেণী নিয়ন্ত্রিত জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়ে কোনপ্রকার বিন্দুমাত্র ভূমিকা রাখেন নি। বর্তমানে নিরুপায় ও অসহায় অবস্থায় বাঙ্গালীরা ধারে ধারে ঘুরছে তাদের জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য। বাঙ্গালীদের রেকর্ডীয় জায়গায় বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীরা আইনগত সহযোগিতা শীঘ্রই চাইবেন বলে জানান জয়নাল মুন্সী, আব্দুল সামাদসহ বশির লিডার।

উপজাতি থেকে জায়গা দখল মুক্ত করতে তৎপর হয়েছেন, ১. জয়নাল মুন্সী (৮৬) বেতছড়ি, ২.আব্দুল সামাদ (৬৬) হাতিমারা, ৩.আব্দুল গণি (৯০) ৪. ইউছুফ আলী (৬০) ৫.শহর আলী ৬. চাঁন মিয়া (৫৫) মিনি মার্কেট,৭. মোঃ মানিক, ৮. আবুল কাশেম, ৯. মদীনুল হক, ১০. মোঃ আওয়াল, ১১. মোঃ সরুজ, ১২. আব্দুল মালেক ও ১৩. বশির লিডার (৭০) (হাসপাতাল এলাকা)। তারা ইতোমধ্যে জায়গাগুলোর মালিক থেকে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। তাদের জায়গাতে উপজাতিদের বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে দখল তারা তা মেনে নিবেন না। তারা জানান, আমাদের কাগজপত্রের রেকর্ডীয় জায়গা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জোরপূর্বক সন্ত্রাসীদের ইন্ধনে শামুকছড়ি গ্রামের কিছু উগ্রবাদী লোক দখল করতে বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করেছে৷ বৌদ্ধ বিহার যেখানে নির্মাণ করেছে সেখানে কমপক্ষে ১০০টি প্লট রয়েছে। একটি টিন শেডের বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে সমগ্র বাঙ্গালীর জায়গা দখলের পায়তারা করছে তারা। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার বিষয় নয়। এটা নিয়ে প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। পূর্বেও আমরা এই জায়গা নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন করেছি প্রয়োজনেই আবারো আন্দোলন করবো তারপরেও জায়গা দখল মুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এছাড়াও বাঙ্গালীরা অভিযোগ করে জানান,
“দীর্ঘদিন ধরে শামুকছড়ি এলাকার বাঙ্গালীদের জায়গা উপজাতি মারমারা দখল করার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের তৎপরতায় সেটা করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন পূর্বের ন্যায় ভূমি দখল বন্ধে তৎপর নয়। যার প্রেক্ষিতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা স্থানীয় উপজাতি আওয়ামীলীগ কতিপয় নেতাদের মাধ্যমে বাঙ্গালীদের ভূমিগুলো বৌদ্ধ বিহার স্থাপন পূর্বক দখলে নিচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীদের জায়গা ও সরকারি খাস জায়গা দখল করতে বৈধ উপায় হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মীও প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা। বৌদ্ধ বিহারকে উপজাতি সন্ত্রাসীরা হাতিয়ার বানিয়েছে বাঙ্গালী ও সরকারি ভূমি দখলের জন্য।”

শামুকছড়ি যেসকল বাঙ্গালীদের জায়গা আছে সেসকল বাঙ্গালীদের অনেকেই জানান, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে উক্ত বিষয়ে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি না করতে। যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার পরিণাম ভালো হবেনা বলে হুমকি প্রদর্শন করা হয়৷ পূর্বে যারা বাঙ্গালী অধিকার নিয়ে কাজ করেছে এবং বাঙ্গালী ভূমি রক্ষার ভূমিকা পালন করেছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে বাঙ্গালী দালালরা নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে৷ যার কারণে এই নিয়ে সবধরণের প্রতিবাদ বন্ধ রয়েছে আর এই সুযোগকে সন্ত্রাসীরা কাজে লাগিয়েছে বলে জানান।

By admin

মতামত

x