বঙ্গবন্ধু তনয়া সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ১৯৯৬ সালে সবুজে ঘেরা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু করেন।
তারপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২-রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব সরকার প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যান।
কিন্তু চুক্তির নামে ধোঁকাবাজ সন্তুলারমা কখনো নতুন কিছু ভাবতে শেখেনি।
পার্বত্য চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মাঝে আরো শক্তিসঞ্চার করতে শুরু করেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো হতে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
ধীরে ধীরেই পাহাড়ের জনপদ আরো কঠিনতর হয়ে উঠেছে দিন দিন।
কারণ খুজতে গিয়ে দেখা যায়, পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর তুলে নেওয়াই তাদের মিশন সম্পন্ন করা সহজ হয়ে উঠে।
এ ক্ষেত্রে তাদের মাঝে চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্টি হয় ইউপিডিএফ নামক রাষ্ট্র বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা দিন দিন চাঁদাবাজি করে পাহাড়ে তারা ভয়ংকর রুপ ধারণ করে। একেই রুপে আরো সৃষ্টি হয় দু’টি সংগঠন। যাদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনপদ এখন চাঁদাবাজির আখড়া হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সরকার প্রধান তাদের ব্যর্থতাকে কখনোই চোখের সামনে আনতে সক্ষম হয়নি!!! কারণ চুক্তির মাঝে সরকার আটকানো। চুক্তি লঙ্ঘনকারী সন্তু লারমাকেও আইনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ নেই।

পার্বত্য চুক্তির শর্ত মোতাবেক সেনাবাহিনী কমিয়ে ফেলার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে পার্বত্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।

এখানে উল্লেখ্য যে, সন্তুলারমার জেএসএস চুক্তি সম্পাদন করেও কিন্তু সম্পূর্ণ অবৈধ অস্ত্র পরিহার করেনি। বরং পূর্বের ন্যায় এখনো অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বিদ্যমান রয়েছে। এবং তাদের সন্ত্রাসী দলের চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন-গুম ও আধিপত্য সাধারণ মানুষ বলির পাঠা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকা ৪টি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা রক্তের হলি খেলায় মেতে উঠে। আজ সাধারণ পার্বত্যবাসী তাদের কাছে জিম্মি।
সাধারণ উপজাতি-বাঙ্গালী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। এমতবস্থায় সরকার এখানে নির্বিকার।
এর কোন বিচার হচ্ছে না!!!

কোনো অদৃশ্য শক্তির ইন্ধনে ১৯৯৭ সনে সরকার পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত করলেও পাহাড়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি কিন্তু এখনো ফিরেনি। সাধারণ মানুষ পার্বত্য চুক্তিকে তামাশার চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করছে। সংবিধান বিরোধী পার্বত্য চুক্তির সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আজ উপজাতি সন্ত্রাসীরা চালকের আসনে অবতীর্ণ।
অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির কারণে পার্বত্য বাঙ্গালীরা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত। নিজ দেশে যেনো পরবাসী পার্বত্য বাঙ্গালীরা।

উপরোক্ত বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে সরকার ও প্রশাসনকে বলার কিছু নেই; কারণ যেখানে সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কথা আসে সেটা কেবল হাসি মশকরার কাজ।

যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। বিপরীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীকে দূরে রাখার কথা বলা হচ্ছে।
সন্তুলারমার আসল রুপ এ কৌশলেই ধরা পড়েছে।

সাধারণ জনগন এখন আর হাসি ও তামশা দেখার সময় নেই। যেখানে হামলা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাধারণ জনগন এখন সোচ্চার ভুমিকা পালন করবে। যদি পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনরায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা না হয়।
বিরাজমান বাস্তবতাকে তখন সরকার শামাল দিতে পারবে কিনা তা এখন সন্দেহ।
তাই সরকার কে বলবো বিরাজমান বাস্তবতা কে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত এর প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
না হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা হত্যা ও সাধারণ জনতা হত্যার প্রতিশোধে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে যে কোন সময়ে।

By admin

মতামত

x