৪০তম বিসিএস পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফলে ১,৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মেধা ভিত্তিতে টিকেনি কোন উপজাতি৷ এর আগে প্রতিবছর বিসিএসে ৫% উপজাতি কোটায় অহরহ উপজাতি সুপারিশ প্রাপ্ত হত। এই থেকে অনুমেয় যে, মেধা তালিকায় উপজাতিরা অনেক পিছিয়ে৷ এতদিন তারা উপজাতি কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে। সরকারি চাকরিতে উপজাতিদের উপস্থিতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ‘ছিল উপজাতি কোটা’। মেধাকে ধ্বংস করেছে কোটা প্রথা। যথাসময়ে এই কোটা প্রথা বাতিল যদি না হত তাহলে হাজার হাজার অযোগ্য উপজাতি কোটায় চাকরি নিয়ে দেশের প্রশাসনিক অবকাঠামো ধ্বংস করত। যেমনটা তারা অনেকটা করে ফেলেছে।

কোটা বিরোধীদের তীব্র আন্দোলনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির কোটা প্রথা বাতিল হয়।
রেফারেন্স-
গত ২০১৮ সালের ০৪ অক্টোবর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সকল সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৭/৩/১৯৯৭ তারিখের সম (বিধি-১) এস-৮/৯৫ (অংশ-২)-৫৬ (৫০০) নম্বর স্মারকে উল্লিখিত কোটা পদ্ধতি নিম্নরূপভাবে সংশোধন করল :

ক. ৯ম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে এবং

খ. ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।

বাতিল হওয়া কোটা পুনর্বহাল করতে উপজাতি সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া ঢাকা অবস্থানরত উগ্রবাদী উপজাতি ছাত্ররা তৎপর হয়েছে।

পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রথা প্রযোজ্য হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা এখন আর পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জাতি নয়। তারা আজ পার্বত্য চুক্তির সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখন উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে৷
উপজাতি কোটা প্রথার কারণে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে ৷ এখানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ পদ্ধতি উপজাতি কোটার ভিত্তিতে হচ্ছে। এমনকি এখানকার চাকরির নিয়োগের সম্পূর্ণ চাবিকাঠি উপজাতীয়দের হাতে। অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির ফলে তারা এমন মামার বাড়ির আবদার হাতের মুঠোয় পেয়েছে। তা ছাড়াও সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কোটা প্রথা বাতিল করেননি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৫% কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপজাতি জনগোষ্ঠী হতে নিশ্চিত করা হয়েছে পার্বত্য চুক্তির উপজাতি কোটায়৷ এই কোটা প্রথার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেমন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বাঙ্গালীরা তেমনি অযোগ্যদের হাতে চলে যাচ্ছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ। যা একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশকে মেরুদণ্ডহীন করার শামিল। পরিতাপের বিষয় যে, কোনভাবেই বাতিল করা যাচ্ছে না অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির কোটা প্রথা। তাই এখনো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়ে যাচ্ছে উপজাতিরা।

এদিকে গতকাল (শনিবার) ২ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দে উপজাতিদের একটি উগ্রবাদী অংশ ঢাকায় উপজাতি কোটা পনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা সবসময় উপজাতি হিসেবে এবং উপজাতি কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও হঠাৎ নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবি করে আসতে! যা হাস্যকর ও বিস্ময়কর।

যোগ্য ও মেধাবীরা কখনো কোটায় চালকের আসনে উত্তীর্ণ হতে চায়না৷ তারা নিজ যোগ্যতায় ও মেধা ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হতে চায়। আর যারা অযোগ্য তারাই কেবলমাত্র কোটার জন্য লাফালাফি করবে। যেমনটা উপজাতিদের একটি উগ্রবাদী অংশ করছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, পার্বত্য উপজাতিরা জনসংখ্যা অনুপাতে এদেশে ১% এরও অনেক কম। তারা কীসের ভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ৫% উপজাতি কোটা পনর্বহাল দাবি করে? তা আমার বোধগম্য নয়।

নুসরাত ফারিয়া
সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

By admin

মতামত

x