পাহাড়ে কতিপয় লাল বস্ত্রধারীরা সাদাকে কালো বানায় আর কালোকে সাদা বানায়। আর প্রশাসনও তাদের কথায় বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। ধর্মীও ইস্যু পুঁজি করে ফায়দা নেওয়ার জন্য উগ্রবাদী কিছু ভিক্ষু সব সময় তৎপর থাকে। এদেরকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দলগুলো তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ব্যবহার করে থাকে। কোনমতেই একটা বিষয় পুঁজি করে লাল বস্ত্রধারীরা ব্যানার নিয়ে দাঁড়ালে প্রশাসনকে দেখা যায়, তাদের তোষামোদ করতে আর সুযোগ-সুবিধা দিতে। তাদের এমনভাবেই তোষামোদ করা হয় এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় মনে হচ্ছে এটা না করলেই মহা ভারত অসুদ্ধ হয়ে যাবে! পার্বত্য চট্টগ্রামে লাল বস্ত্রধারীরা মারাত্মক অপরাধ করলেও তাদের বিচার হয়না। বৌদ্ধ ধর্ম মতে তাদের ধর্মীও লাল বস্ত্রধারীদের কেউ আঘাত করতে পারেনা। মূলত এই সাহসে তাদেরকে উপজাতি সন্ত্রাসীরা সামনের সারিতে রাখে এবং মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা দেখেছি প্রতিবেশী মায়ানমার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশ হয়েও ভিক্ষুদের পাছায় ডিম থেরাপি দিয়েছে কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ উগ্রবাদী ভিক্ষুদের ডিম থেরাপির পরিবর্তে তোষামোদ করছে! যার কারণে এদেশে তাদের সাহস দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। তাই তারা বাঙ্গালী ও রাষ্ট্র প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

গত ২১ মার্চ ২০২২ খ্রিস্টাব্দে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলাধীন ২ নং বাটনাতলী ইউনিয়নে ডাইনছড়ি পশ্চিম পাড়া (লালটিলা) মো. নুর আলম এর বাড়ির আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জায়গা হতে ‘শ্বেত বুদ্ধমুর্তি’ পড়ে আছে এমন সংবাদ পেয়ে মানিকছড়ি থানার পুলিশ ‘শ্বেত বুদ্ধমুর্তি’ উদ্ধার করে। তদন্তের সময় পুলিশ বাঙ্গালী নুর আলম এর কোন সংশ্লিষ্টতা পায়নি, এমনকি শ্বেত বুদ্ধমুর্তি কোথায় থেকে বাঙ্গালীে পরিত্যক্ত জায়গাতে এসেছে তার সে বিষয়েও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। বৌদ্ধ মূর্তিটি নিজেদের আয়ত্তে নেওয়ার জন্য একদল উগ্রবাদী ভিক্ষু পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন যে, বৌদ্ধ মূর্তিটি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার মত মালিকানা প্রমাণ তারা পুলিশকে দিতে পারেনি। তাই সর্বশেষ পুলিশ বৌদ্ধ মূর্তিটি আদালতের হেফাজতে দেয়। এরপর হতে Jyoutisara Bhikkhu মানিকছড়ি থানার ওসি শাহনুর আলম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দিয়েছে এবং বাঙ্গালী নুর আলমকে গ্রেফতার করাতে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করে। তিন ধাপে বিভিন্ন কর্মসূচী ওসি ও বাঙ্গালী নুর আলম এর বিরুদ্ধে হাতে নেয় এই ভিক্ষু। সহজসরল উপজাতিদের Jyoutisara Bhikkhu বুঝিয়েছে যে, ওসি কোটি কোটি টাকা দামের মূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি ফেরত দেয়নি এবং নুর আলম বৌদ্ধ মূর্তি পাচারকারী। তাকে ওসি আটক করেনি। এ বলেই সহজসরল উপজাতিদেরকে Jyoutisara Bhikkhu ওসি ও নুর আলমের বিরুদ্ধে খেপিয়ে দিয়েছে! এই নিয়ে গত (শনিবার) ২ এপ্রিল একদল ভিক্ষু ও তাদের অন্ধ সমর্থক মানিকছড়িসহ খাগড়াছড়ি শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এই ঠেলায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে কোন কিছু বিবেচনা না করেই নুর আলমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক মানিকছড়ি থানার পুলিশ নুর আলমকে গতকাল (রবিবার) ৩ এপ্রিল গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। এখানে আরো একটি পরিতাপের বিষয় যে, ‘বৌদ্ধ মূর্তি’ Jyoutisara Bhikkhu কে হস্তান্তর না করায় এবং তাৎক্ষণিক নুর আলমকে গ্রেফতার না করায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উক্ত থানার ওসি শাহনুর আলমকে ভিক্ষুদের কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ প্রদান করে৷ যা একদম দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। এটা পার্বত্য বাঙ্গালী এবং প্রশাসনের জন্য খুবি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মত ঘটনা। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পড়ে গতকাল ৩ এপ্রিল ওসি শাহনুর আলম আদালত হতে বৌদ্ধ মূর্তিটি নিয়ে একদল পুলিশ সদস্যসহ Jyoutisara Bhikkhu নিকট গিয়ে বৌদ্ধ মূর্তি হস্তান্তরসহ তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চায়!
ওসি ক্ষমা চাওয়ার পরেও উগ্রবাদী Jyoutisara Bhikkhu ওসিকে ক্ষমা করেনি। বরং ওসিকে উক্ত থানা হতে অন্যত্র বদলী করতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ৫ এপ্রিল মানিকছড়ি থানা ঘেরাও কর্মসূচী দিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঙ্গালী নুর আলমকে বৌদ্ধ মূর্তি পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং পার্বত্য বাঙ্গালীদের চোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আর ওসি শাহনুর আলমকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে উপজাতি জনসাধারণকে উত্তেজিত করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি করার অপচেষ্টাই লিপ্ত হয়েছে৷ তার পরেও প্রশাসনের নতজানু নীতি! একজন থানার ওসিকে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ কোন ধর্মীও গুরুদের কাজ হতে পারে না। এটা সত্যি দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। একজন হতদরিদ্র দিনমজুর বাঙ্গালীকে Jyoutisara Bhikkhu বৌদ্ধ মূর্তি পাচারকারী হিসেবে ফাঁসালো আর ওসিকে বানানো তার বলির পাঁঠা! দিনমজুর বাঙ্গালীর স্ত্রী-সন্তানরা বোবার মত নীরব কান্নায় কাঁদছে, এদিকে কেউ শুনছে না তাদের এই বোবা কান্না!

স্থানীয় বাঙ্গালীদের ধারণা, পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোর ইন্ধনে Jyoutisara Bhikkhu ‘বৌদ্ধ মূর্তি’ বাঙ্গালী নুর আলম এর পরিত্যক্ত জায়গাতে রেখে এসেছে। এর মাধ্যমে তারা ধর্মীও ইস্যু সৃষ্টির মাধ্যমে অনাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে। যেমনটা এর আগে রামগড়ে করেছিল; বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙে সেনাবাহিনীর উপর দোষ চাপিয়ে যার হাজার গুণ ক্ষতিপূরণ নেয় এই Jyoutisara Bhikkhu,
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এই ভিক্ষু খুবি উগ্রবাদী স্বভাবের৷ মায়ানমারের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় সময় মায়ানমারে যাতায়াত করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এই ভিক্ষু। নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনীতে উচ্ছেদ করতে মরিযা Jyoutisara Bhikkhu,
তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এই উগ্রবাদী ভিক্ষু বড় ধরনের নাশকতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত করতে পারে৷ তার সঙ্গে রয়েছে উগ্রবাদী ভিক্ষু শ্রমনদের একটা অংশও। তাই তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি রইলো।

By admin

মতামত

x