পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি জাতিসত্বা এদেশের ভূমিপূত্র নয়। তারা বার্মা ও মঙ্গোলীয় থেকে ব্রিটিশ শাসন আমলে এদেশের পার্বত্য ভূখণ্ডে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়-প্রশ্রয় গ্রহণ করে। উপজাতিদের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই পাঠকমহল তাদের প্রকৃত জাতিগত পরিচয় জানা বাধ্যতামূলক তারই আলোকেই তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার অংশ হিসেবে তাদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্তরূপে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের উপজাতিদের মধ্যে সর্ব বৃহৎ চাকমা জাতি। তাদের আদিনিবাস বার্মার চম্পকনগর। এই চাকমাদের পূর্ব ইতিহাস একদম জঘন্য। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন দেশেই তারা বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশ সরকারের নমনীয় নীতি ও এদেশের বাঙ্গালীদের উদার মনমানসিকতায় চাকমারা দেশদ্রোহীতা করেও বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। চাকমারা একটি যাযাবর জাতি। নিজেদের মধ্যে দাঙ্গাহাঙ্গামা, হিংসা, অহংকার ও বিভাজনের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে তারা দেশান্তরিত হয়েছে। এ দেশের ভূখণ্ডে তারা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। ঠিক ইহুদি ইসরায়েলের মত অবিকল। এই চাকমারা বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় গ্রহণ করে আজ নিজেদের এদেশের ভূমিপূত্র দাবি করে আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি তুলছে। যা দুঃখজনক। বৃটিশ সরকার তাদেরকে এদেশে সাময়িক সময় সর্বপ্রথম আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (হিল ম্যানুয়েল১৯০০) এর আওতায় তাদেরকে এ অঞ্চলে চিরস্থায়ীভাবে থাকতে দেয়৷ তারা কেউ কিন্তু এদেশে সেসূত্র মতে ভূমিপূত্র নয়। আমরা চাকমা জাতি সম্পর্কে যে ইতিহাস দেখতে পায়, তা কিন্তু সম্পূর্ণ গল্পকাহিনী ও বিকৃত ইতিহাস ৷ চাকমা পন্ডিত ও ইতিহাসবিদরা অকপটে স্বীকার করে চাকমা জাতির ইতিহাসে প্রকৃত তথ্যের ঘাটতি আছে এবং তাদের লেখা ইতিহাস প্রায়ই গল্পকাহিনীতে ভরা। চাকমাদের আমরা একটি ‘চাকমা জাতি’ হিসেবে চিনি৷ তাদের এই জাতি পরিচয় যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি। এই চাকমারা চাকমা জাতিতে সন্তুষ্ট না হয়ে নিজেদের ‘জুম্ম জাতি’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। এ অঞ্চলে মারমা, তংচঙ্গ্যা ও ত্রিপুরাসহ ১৩টি জাতিকে তারা ‘জুম্ম জাতি’ বানাতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। সময়ে সময়েই নিজেরা পাহাড়ি হিসেবে পরিচয় বহন করেছিল। উপজাতি হিসেবে দীর্ঘ সময় তারা পরিচয় বহন করেছে। সেই চিরচেনা পরিচয় ‘উপজাতি’ এখন আর নাকি পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে! কিন্তু তাদের নেতা সন্তু লারমা ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে নিজেদের ‘উপজাতি’ পরিচয় বহন করে। সে চুক্তির উপজাতি কোটায়, চাকরি, পড়াশোনা, সুবিধা করে আসছে উপজাতি পরিচয়ে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন নিজেদের আবার আদিবাসী হিসেবে দাবি করছে! তদুপরি কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আরেকটি পরিচয় বহন করবেই। এখন আমরা যে পরিচয়গুলোতে তাদের ক্ষেত্রে জানি তা হল-
১. চাকমা জাতি,
২.জুম্ম জাতি,
৩. পাহাড়ি জাতি,
৪.উপজাতি
৫. আদিবাসী জাতি।

একটা জাতির যদি এতগুলো জাতিগত পরিচয় থাকে তাহলে রাষ্ট্রের মানুষ তাদের কী পরিচয় চিনবে বা জানবে?

মারমা জাতি জনসংখ্যায় তারা দ্বিতীয় বৃহৎ। তাদের আদিনিবাস বার্মা। যাদের আমরা মগ হিসেবে জানি। বার্মিজ মগ জলদস্যুর ইতিহাস সূপ্রাচীন। সে মগ জাতির একটি বিতাড়িত অংশ বাংলাদেশের বর্তমান মারমারা। এরাই বার্মার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনকারী বার্মিজদের মত অবিকল৷ এদেশে তারা থাকলেও এখনো বার্মার জাতীয়তাবাদ লালন করে৷ নিজেদের তারা একসময় মগ হিসেবে পরিচয় দিলেও বর্তমানে মারমা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে৷ এদেশে তারা মারমা নাম ধারণ করেছে। মারমা হিসেবে তাদের এখন সর্বত্র পরিচয় রয়েছে৷ সাম্প্রতিক সময়েই তারা এনজিও, খ্রিস্টান মিশনারী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমাদের খপ্পরে পড়ে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছে! আদিবাসী যদি জাতিগত তাদের পরিচয় হয়, তাহলে তাদের এতবছরের মগ ও মারমা জাতির ঐতিহ্য পরিচয় কী ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে?

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্বা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা, পাংখোয়া, বম, চাক, মুরুং, খুমি, লুসাই হিসেবে তাদের জাতিগত পরিচয় সম্মানের এবং তাতে তারা অধিক পরিচিতি, এছাড়াও পাহাড়ী হিসেবেও তাদের পরিচয় আছে। তা যথেষ্ট সম্মানের।

জাতিসংঘের International Labor Organization (ILO) C169, 1989 এর পার্ট প্রথম ‘সাধারণ নীতি’ ১ ধারার, ১ কনভেনশন প্রযোজ্য (a) এর ‘উপজাতি’ উপাধি, এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩ (ক) ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিসত্বা উপাধি পরিচয় যদি তাদের জন্য লজ্জাবোধক মনে হয় তাহলে তারা স্ব-স্ব জাতির পরিচয় এবং পাহাড়ী পরিচয় বহন করুক, তখন কেউ বিভ্রান্ত হবেন না, এবং রাষ্ট্রেরও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু তারা যদি (ILO) C169, 1989 এর পার্ট প্রথম ‘সাধারণ নীতি’ ১ ধারার, ১ কনভেনশন প্রযোজ্য এর (a) ‘উপজাতি’ কে সুকৌশলে এড়িয়ে বা জাতিসংঘের ILO পার্ট প্রথম ‘সাধারণ নীতি’ ১ ধারার, ১ কনভেনশন প্রযোজ্য এর (b) এর ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর’ জন্য কনভেনশনকে অপব্যবহার করে তখন কিন্তু তা বাংলার দেশপ্রেমিক জনগণ মেনে নিবেনা এবং রাষ্ট্রও মেনে নিবেনা। তার দাঁতভাঙ্গা তীব্র সমুচিত জবাব দেয়া হবে৷

এখানে উল্লেখ্য যে, আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র (UNDRIP) বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছিল, পক্ষে ১৪৪ টি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিপক্ষে ৪ টি ভোট (অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), এবং ১১ জন বিরত (আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ভুটান, বুরুন্ডি, কলম্বিয়া, জর্জিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়ান ফেডারেশন, সামোয়া এবং ইউক্রেন)।
উক্ত ঘোষণাপত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা লাভের অধিকার আছে। মূলত, তার সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য এবং দেশভাগ করার নিমিত্তে (ILO) C169, 1989 এর পার্ট প্রথম ‘সাধারণ নীতি’ ১ ধারার ১ কনভেনশন প্রযোজ্য এর (b) শর্তাবলি পূরণ না করার শর্তেও নিজেদের আদিবাসী দাবি করছে। যা দুঃখজনক, এবং রাষ্ট্র ভাগ করার গভীর ষড়যন্ত্রের আলামত।

By admin

মতামত

x