এম. এ হান্নান সরকার।

১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এবং রাঙামাটি নিয়োজিত ছিলো তথাকথিত শান্তিবাহিনী দমনের জন্য। এই ২০ বছর শান্তিবাহিনী তথা সন্ত্রাসী দমনে সরকারের পূর্ণ সমর্থন ছিলো। অথচ ২০ বছর ধরেও সেনাবাহিনী পাহাড়ে সন্ত্রাস দমন করতে পারেনি! তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিলো না। বিদেশীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বর্তমানের মতো অতোটা যোগসাজশও ছিলো না। তার পরেও সেনাবাহিনী ব্যর্থ হয়েছে সন্ত্রাসী দমনে। দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস বিচার বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ব্যর্থ। অবশ্য এর পেছনে বিরাট একটা কারণ ছিলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে সেনাবাহিনীর স্ট্যাডি ছিলো না, ছিলো না পার্বত্য যুদ্ধের রণকৌশল। এইজন্যই সরকারের পদক্ষেপ অবশ্যই দায়ী।

১৯৯৭ সালে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যুদ্ধ সমাপ্ত ও শান্তিবাহিনীর অস্ত্র আত্মসমর্পণ পূর্বক উক্ত অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে ৭২ টি শর্ত সাপেক্ষে সরকার ও শান্তিবাহিনী মধ্যকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদিত হয়। পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে বাঙ্গালী ও উপজাতীয়দের একটি অংশ সহ তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি এ চুক্তিকে কালো চুক্তি এবং দেশ বিক্রির চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলো!

চুক্তির ধারা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা শুরু হয়। ৫১২ টি সেনা ক্যাম্প থেকে ২৩৯ টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয় সরকার ইতোমধ্যে। বাকী সেনা ক্যাম্প গুলো প্রত্যাহার প্রতিক্রিয়াধীন। তবে চুক্তির পরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়। কিন্তু চুক্তির আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা ছিলো। তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার করার কারণেই প্রশাসন সহ সাধারণ পাহাড়ি-বাঙ্গালীর উপর সন্ত্রাসীদের হামলা বেড়ে চলছে।

চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে দীর্ঘ ২২ বছর। কিন্তু তথাকথিত শান্তিবাহিনী এখনো অবৈধ অস্ত্র ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি! সরকারী সবধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে রাষ্ট্র বিরোধীতা সহ ভয়ানক সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে যাচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। সন্ত্রাসী তৎপরতা ও বিরাজমান এবং সমস্যা এদেশের তথাকথিত মহলের চোখে তা পড়ে-ই না! তাদের চোখে পড়ে পাহাড়ে নাকি যতসমস্যা সব বাঙ্গালী আর সেনাবাহিনী! অথচ পাহাড়ের সমস্যা সে দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব হতে। তখন সরকার পাহাড়ে বাঙ্গালী পূর্ণবাসনেও করেনি।

আজকে যারা পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অপহরণ খুন-গুম ও চাঁদাবাজি করে তারা নাকি অধিকার আদায়ের জন্য করে! এসব গ্রুপ নাকি বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনীর আগ্রাসন বন্ধ করতে গঠন হয়েছে বলে এদেশের তথাকথিত সুশীল জ্ঞানপাপীদের অভিমত! পাহাড়ের চরম বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলা যায় সন্ত্রাসীরা একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতির মুক্তির দোহাই দিয়ে বরং পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্রবাজি, খুন-গুম অপহরণ ও চাঁদাবাজি সহ প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রদ্রৌহিতা কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪২ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু কথিত শান্তিবাহিনী সহ চুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। শান্তিবাহিনীর পরে এ অঞ্চলে গর্জে ওঠা অপর রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ গত ১৮ মার্চ রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি প্রশাসনের উপর হামলা করে ৮ জনকে হত্যা সহ ১৬ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে মারাত্মকভাবে আহত করে। ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার আগে বিলাইছড়ি সরকার দলীয় নেতা তথা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুরেশ তংচঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে৷ নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি বর্মা সহ ৬ হত্যাকান্ডও তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

এই পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬১২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। বাঙ্গালী নিহত হয়েছে ৩৫ হাজারেরও বেশি। অপর দিকে শান্তিবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে সেনাবাহিনী সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুলনায় অনেকাংশেই কম।

দীর্ঘ এতো বছর যেখানে সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমন করতে ব্যর্থ, সেইখানে বর্তমানে সক্রিয় শান্তিবাহিনী, ইউপিডিএফ সশস্ত্র গ্রুপ দমন করা সেনাবাহিনীর পক্ষে প্রায়ই অসম্ভব। পূর্বে শান্তিবাহিনীর সংখ্যায় ছিলো অনেক কম। বর্তমানে শান্তিবাহিনী ও ইউপিডিএফ, জেএসএস সংস্কার এম এন-এর অন্ততপক্ষে ১০ হাজারেরও অধিক অস্ত্রধারী সদস্য রয়েছে। পাহাড়ের সম্পূর্ণ পরিবেশ এলাকা শান্তিবাহিনী-ইউপিডিএফ ও জেএসএস সংস্কার এম.এর-এর সদস্যদের জানা। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্যেই অজানা। তার কারণ সন্ত্রাসীদের জন্মস্থান বেড়ে ওঠা সবকিছুই পাহাড়ের মাটিতে। পাহাড়ে কিভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয় তা তাদের জানা। এখন যে পরিস্থিতি, এমন নাজুক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমন কোনভাবেই সম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর বর্তমান অফিসার সহ সৈনিকদের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে স্ট্যাডি সহ যুদ্ধ কৌশল জানা নেই৷ এখানকার বেশিরভাগেরই সেনা অফিসার পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে জ্ঞাত নই। এরমধেই আবার নিজেদের জাহির করতে কিছু কতিপয় সেনা অফিসার ব্যস্ত। এরা পার্বত্য বাঙ্গালীকে মানুষ মনে করেনা। এরা একটিবারের জন্যও এটা চিন্তা করে না যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী না থাকলে এখানে তাদেরও থাকা হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীর অবস্থান পাকাপোক্ত হওয়া মানে এখানে রাষ্ট্রের অবস্থান মজবত হওয়া। কিছু সেনা অফিসার রয়েছে দেশপ্রেমিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন, তাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনার কারণেই সরিয়ে দেওয়া হয়! অথাৎ অদৃশ্যের শক্তির ইশারায় তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশিদিন রাখা হয়না৷

পাহাড়ে সন্ত্রাসী দমন করতে হলে সেনাবাহিনীর অফিসারদের দীর্ঘ মেয়াদে পাহাড়ে রাখতে হবে। দেশপ্রেমিক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ভালো জানে এমন অফিসারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ মেয়াদে বহাল রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক। রাষ্ট্র ও বাঙ্গালীর জন্য নিবেদিতপ্রাণ যেসকল সেনা অফিসার, তাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বদলী করা যাবে না। এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে। সেনা অফিসারদের বদলী করার পরে যেটা সবসময় ঘটে তা হলো পুরাতন অফিসার চলে গেলে সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নতুন অফিসার আসলে তাদের আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে ধারণা নিতে সময় লেগে যায়। নতুন সেনা অফিসার ১/২ বছর থাকার পর বদলি আদেশ চলে আসে! আবার পাহাড়ে সেসকল সেনা অফিসার বাঙ্গালীদের মাথায় লবণ রেখে বরই খেতে পারে এবং মিথ্যে বানোয়াট তথ্য দিয়ে পার্বত্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি চেপে রাখে সেসকল অফিসারগণ উচ্চ তার কর্মকর্তাকে খুশি রেখে বছরের পর বছর থাকতে পারে। এমনটা পার্বত্য ক্ষেত্রে দেখা যায়! অপ্রিয় হলেও এটা চরম সত্য। এমন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমন করা যেমনি যাবে না, তেমনি পাহাড়ে লাশের মিছিল বাড়বে এবং প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরবে। পাহাড়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া সহ পাহাড়ের জন্য প্রয়োজন সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ।

পাহাড়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। প্রতিটি মূহুর্ত কাটে ভয়ে আতঙ্কে। এ অঞ্চলে প্রশাসন সহ নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ বিপদে পড়লে সর্ব প্রথম তাদের রক্ষার তাগিদে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসি। আমরা সেনাবাহিনীর পক্ষে তথা রাষ্ট্রীয় পক্ষের ধারাবাহিক লেখক হয়েও নিরাপত্তা চেয়েও পাইনা!! সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ তদন্তের আগে আমরা জোর গলায় হলফ পূর্বক মিথ্যা অপপ্রচার দাবি করে সরগরম করি। সেনাবাহিনীকে সর্বদা সত্যবাদী বলে প্রচার করে থাকি। যেখানে আমাদের মতো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সেইখানে পাহাড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে দিবে?? পাহাড়ের বুকে একটু ঘুরে বেড়ানোর মতো সাহস শক্তিসামর্থ্য আমাদের নেই। সারাক্ষণ বন্দিশালায় আটক থাকতে হয়।

এইখানে মানুষ সন্ত্রাসী কর্তৃক খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজির শিকার হলে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয় না! কোন সন্ত্রাসীকে সেনাবাহিনী সহ যৌথবাহিনী হাতেনাতে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশকে দিলে পুলিশ মামলার সাক্ষী হতে চাইনা। মামলার সঠিক তদন্ত পূর্বক চার্জসিট প্রদান করেনা পুলিশ। অস্ত্রধারী আসামীর সঠিক ভেরিফাই করা হয়না৷ এসব মামলা পুলিশের তেমন লাভ হয়না বলে পুলিশের অনিহা। এমনটা জানা গেছে পার্বত্য অঞ্চলে নিয়োজিত থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের থেকে। এসব কারণে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র মামলা থেকে খুব সহজে মুক্তি লাভ করে। সেনাবাহিনীর একাধিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী এতো কষ্ট করে অস্ত্র সহ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের আটক করে। অথচ সাপ্তাহ-মাস অতিবাহিত হওয়ার আগে জামিনে চলে আসে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা। এসে পূর্ণরায় অবৈধ অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িয়ে পরে। অনেক সময় দেখা যায় সেনাবাহিনী অপরাধী আটক করে থানায় দিলে পুলিশ ছেড়ে দেয়!

নেতৃত্বে উপজাতীয় জনপ্রতিনিধি থাকার কারণে প্রশাসন একপ্রকার জিম্মি সন্ত্রাসীদের কাছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তির কারণে এখানকার সব ক্ষমতার মালিক উপজাতীয়রা। প্রশাসন উপজাতীয়দের কথার বাহিরে বিন্দুমাত্রও যেতে পারে না। এখানেই সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ হলেও মামলা হয়না। অবশ্য এই জন্য দায়ী পুলিশ সেনাবাহিনীর অদক্ষতা।

পার্বত্য অঞ্চলের পাশে প্রতিবেশী ভারত ও মায়ানমারের সিমান্ত। সিমান্তের ৮৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নেই বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৮৫ কিলোমিটার জুড়ে নেই একটি বিজিবি ক্যাম্পও। ভারত-মায়ানমার থেকে সিমান্ত দিয়ে বাধা ছাড়া উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র সরবরাহ করে। পাহাড়ে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র আর এসব অস্ত্র ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে। দেড় বছরের পাহাড়ে ৭৫ জন নিরীহ লোকদের হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা, অপহরণ তো করেছে হিসাব ছাড়া হরহামেশাই। এসব কিছু তুলে ধরতে গিয়ে আমাদের অনেকেরই রক্তচক্ষুর শিকার হতে হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি পাহাড়ি-বাঙ্গালী ব্যবসায়ীকে শান্তিবাহিনী সহ ইউপিডিএফ’কে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। সরকারি প্রতিটি অবকাঠামো নির্মাণকাজের জন্য ৫% হারে চাঁদা দিতে হয় সন্ত্রাসীদের। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এমন কোন জিনিসপত্র নেই যে ক্রয় বিক্রির ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয় না! বান্দরবানের বিদায়ী এক জেলা প্রশাসক আইন -শৃঙ্খলার মাসিক সভায় এমন মন্তব্য করেন।

জেএসএস, ইউপিডিএফ, জেএসএস সংস্কার এম.এন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বর্মা সহ ৪টি সন্ত্রাসী গ্রুপ বাৎসরিক পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে ৭০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। পাহাড়ের মানুষের রক্তচুষে খাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। তাদের চাঁদাবাজির শিকার পাহাড়ের ৯৫% মানুষ। এখানে সরকার কর্মকর্তা কর্মচারীও সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি হতে রক্ষা নেই৷ চাঁদা না দিলে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। উপজাতি সন্ত্রাসীদের কথার অবাধ্য হলে সন্ত্রাসীরা সাধারণ উপজাতিদের উপর নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। এমনকি উপজাতি নারীদের গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। কেউ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়না। এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলা রাষ্ট্রের যুগোপযোগী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

By admin

মতামত

x