Home / মুক্তমত / গুটিকয়েক নাস্তিক, রামবাম, প্রগতিশীলদের তোপের মুখে নুহাশ হুমায়ুন পিছু হটতে বাধ্য হলো!

গুটিকয়েক নাস্তিক, রামবাম, প্রগতিশীলদের তোপের মুখে নুহাশ হুমায়ুন পিছু হটতে বাধ্য হলো!

এই লেখাটি সম্পূর্ণ লেখকের একান্ত ফেসবুক মতামত

তরুণ চলচিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ুন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পাহাড়ে উপজাতি-বাঙ্গালীর মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে Tecno Mobile এর একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করেন। পাহাড়ে সাধারণত গণবসতি নেই বললে চলে। একটি ঘর থেকে অন্য ঘরের দূরত্ব অনেক৷ তাছাড়া মসজিদের মাইকের আওয়াজ পাহাড়ি এলাকায় সবার কাছে পৌছায় না। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নুহাশ হুমায়ুন বিজ্ঞাপনটি তৈরি করার পরিকল্পনা করে মূলত এখান থেকেই। বিজ্ঞাপনটিতে রাফি নামের একটি পাহাড়ি ছেলে অভিনয় করে। পাহাড়ি ছেলে রাফি মুসলিমদের সেহরি খাওয়ার জন্যে রাতে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ডেকে দিয়েছে। এইজন্যই রাফি কে নিয়ে ইফতার করে মুসলিমেরা। এবং তাকে তার কাজের জন্য একটি মোবাইল উপহার দেন মুসলিমেরা। এই নিয়ে নাস্তিক, বাম, প্রগতিশীল, উগ্রবাদী হিন্দু ও উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের মধ্যেই চুলকানি তৈরি হয়।

এই বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে নাস্তিক, মুক্তমনা, বাম, প্রগতিশীল ও কিছু হিন্দু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানীমূলক একের পর এক বিতর্ক পোস্ট করে নুহাশ হুমায়ুনকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করিয়েছেন। অথচ গুটিকয়েক অনলাইন লেখকের চুলকানির জবাব দিতে পারেনি ইসলামিক লেখকগণ!!

এদেশে ফেসবুকে ইসলামিক লেখকদের অভাব নেই। এই নিয়ে তাদের কোন প্রতিবাদ দেখলাম না!! কতিপয় এসব লেখক সারাদিন ওয়াবী, সুন্নি, চরমোনাই, তাবলীগ জামাত, মাজার নিয়ে পড়ে থাকে! ফেসবুকে তাদের এসব নিয়ে লেখা ছাড়া অন্য কোন লেখা নেই! এখন পবিত্র মাহে রমজান। তাদের লেখা উচিৎ, রমজানের ফজিলত সম্পর্কে৷ অথচ এই নিয়ে তাদের তেমন লেখা দেখলাম না!!

আমি কখনো হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত ছিলাম না, এমনকি তাকে পছন্দও করতাম না। তার ছেলে নুহাশ হুমায়ুন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালী ও উপজাতিদের মধ্যে সম্প্রীতির লক্ষ্যে পবিত্র মাহে রমজান নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে। এই বিজ্ঞাপনটির সবকিছু ভালোলাগার ব্যাপারগুলো মধ্যে অন্যতম ব্যাপার হচ্ছে, “ইসলাম নিয়ে তার চমৎকার ভাবনা” এবং উপজাতি-বাঙ্গালী’র মধ্যেই যে টানাপোড়েন রয়েছে তা থেকে বাহির হওয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তি দূর করা। পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি করা। তার বিজ্ঞাপন ভালোলাগার পেছনে এই ব্যাপারগুলো রয়েছে কেবলমাত্র। নুহাশ হুমায়ুনের অসীম সাহসিকতার জন্য তাকে হাজার স্যালুট।

ইসলামিক লেখকদের উচিৎ ছিলো নুহাশ হুমায়ুনের পাশে দাঁড়ানো এবং বিজ্ঞাপনটির সব চরিত্রকে সমর্থন দেওয়া৷ অথচ ইসলামিক লেখকগণ তাকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ! সেই কোন দিকে থেকে সাপোর্ট না পেয়ে সবশেষে বাধ্য হয়ে নাস্তিক, মুক্তমনা, প্রগতিশীল ও হিন্দুদের নিকট বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে।

এই রাষ্ট্রে গুটিকয়েক নাস্তিক, প্রগতিশীল, উগ্রবাদী হিন্দু ও উপজাতীয় সন্ত্রাসীর এতো ক্ষমতার দাপট??

মতামত

x