নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাচনে সমর্থিত প্রার্থী জেতাতে তৎপর ইউপিডিএফ।

0

রাঙামাটি নানিয়ারচর সবসময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিশেষ এলাকা। গত ২০১৮ সালে উপজেলা সদর ও থানা সম্মুখে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও বর্মাসহ ৭ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই নানিয়ারচরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবণতির দিকে ধাবিত হয়। পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএফ এই ৭ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের শক্তিসামর্থ্য জানান দেওয়াসহ রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনার পর বিগত ৪/৫ বছর ইউপিডিএফ সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা করতে পারেনি উপজেলা সদরে। ইউপিডিএফ এর মিছিল, মেটিং ও সভা-সমাবেশ ছিল জঙ্গলে৷ ইদানীং দেখা যাচ্ছে ইউপিডিএফ বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে। উপজেলা ও জেলা সদরে এসে সরকার বিরোধী সভা-সমাবেশ করছে। এছাড়াও সাম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে ইউপিডিএফ রাষ্ট্র, বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনী বিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তারা রাষ্ট্রকে বাধা প্রদান করছে৷ তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, বাঙ্গালী হত্যা ও সেনাবাহিনী হত্যার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে৷ ইউপিডিএফ প্রধান সারির অনেক নেতাকর্মীর নামে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে এবং অনেক মামলা বিচারাধীন। নানিয়ারচরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ইউপিডিএফ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ওয়ারেন্ট থাকার পরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন অফিসের ব্যর্থতার পরিচয় বলে অভিহিত করেন স্থানীয়রা। মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে কীভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে!

সচেতন মহল মনে করেন, কোনভাবেই ইউপিডিএফ এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না! ইউপিডিএফ সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানান দিচ্ছে। একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী প্রকাশ্যে নির্বাচন অংশগ্রহণ করা এবং জয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত। প্রশাসনের নতজানু নীতি ইউপিডিএফ কে পার্বত্য চট্টগ্রামে কেএনএফ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চেয়ে শক্তিশালী করেছে৷ যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী, সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রের আধিপত্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাচন ইস্যুতে ইউপিডিএফ এর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে-
নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এই উপজেলায় ইউপিডিএফ প্রসিত মূলদল রাজনৈতিক ও সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে৷ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে৷ ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলো দখল ও ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে৷ ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় এতদিন ধরে ইউপিডিএফ কে নিষ্ক্রিয় দেখা গেলেও সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

ভোটারদের উপর চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি ভোট ছিনিয়ে নিতে নিম্ন কেন্দ্র গুলোতে ইউপিডিএফ প্রভাব বিস্তার করবে-
(১) মরাচেঙ্গী মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
(২) রত্ন সিংহ কারবারি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
(৩) হাজাছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
(৪) ঘিলাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়।
(৫) বেতছড়ি জেনারেল ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয়।
এই ৫ টি কেন্দ্র ইউপিডিএফ প্রসীত সন্ত্রানীদের এর একক আধিপত্য। ঘিলাছড়ি হাজাছড়ি, ঘিলাছড়ি শংকলা ছড়া, মরাচেঙ্গী, রত্নসিং কার্বারী পাড়া, কাঠালতলী ও জাহানাতলী আংশিক এলাকায় সশস্ত্র টহল দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

একটি গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে এই উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আঞ্চিলকদলগুলোর মধ্যে হানাহানি ও সংঘাত বন্ধ করতে ইউপিডিএফ কূটচালের মাধ্যমে জেএসএস সংস্কার এম.এন ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বর্মা গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। এই গোপন সমঝোতা বিষয়টির ফলে নানিয়ারচর কোনপ্রকার বাধাহীনভাবে উপজেলা নির্বাচনে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করবে বলে জানা যায় একাধিক সূত্রের তথ্য মতে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এমন সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে ইউপিডিএফ প্রার্থীদের পক্ষে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোট করছে জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বর্মা গ্রুপের একাংশ। একটি বিশেষ সূত্র এমনই তথ্য জানিয়েছে। ইসলামপুর ও বুড়িঘাট এলাকার বাঙ্গালী দালালদের ইউপিডিএফ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিতে কাজ করছে।

আঞ্চলিকদলগুলোর মধ্যে নির্বাচন ইস্যুতে সমঝোতা স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিবে। সেসাথে সুস্থ ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়াসহ ইউপিডিএফ প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনটির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক মজবুত এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা বন্ধ করতেই বিশেষ ভূমিকা রাখেন উপজেলা পরিষদের উপজাতিরা চেয়ারম্যানরা। ইউপিডিএফ আন্দোলন ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বরাবরই নিজেদের পছন্দের লোকজনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সমর্থিত প্রার্থী জেতাতে ইউপিডিএফ কে সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা গেছে৷ খাগড়াছড়ি বেশ কয়েকটি উপজেলায় তৎপরতার মাধ্যমে সমর্থিত প্রার্থীকে জিতিয়েছেন। অনেক এলাকায় ভয়ে ইউপিডিএফ এর প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামীলীগও প্রার্থী দেয়নি। এর মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক। সাম্প্রতিক সময়ে ইউপিডিএফ এর রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনীকে পাহাড় থেকে হটানোর দাবি করছে। তারা স্বায়ত্তশাসনের দাবি রেখে পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের বিষয়ে এবং তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিষয়ে প্রশাসনকে উদাসীন হলে চলবে না। এ বিষয়ে দ্রুত সময়ে ভাবতে হবে।

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে। আর মাত্র তিন। এই উপজেলায় নির্বাচনে ইউপিডিএফ যাদেরকে সমর্থন দিয়েছে তারা হলেন, (১) জ্যোতিলাল চাকমা, (২) অমর জীবন চাকমা। এই দুইজন প্রার্থীর মধ্যে ইউপিডিএফ শতভাগ সমর্থন দিয়েছেন জ্যোতি লাল চাকমাকে। প্রথমে অমর জীবন চাকমা কে শতভাগ সমর্থন দিলেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ১৫টি মামলা। এর মধ্যে ৯টি মামলা অব্যাহতি পেলেও এখনো ৬টি মামলায় অমর জীবন চাকমা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। তাই তার বিকল্প হিসেবে জ্যোতিলাল চাকমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। জানা যায়, জ্যোতি লাল চাকমার বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে, ২টি মামলায় জামিনে থাকলেও সাজেক (বাঘাইছড়ি) একটি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। প্রশাসনিক বাধা মোকাবেলা এবং ভোটের মাঠে কূটকৌশল অবলম্বন করার জন্য ইউপিডিএফ এই দুইজন প্রার্থী এখনো মাঠে রেখেছে৷ তবে ইউপিডিএফ এর নির্বাচনী কৌশল বুঝা বড় মুশকিল। যেহেতু সময় এখনো তিনদিন আছে সেহেতু বলা যাচ্ছে না কী হয়।  

এদিকে নিরপেক্ষ প্রার্থী এবং সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন প্রার্থী রূপন দেওয়ান দোয়াতকলম প্রতীকের পরাজয় নিশ্চিত করতে ইউপিডিএফ বর্তমান চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমাকে পৃষ্ঠপোষকতা করে প্রার্থী করেছে৷ প্রগতি চাকমা কাপ পিরিচ প্রতীক নিয়ে রূপন দেওয়ান দোয়াতকলমের ভোট নষ্ট করতে মাঠে কাজ করছে।

মাঠে থাকা ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থী সম্পর্কে বিস্তারিত-

জ্যোতি লাল চাকমা মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থীর অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, সে ইউপিডিএফ এর বিভিন্ন আন্দোলন ত্বরান্বিত করেন এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ২০১৭ সালে মুদি মালবাহী একটি ট্রাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়, রমেল চাকমা। রমেল ছিলেন, নানিয়ারচর কলেজের একজন ছাত্র ও ইউপিডিএফ সহযোগী অঙ্গসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ( পিসিপি’র) থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। মালবাহী গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে পিসিপি’র রমেল চাকমাকে তৎকালীন রাঙামাটি রিজিয়ন জিটু-আই মেজর তানভীর এবং নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল বাহালুল আলম আটক করেন। ইউপিডিএফ এর অভিযোগ তৎকালীন মেজর তানভীরের নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম হাসপাতালে রমেল চাকমার মৃত্যু হয়। যদিও সেনাবাহিনীর দাবি ছিল অভিযোগটি মিথ্যা৷ রমেল চাকমা অসুস্থতার কারণ মারা গেছে। রমেল চাকমার তথাকথিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীকে দায়ী করে কঠোর প্রতিবাদ করে ইউপিডিএফ। সারাদেশে আন্দোলনটি ছড়িয়ে পড়ে। রমেল চাকমার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন করার জন্য তৎকালীন গঠন করা হয় ‘রমেল চাকমা আন্দোলন কমিটি’। এই আন্দোলন কমিটির সভাপতি ছিলেন জ্যোতি লাল চাকমা। তার বিরুদ্ধে মামলা সমূহ- অ্যাডভোকেট শক্তিমান হত্যা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সভাপতি বর্মাসহ৭ হত্যাকাণ্ডের মামলার দু’টি এবং সাজেক বাঘাইছড়ি মামলা।

অমর জ্যোতি চাকমা আনারস প্রতীক প্রার্থীর অতীত সম্পর্কে জানা যায়, অমর জীবন পূর্বে ইউপিডিএফ সহযোগী অঙ্গসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ( পিসিপি’র) নানিয়ারচর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। নানিয়ারচর বাঙ্গালী গণহত্যার নেতৃত্বদাতা ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ইউপিডিএফ (মুলদল) গঠিত হলে উক্ত দলটির পক্ষ হয়ে কাজ করেন। প্রথমবার ২০০৩ সালে ইউপিডিএফ (মুল) এর সমর্থনে ৪নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১১ সনে দ্বিতীয়বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবং ইউপিডিএফ (মূল) দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসন হতে নিষেধ অমান্য করে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়িতে ইউপিডিএফ (মূল)-এর একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সালে সেনা ক্যাপ্টেন গাজি হত্যাকান্ডের মদদদাতা ছিলেন। তিনি ইউপিডিএফ মূল দলের অঙ্গসংগঠন তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক। অমর জীবন চাকমার নামে একাধিক মামলা রয়েছে এবং ওয়ারেন্ট রয়েছে। ১৫টি মামলার মধ্যে ৯টি থেকে অব্যাহতি পেলেও এখনো ৬টিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী বলে জানা গেছে। নানিয়ারচর থানার জিআর ১১৩/২০১৮১১৪/২০১৮ মামলার আসামী।

উপরোক্ত দুইজন প্রার্থী যে সরাসরি ইউপিডিএফ এর কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেটা তাদের অতীত কর্মকাণ্ড এবং মামলার বিষয়বস্তু থেকে প্রমাণিত। ইউপিডিএফ সমর্থিত এই দুইজন প্রার্থীর মধ্যে যে কোন একজন বিজয় হলে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগণের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করবে এবং অত্র উপজেলার শান্তি-সম্প্রীতি বিনষ্টসহ ইউপিডিএফ  শক্তিশালী হবে। এছাড়া দুইজন প্রার্থী অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক মনের মানুষ। নির্বাচনে তারা নির্বাচিত হলে নানিয়ারচর এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা শতভাগ।

প্রগতি চাকমা কাপ পিরিচ প্রতীক প্রাথীর অতীত সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৮ সালে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান আ্যাডভোকোট শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের পর নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন প্রগতি চাকমা। নির্বাচিত হওয়ার পর গোপনে ইউপিডিএফ এর সাথে আঁতাত করেন। বর্তমানে নিরপেক্ষ প্রার্থী রূপন দেওয়ানের দোয়াতকলম প্রতীকের ভোট নষ্ট করতে তাকে ইউপিডিএফ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে  নির্বাচন করাচ্ছে। প্রগতি চাকমা (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান) শক্তিমান হত্যার পর চেয়ারে বসে গোপনে ইউপিডিএফ এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। যার কারণে তাকে জেএসএস সংস্কার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রূপন দেওয়ান দোয়াতকলম প্রার্থীর অতীত সম্পর্কে জানা যায়, জেএসএস সংস্কার এম.এন নানিয়ারচর উপজেলা শাখা কমিটির সাংগঠনিক। যে ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার বাদী। ইউপিডিএফ এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কারণে ইউপিডিএফ তার কঠোর বিরোধী। রূপন দেওয়ান একজন তরুণ উদীয়মানা যুবক। তার রয়েছে মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা। ভোটের সুস্থ পরিবেশ থাকলে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙ্গালী  ভোটাররা রূপন দেওয়ানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার মাঠ নষ্ট করতে ইউপিডিএফ কাজ করছে। ভোটাররা বলছে, রুপম দেওয়ান (জেএসএস সংস্কার) একজন শান্তিপ্রিয় সমর্থক ব্যক্তি এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে অসাম্প্রদায়িকতার ধারক-বাহক। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। যার কারণে প্রার্থী হিসেবে রূপম দেওয়ান আদর্শ হতে পারে।

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ-

চেয়ারম্যান প্রার্থী:
অমর জীবন চাকমা
জ্যোতালাল চাকমা
ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ:
বিনয় কৃষ্ণ চাকমা
ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা:
অনিতা চাকমা
ইউপিডিএফ প্রার্থী।

চেয়ারম্যান প্রার্থী:
রূপম চাকমা
জেএসএস সংস্কার প্রার্থী।

চেয়ারম্যান প্রার্থী:
প্রগতি চাকমা
স্বতন্ত্র প্রার্থী।

স্বতন্ত্র: সুজিত তালুকদার (ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী)
সতন্ত্র: গুণ চাকমা (মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান)

জানা যায়, নানিয়ারচর উপজেলাটি ইউপিডিএফ এর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও কৌশলগত আশ্রয়-প্রশ্রয়ের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই উপজেলার চেয়ারম্যান পদের চেয়ারটি ইউপিডিএফ ধরে রাখার অংশ হিসেবে সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে ইউপিডিএফ কোম্পানি কমান্ডার শ্রাবন চাকমা তার আওতাধীন ৩টি সশস্ত্র গ্রুপকে সক্রিয় করছে৷ লংগদুতে ইউপিডিএফ এর দুই সদস্য জেএসএস কর্তৃক নিহত হওয়ার পর ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র গ্রুপগুলো লংগদু অভিমুখে ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ সশস্ত্র গ্রুপগুলো আজ রাত্রে নাগাদ নানিয়ারচর আগমণ করিবেন। নানিয়ারচর ঘিরে রাখবে তারা।

স্থানীয়রা ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা জাল ভোট, ভোট কারচুপি ও ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটাতে পারে। এমনকি ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ইউপিডিএফ প্রার্থীদের ভোট দিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী রূপন দেওয়ান পরাজয় নিশ্চিত করতে পারেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ এর বিশেষ তৎপরতা চললেও তা বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। পুরো উপজেলার মানুষ উৎসব-আমেজহীন নির্বাচন দেখছে।  স্থানীয় ক্ষমতাসীনরাও এখানে প্রার্থী দেয়নি। কোন এক অজানা কারণে অসহায়।

স্থানীয় বাসিন্দা, রবিউল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন ও বিমল চাকমা জানায়, বর্তমানে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দ প্রার্থীকে ভোট প্রয়োগ করে সুস্থভাবে ঘরে ফিরে আসার মত পরিবেশ নেই৷ ইউপিডিএফ আতঙ্ক সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। ইউপিডিএফ ভোটারদের প্রবাহিত করছে। নির্বাচনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করার প্রয়োজন। এবং মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে এমন ইউপিডিএফ প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। সে বিষয়ে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন অফিসকে এগিয়ে আসছে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ ও আবাধ সুস্থ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও এলাকায় টহল জরুরী।

লেখক: হাসান আলী, নানিয়ারচর, রাঙামাটি (২৬ মে ২০২৪)

আগের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর বর্ষপূর্তিতে আলোচনা সভা।
পরের পোস্টপাহাড়ে জনগণের পাশে নেই জেএসএস সন্তু।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন