পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে বিজিবি।

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি: পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাঙামাটি সেক্টরের আওতাধীন রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করেছে। জব্দকৃত কাঠের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০,৬১০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ছয়শত দশ টাকা)।

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) কর্তৃক একটি অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আনন্দপুর এলাকায় একদল চোরাকারবারী বন থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে পাচারের জন্য একত্রিত করছে। তথ্য পাওয়ার পর রাজনগর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাহিদ হাসান, পিএসসি-এর নির্দেশনায় হাবিলদার মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিজিবি টহল দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৬৭.৯১ সিএফটি সেগুন এবং ৯.৮৬ সিএফটি গামারী কাঠ জব্দ করা হয়।

চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান:

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালান প্রতিরোধে রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) চলতি বছরে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ১,২৪০.৫৭ সিএফটি অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়, যার সিজার মূল্য ২১,১২,৭১৫/- (একুশ লক্ষ বারো হাজার সাতশত পনেরো) টাকা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাঠ চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ কাঠ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানের ফলে তাদের এই অবৈধ অর্থের উৎস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিবি অধিনায়কের হুঁশিয়ারি:

রাজনগর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন,
“বন থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে চোরাচালানের ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিজিবির তৎপরতায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কাঠ পাচারের একটি বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচারে লিপ্ত রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চোরাচালান দমন অভিযান আরও জোরদার হবে:

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আভিযানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। উর্ধ্বতন দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করছে এবং যে কোনো ধরনের অবৈধ কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ চোরাচালান বন্ধে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আগামীতেও এ ধরণের অপরাধ দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

আগের পোস্টঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে জেএসএস এর ৭ দফা দাবি!
পরের পোস্টপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় কর্তৃক আদিবাসী শব্দ ব্যবহার!

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন