বন আইন উপেক্ষা করে লামায় জ্বালানি কাঠ পাচার।

0
ছবি: রফিকুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জ্বালানি কাঠ পাচারের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই বিলুপ্তপ্রায় পাহাড়ি বৃক্ষ নিধন করে তা পাচার করা হচ্ছে, যা বিদ্যমান বন আইনের চরম লঙ্ঘন।

প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০-৬০টি অবৈধ জ্বালানি কাঠ বোঝাই গাড়ি এই রুট দিয়ে পাচার হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যেখানে পরিচালিত হচ্ছে চাঁদাবাজি। অভিযোগ রয়েছে, এই পাচারের পেছনে বন বিভাগ, পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেয়াজুপাড়া বন চেকপোস্টের সামনে দিয়েই অবৈধভাবে কাঠবোঝাই ট্রাক যাচ্ছে, কিন্তু কোনো বাধা নেই। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মনচুর আলী জানান, “বন বিভাগ, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা নিয়মিত চাঁদার ভাগ পান, তাই এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয় না। শুধু জ্বালানি কাঠই নয়, গোল কাঠও পাচার হচ্ছে। পারমিটের নামে প্রতারণা করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, এই পাচারের ফলে বন উজাড়ের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন বিভাগ কার্যত নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকার বনাঞ্চল ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। তারা বলছেন, অবিলম্বে যদি প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে পড়বে।

স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।

ছবি: কেয়াজুপাড়া বন চেকপোস্ট
আগের পোস্টআলীকদমে সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।
পরের পোস্টরাঙ্গামাটিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল, শহীদদের স্মরণে ইফতার বিতরণ

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন