বাঘাইছড়ি ব্রাশফায়ার ৮ হত্যা, বিচার দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।

0

হিলনিউজবিডি রিপোর্ট

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গত ১৮ মার্চ ২০২৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে ব্রাশফায়ারে নিহত আটজনের হত্যার বিচার, আহত পঙ্গুত্ব বরণকারীদের উন্নত চিকিৎসা ও পুর্নবাসন দাবিতে আজ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে তাদের স্বজনরা।

নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে উপজেলা সদরে ফেরার সময় নয় মাইল এলাকায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিহতরা হলেন— আব্দুল হান্নান আরব (প্রিজাইডিং অফিসার), আবু তৈয়ব (সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার),আমির হোসেন (সহকারী পোলিং অফিসার), আলআমিন (আনসার সদস্য),বিলকিস আক্তার (আনসার সদস্য), মিহির কান্তি দত্ত, মন্টু চাকমা ও একজন পরে চিকিৎসা অবস্থায় মারা যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর আরও ৩৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও ৬ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। স্থানীয়রা জানান, ব্রাশফায়ারটি আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়েরই অংশ ছিল। সন্দেহের তীর জেএসএস, ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থী জেএসএসের দিকে থাকলেও সন্ত্রাসীরা আজও অধরা।

আজ (১৮ মার্চ ২০২৫) সকালে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে মানববন্ধন করেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং আহত পঙ্গুত্ব বরণকারী ৩৩ জনকে উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও যোগ্যদের চাকরি দেওয়ার দাবি জানান। এসব দাবিসহ পাহাড়ে প্রত্যাহার করা সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে নিহত প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নানের স্বজন বলেন, দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, কিন্তু ছয় বছরেও বিচার পেলাম না। প্রশাসন কী আমাদের বিচারহীনতার মধ্যে ফেলে রাখবে?” একইভাবে সহকারী পোলিং অফিসার আমির হোসেনের পরিবারের সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা কাদের কাছে বিচার চাইব? আমরা তো সাধারণ মানুষ। এই রাষ্ট্র কি আমাদের সন্তানদের জীবন এভাবে কেড়ে নেওয়ার বিচার করবে না?

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। তবে পাহাড়ের মানুষরা চাইছেন, এই বিচার যেন আর কালক্ষেপণ না হয়।

 

 

আগের পোস্টপাহাড় কেটে ক্যাথলিক গীর্জা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস নির্মাণ করছে!
পরের পোস্টআদিবাসী স্বীকৃতির দাবিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে পিসিসিপির স্মারকলিপি প্রদান।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন