পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগত আধিপত্য বিস্তারের নিষ্ঠুর খেলা অব্যাহত রয়েছে। খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে, যা পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।
খিঁচুনি, আর মূর্ছা যাওয়ার ভিডিও
চাকমা অধ্যুষিত নাপিতপাড়ায় বসবাসরত মারমা সম্প্রদায়ের মা-হারা তরুণী পপি মারমা সম্প্রতি উগ্রপন্থী চাকমা কিশোর গ্যাংয়ের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হতে বসেছিল। তার অপরাধ? সে মারমা জাতিগোষ্ঠীর সদস্য, যা চাকমাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়!
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী বিচার চাইতে গেলে শুরু হয় আরেকটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। উপজেলার ৩নং পানছড়ি ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মন্দিরা চাকমা, যিনি একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দলের অনুসারী, ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগ করে বলে, “ধর্ষণের চেষ্টাকারীরা চাকমা নয়, তারা বাঙালি ছিল”—এই মিথ্যা কথা প্রচার করতে হবে!
যখন তরুণী মিথ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরপর আঞ্চলিক দলের সিদ্ধান্তে চাকমাদের নিয়ন্ত্রিত একটি একপেশে বিচার বসানো হয়, যেখানে মারমা সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
তরুণীকে বাধ্য করা হয় বাঙালিদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করতে। কিন্তু যখন সে এতে রাজি হয়নি, তখন ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার মন্দিরা চাকমা তাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ শুরু করে। ভুক্তভোগী জানতে চাইলে কেন তাকে তার জাতি, মা-বাবা ধরে গালিগালাজ করা হচ্ছে, তখনই শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় ভয়ংকর নির্যাতন। হামলার আংশিক ভিডিও পাওয়া গেছে।
ভয়াবহ মারধরের ফলে তরুণী গুরুতর আহত হয়ে পড়ে এবং তাকে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের ভেতরে তার আর্তনাদ, শরীরের খিঁচুনি, আর মূর্ছা যাওয়া—সবকিছু হাসপাতালের পরিবেশ ভারী করে তুলেছে।
এদিকে, অপরাধীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এবং তাদের সমর্থন দিচ্ছে আঞ্চলিক উগ্র গোষ্ঠী ও মন্দিরা চাকমার মতো জনপ্রতিনিধিরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের উগ্র অংশ দীর্ঘদিন ধরে মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। তারা সুযোগ পেলেই মারমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এমনকি চাকমারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাঙালিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে থাকে।
বর্তমানে পাহাড়ের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চাকমা আধিপত্যবাদীরা নিজেদের সম্প্রদায়ের অপরাধ আড়াল করে, আর অন্য সম্প্রদায়ের কেউ অপরাধ করলে সেটাকে ভয়ংকরভাবে প্রচার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, মন্দিরা চাকমাকে অবিলম্বে জনপ্রতিনিধির পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বহুদিন ধরে পাহাড়ে চাকমাদের রাজনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ ছিল না, কিন্তু এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনগণও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সচেতন মানুষ মনে করে, যদি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হয়, তাহলে পাহাড়ে জাতিগত উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং এর দায়ভার মন্দিরা চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দলকেই নিতে হবে।
হামলার আংংশিক ভিডিও
এই বিষয় নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—পাহাড়ে কি শুধুমাত্র চাকমারাই বেঁচে থাকবে? মারমারা কি বারবার নির্যাতিত হয়েই থাকবে?
ধর্ষণের চেষ্টা করা হলো, বিচার চাওয়ার পর নির্যাতন করে হত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া হলো—তাহলে পাহাড়ে ন্যায়বিচার কোথায়?
মানবাধিকার কর্মী আরিফ হাছান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এমন বর্বরতা চলতে থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ভারসাম্য ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। এখন সময় এসেছে, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ানোর!”
সচেতন অনেক চাকমা নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সুস্থ বিচার দাবি করেন।
পপি মারমার উপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা জানতে মহিলা মেম্বার মন্দিরা চাকমার মুঠোফোনে কল দিলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।