রামগড়ে একদিনের ব্যবধানে দুই চালক অপহরণ: একজন মুক্ত, অপরজন এখনও বন্দি।

0

নিউজ ডেস্ক 

খাগড়াছড়ির রামগড়ের জালিয়াপাড়া সড়কের যৌথখামার এলাকায় একদিনের ব্যবধানে পণ্যবাহী দুই গাড়ির চালককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে একজন চালক মুক্তি পেলেও অপরজনকে এখনও আটকে রেখেছে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অপহৃত চালককে উদ্ধারে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় রামগড় জালিয়াপাড়া সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনগুলো পুলিশের নিরাপত্তা প্রহরায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন।

অপহৃতরা হলেন ইমাম উদ্দিন ও খায়রুল ইসলাম। এদের মধ্যে ইমাম উদ্দিন মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন, তবে খায়রুল ইসলাম এখনও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দি রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ঢাকা থেকে গুঁড়ো দুধের চালান নিয়ে খাগড়াছড়ি সদরে যাওয়ার পথে রামগড়ের যৌথখামার এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে পার্বত্য এলাকার একটি আঞ্চলিক সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় তারা চালক খায়রুল ইসলাম ও সহকারী সুজন মিয়াকে (৩০) অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে চালক মুক্তি পাবে—এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে গাড়ির হেলপারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর একদিন আগে, শনিবার একই এলাকায় দীঘিনালাগামী ডিমবোঝাই একটি ট্রাক থামিয়ে চালক ইমাম উদ্দিনকে (৩৮) অপহরণ করে ইউপিডিএফ। তারা মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করে এবং পরে টাকা পরিশোধের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ইমাম উদ্দিন বলেন, “ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। মুক্তিপণ পাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা আমাকে ছেড়ে দেয়।”

অন্যদিকে, কাভার্ডভ্যানের মালিক গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রশিদ নগরের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান মোল্লা মোবাইল ফোনে জানান, অপহরণকারীরা চালকের মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ১ লাখ টাকা পাঠাতে বলে। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং সোমবার রাতে আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু ১ লাখ টাকা পাওয়ার পরও চালক খায়রুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এখন তারা আরও ১ লাখ টাকা দাবি করছে। আসাদুজ্জামান জানান, “অপহরণকারীরা খায়রুলকে বেদম মারধর করছে। মোবাইলে কল দিয়ে তার কান্নাকাটির শব্দ শুনাচ্ছে।”

মঙ্গলবার রামগড়ে বিজিবি জোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় এ অপহরণের বিষয়টি আলোচিত হয়। সভায় বিজিবি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “অপহৃত চালককে উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারে কিছুটা দেরি হচ্ছে।”

রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন জানান, “অপহৃতকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। এছাড়া রামগড় জালিয়াপাড়া সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনগুলো পুলিশের নিরাপত্তা প্রহরায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকাটি ইউপিডিএফ অধ্যুষিত এলাকা। এটি ইউপিডিএফ করতে পারে। এরআগেও সড়কে ইউপিডিএফ মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করেছিল।

আগের পোস্টকলমপতি গণহত্যার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা, পিসিপি’র বিতর্কিত স্মরণ সভা।
পরের পোস্টমহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি জেএসএস-এর শ্রদ্ধা, তবে সন্তু লারমার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন