বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। আভিধানিকভাবে, ‘আদিবাসী’ অর্থ হলো কোনো স্থানের আদিম বা প্রাচীনতম বাসিন্দা। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠী বাঙালিরাই এই ভূখণ্ডের আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতল অঞ্চলে বসবাসরত চাকমা, মারমা, সাঁওতালসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মূলত বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলে আগত এবং তাদেরকে ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। সূত্র:
১। (https://www.jagonews24.com/opinion/article/602780?utm_source=chatgpt.com) ২। (https://www.banglanews24.com/cat/news/bd/46494.details?utm_source=chatgpt.com)
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৮৯ সালে গৃহীত কনভেনশন নং ১৬৯-এ ‘আদিবাসী’ এবং ‘উপজাতি’ শব্দের পৃথক সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এই কনভেনশনের ১(১)(ক) ধারায় ‘উপজাতি’ বলতে এমন জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে যারা একটি দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কম উন্নত এবং যারা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রথা, রীতি-নীতি বা বিশেষ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো এই সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, আইএলও সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাংলাদেশের এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘উপজাতি’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। সূত্র: (https://www.jugantor.com/index.php/tp-ub-editorial/908911)
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-এ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের কথা বলা হয়েছে। এখানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, যা রাষ্ট্রের অবস্থানকে স্পষ্ট করে যে, এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সূত্র: (https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A7%80?utm_source=chatgpt.com)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল (জাবি) তথাকথিত ‘ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’ নামক একটি সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রধান উৎসব চলাকালীন ১২-১৬ এপ্রিল তারিখে নির্ধারিত পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে গত ২৫ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল ও জেলা পরিষদ আইনের (খ খণ্ড) পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে। বিতর্কিত ‘আদিবাসী’ শব্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করেন নৃবিজ্ঞানীরা। তারা মনে করেন, এনজিও, মিশনারী ফান্ডিং থেকে এমনটা করার হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখা উচিত। ২০০৭ সালের জাতিসংঘের ঘোষণার পর থেকে আদিবাসী শব্দটি এস্টাবলিশ করা মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে বামধারার গণমাধ্যম, বামদল, তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং কিছু জ্ঞানপাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই বিতর্কের মূল কারণ ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংবেদনশীল এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্য ইন্ধন জোগাতে পারে। রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও সরকারি যোগাযোগে সঠিক পরিভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিতর্কের সৃষ্টি না হয়।