তঞ্চঙ্গ্যা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার চাকমা যুবক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

0

রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ পাহাড়ি উপজাতি তঞ্চঙ্গ্যা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নিকোলাস চাকমা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত নিকোলাস চাকমা রাঙামাটি শহরের দক্ষিণ কালিন্দিপুর এলাকার মিলন বিকাশ চাকমার ছেলে। গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী তঞ্চঙ্গ্যা নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় রাঙামাটি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করার পর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়। অবশেষে প্রযুক্তির সহযোগিতা এবং স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের ফলে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে নিকোলাস চাকমা তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। গত ২৮ জুন ২০২৪ সালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিম একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু নিকোলাস চাকমা নবজাতককে চুরি করে মহালছড়ির রিপন চাকমা ও পূর্ণিমা চাকমা দম্পতির কাছে দত্তক দিয়ে দেন। আরো জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে নিকোলাস চাকমা রাঙামাটি থেকে পালিয়ে খাগড়াছড়িতে গিয়ে আরেকটি বিয়ে করে সেখানেই সংসার করতেছিলো বলে সংশ্লিষ্ট্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভুক্তভোগী নারী নবজাতক ও নিজের অধিকারের জন্য বিভিন্ন স্থানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি। পরবর্তীতে ৭ জানুয়ারি ২০২৫ সালে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক জানান, “আসামি গ্রেপ্তারের ফলে ভিকটিম ন্যায়বিচারের পথে অগ্রসর হয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে নবজাতককে উদ্ধার এবং ভিকটিমের সুবিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।”

সমতলের কিছু বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা দাবি করে থাকেন, উপজাতি সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ নেই। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামে গত ৫ দশকে উপজাতিদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে তথাকথিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমতলের কিছু মতলববাজ বুদ্ধিজীবি, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলাম লেখক ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝাতে চায় পাহাড়ে ধর্ষক বাঙালিরা। তারা এইও বলে উপজাতিদের মধ্যে ধর্ষণ প্রতিশব্দ নেই। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ রাজশাহী প্রথম আলো পত্রিকায় লিখেন, “দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ৩৩টি ভাষায় ‘ধর্ষণের’ প্রতিশব্দ নেই।
চাকমা, মারমা, খুমি, মাহ্‌লেসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জীবনে ধর্ষণের মতো ঘটনা ছিল না বলেই এর প্রতিশব্দও তৈরি হয়নি। এর বাইরে ম্রোদের কিছু অংশ রেংমিটসা ভাষায় কথা বলত। এই ভাষাতেও ধর্ষণের প্রতিশব্দ নেই। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাপন খুব সাদাসিধে, সেটি পাহাড়ে বা সমতলে যেখানেই তারা থাকুক। তাদের সমাজে অপরাধপ্রবণতাও কম। এর প্রভাব পড়েছে সংস্কৃতি ও ভাষায়। বাংলা ভাষায় ‘ধর্ষণ’ নামে জঘন্য যে অপরাধ, সেটি বেশির ভাগ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমাজে নেই।” একই কলামে বখতিয়ার আহমেদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রথাগত সমাজে ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এ জন্য সেখানে ধর্ষণের মতো বল প্রয়োগও সাধারণত ঘটে না।

গত পাঁচ দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা সংখ্যায় বাঙালিদের তুলনায় বেশি হলেও, এসব ঘটনা মূলধারার গণমাধ্যমে খুব কমই আলোচিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, কোনো বাঙালির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেই তা দ্রুত ও ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। বিশেষ করে বামধারার লোক, গণমাধ্যম ও উপজাতি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা এসব অভিযোগকে প্রকাশ্যে তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে, যা দ্বৈত মানসিকতার প্রতিফলন।

 

আগের পোস্টসেনাবাহিনী প্রধানের পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন।
পরের পোস্টকাউখালীতে সংস্কার কর্তৃক ইউপিডিএফ অধ্যুষিত এলাকার দুই ব্যক্তি অপহরণ।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন