কাউখালীতে সংস্কার কর্তৃক ইউপিডিএফ অধ্যুষিত এলাকার দুই ব্যক্তি অপহরণ।

কাউখালী প্রতিনিধি

0

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী বাজার হতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) মূল সন্ত্রাসী গ্রুপ অধ্যুষিত এলাকার দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে জেএসএস সংস্কার (এমএন গ্রুপ) এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় সূত্রে।

জানা যায়, আজ রবিবার ৩০ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে ঈদ উপলক্ষে সোমবারের পরিবর্তে আজ রবিবার বাজার বসে। ভোর ৬টার দিকে কাউখালী বাজার হতে  ১. শুদ্ধোধন চাকমা, পিতা: জয় কুমার চাকমা ও ২. সুশান্ত চাকমা, পিতা: নিবারণ চাকমা। তারা উভয়ে কাউখালী উপজেলার ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পানছড়ি গ্রামের বাসিন্দা। জেএসএস সংস্কারের সদস্য কনক চাকমার প্রকাশ কালাচুলো নেতৃত্বে তিন জন সন্ত্রাসী এ অপহরণ ঘটনা ঘটায়।

ঘটনার সময় শুদ্ধোধন চাকমা কলা বিক্রি করছিলেন এবং জীপ গাড়ীর শ্রমিক সুশান্ত চাকমা গাড়ী থেকে মালামাল লামাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইউপিডিএফ সূত্র।

ইউপিডিএফ সূত্রের দাবি, সপ্তাহ খানেক আগে সুমন তালুকদার (বৈদ্য) ও বালি চাকমা নামে দু’জন সন্ত্রাসী ফোনে পানছড়ি গ্রামের মুরুব্বীদের কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সে চাঁদার টাকা না পেয়েই আজ সন্ত্রাসীরা বাজারে যাওয়া দুই নীরিহ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে।

অপরণের পর উক্ত দুই ব্যক্তিকে ঘাগড়া এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে সূত্র থেকে।

বিভিন্ন ফোন নাম্বার থেকে অপহৃতের পরিবারের আত্মীয় স্বজনকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে আজকের মধ্যে রাঙামাটিতে গিয়ে যোগাযোগ করার জন্য বলা হচ্ছে।

যেসব নম্বর থেকে চাঁদা এবং হুমকি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ০১৫৭৭১৪৫০৪৪, ০১৬২২২৭৭৬৭৮, ০১৬৪০৯২১৩৪৯, ০১৮৭৭৭৭০৬০৪

তবে একটি সূত্র জানিয়েছেন, মূলত চাঁদার জন্য জেএসএস সংস্কার ওই ব্যক্তিদের অপহরণ করেছে। ইউপিডিএফ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং জেএসএস (সংস্কার এমএন) সন্ত্রাসী সংগঠন। অপহৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে ইউপিডিএফ এর যোগাযোগ থাকতে পারে এমন ধারণা এবং চাঁদা আদায়ের অংশ হিসেবে তাদেরকে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে সংস্কার এমনটা বলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলছেন, কাউখালীতে বিগত ২/৩ বছর ধরে জেএসএস সংস্কার (সুমেন চাকমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক (মার্টিন চাকমা) চাঁদার জন্য ইউপিডিএফ অধ্যুষিত এলাকায় বাসিন্দা এবং ইউপিডিএফ সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের ভয়ভীতি ও অপহরণ করে চাঁদা আদায় করে আসছিল। সমালোচনার পর মার্টিন চাকমা এখান থেকে খাগড়াছড়ি চলে যান। ইউপিডিএফ কাউখালীর সাবেক সংগঠক বহিস্কৃত সুমেন চাকমা (৪২), পিতা: নিংডিঙা মনি সংস্কারে যোগদান করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছিল। সুমেন চাকমার বাড়ি ছিল ৪নং ওয়ার্ড ঘিলাছড়ি, ইউপিডিএফ বহিষ্কার করার পর লংগদু উপজেলা চলে যান। সুমেন ২০২৪ সালের প্রথম দিকে কাউখালী এসে মানুষদের প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করেছিল। পরবর্তীতে সমালোচনা হলে কাউখালী থেকে চলে যায় এবং অন্যান্য সদস্য দিয়ে গোপনে কাউখালীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জেএসএস সংস্কার জড়িত কিনা এই বিষয়ে সত্যতা জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। কাউখালীতে তাদের চোরাগোপ্তা কার্যক্রম থাকলেও প্রকাশ্য কার্যক্রম নেই। বেশিভাগ সময় তারা রাঙামাটি ও ঘাগড়া থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কার্যক্রম কাউখালী নেই, তবে সূত্র জানা গেছে তারা ঘাগড়া বাজার ও রাঙামাটি থাকে।

আগের পোস্টতঞ্চঙ্গ্যা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার চাকমা যুবক।
পরের পোস্টইমাম মুয়াজ্জিনদের পাশে জেলা পরিষদের সদস্য হাবীব আজম।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন