পাল্টাপাল্টি অপহরণের অভিযোগে উত্তেজনা: খাগড়াছড়িতে সংঘাতের আশঙ্কা।

0

পাভেল করাচিন ও রুহুল আমিন তৌহিন | খাগড়াছড়ি 

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় পাল্টাপাল্টি অপহরণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চুক্তি পক্ষ জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) এবং চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে তিনটি পৃথক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার (২ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উত্তর ধুধুকছড়া গ্রাম থেকে লক্ষী চাকমা (তুঙ্গ্যা) নামে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত লক্ষী চাকমার পিতার নাম মৃত সন্তোষ চাকমা। স্থানীয় সূত্র জানায়, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত। বিজলী কুমার চাকমা ও বিপ্লব চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ২৫ জনের একটি দল লক্ষী চাকমাকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। জানা গেছে, লক্ষী চাকমার ছেলে জুনেন চাকমা ইউপিডিএফের সঙ্গে যুক্ত, যা এই অপহরণের কারণ হতে পারে।

এর আগে, গতকাল ৩১ মার্চ ২০২৫ বিকাল আনুমানিক ৫:৩০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া থেকে দুই গ্রামবাসীকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন ননাই ত্রিপুরা (২৮), পিতা মৃত তীর্থরায় ত্রিপুরা এবং বিক্রম ত্রিপুরা (৪০), পিতা লাল মোহন ত্রিপুরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র কমান্ডার জুনেল চাকমা ও চাঁদা সংগ্রাহক কলম্বাস চাকমার নেতৃত্বে এই অপহরণ সংঘটিত হয়। অপহৃতদের জেএসএস সন্তু গ্রুপের তথ্যদাতা বা ‘সোর্স’ সন্দেহে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, অপহৃত ব্যক্তিরা নিরীহ ও দরিদ্র গ্রামবাসী।

মাটিরাঙা তাইন্দংয়ে ইউপিডিএফ কমান্ডার জুনেল চাকমার নেতৃত্বে অপহরণের ঘটনার জবাবে জেএসএস সন্তু গ্রুপ প্রতিশোধ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সকালে পানছড়ির ধুধুকছড়া থেকে জুনেল চাকমার পিতাকে তার নিজ এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনাকে তাইন্দংয়ের অপহরণের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পাল্টাপাল্টি অপহরণের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা শান্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

একটি সূত্র বলছে, ননাই ত্রিপুরা (২৮) ও বিক্রম ত্রিপুরা (৪০) কে ইউপিডিএফ ছেড়ে দিলে লক্ষী চাকমা (তুঙ্গ্যা ৬০) কে জেএসএস ছেড়ে দিতে পারে।

আগের পোস্টউপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যান এবং বরাদ্দে বৈষম্য।
পরের পোস্টপানছড়িতে ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় নেতার ভাই অপহরণ, বাঘাইছড়িতে গোলাগুলি।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন