পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে মুক্তির বার্তা।

0

হান্নান সরকার

শেখর চাকমা (ছদ্মনাম) খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই অঞ্চলটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য যেমন পরিচিত, তেমনি এটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও কুখ্যাত। শেখরের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এমন এক পরিবেশে, যেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ক্রমাগত উত্থাপিত হয়েছে। তার পরিবার ছিল সাধারণ কৃষক পরিবার, যারা জুম চাষ এবং স্থানীয় কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল ছিল। শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও শেখর ছিলেন স্বপ্নবাজ এবং তার জাতিগত পরিচয় নিয়ে গর্বিত। তিনি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের অধিকার ও সম্মান রক্ষার জন্য সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

তরুণ বয়সে শেখরের মধ্যে একটি প্রতিবাদী মনোভাব গড়ে ওঠে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা, সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষ এবং জাতিগত তথাকথিত অধিকারের দাবি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৭০-এর দশক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। শেখর, তারুণ্যের উদ্দীপনায় এবং জাতির জন্য কিছু করার স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ হয়ে, জেএসএসের সশস্ত্র শাখায় যোগ দেন।

জেএসএস-এর সশস্ত্র জীবন: আদর্শ ও বাস্তবতার সংঘাত: শেখর যখন জেএসএস-এ যোগ দেন, তখন তিনি ছিলেন একজন তরুণ, যার মনে ছিল জাতিগত অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। জেএসএস-এর সশস্ত্র শাখায় তিনি প্রথমে কালেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন, যার কাজ ছিল স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা। পরে তিনি সংগঠনে সেকশন কমান্ডার হিসেবে উন্নীত হন, যেখানে তার দায়িত্ব ছিল সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করা এবং দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু শেখরের এই সশস্ত্র জীবন ক্রমশ তার আদর্শের সঙ্গে সংঘাতের মুখে পড়তে থাকে। তিনি দেখতে পান যে, সংগঠনের নামে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে, তা প্রায়শই লাখ লাখ টাকার। কিন্তু তার হাতে আসত মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা, যা তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বুঝতে পারেন যে, সংগঠনের উচ্চপদস্থ নেতারা এই চাঁদার বড় অংশ নিজেদের জন্য রেখে দিচ্ছেন। এই অর্থের বেশিরভাগই ব্যক্তিগত বিলাসিতা ও ক্ষমতার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল, জনগণের কল্যাণের জন্য নয়।

শেখরের মনে হতাশা জন্ম নেয়। তিনি প্রশ্ন করতে শুরু করেন, তিনি কি সত্যিই জাতির জন্য কাজ করছেন, নাকি তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে? সংগঠনের আদর্শের নামে নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার, খুন-গুম এবং চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো তাকে ভাবিয়ে তুলছিল। তিনি দেখেছেন, অনেক নিরীহ মানুষকে শুধুমাত্র সংগঠনের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে। এই সব কাজের পেছনে জাতির অধিকারের কোনো প্রকৃত অগ্রগতি ছিল না। বরং, সংগঠনের নেতারা ক্ষমতা ও অর্থের জন্য এই সংগ্রামকে ব্যবহার করছিলেন।

ইউপিডিএফ-এ যোগদান: নতুন স্বপ্ন, পুরনো হতাশা: ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর জেএসএস-এর সশস্ত্র কার্যক্রম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু চুক্তি জেএসএস এর একাংশের কাছে অপূর্ণ মনে হয়, এবং এর ফলে নতুন নতুন গ্রুপের উত্থান ঘটে। গঠিত হয় জেএসএস ভেঙে ইউপিডিএফ। শেখর, জেএসএস-এর প্রতারণা ও অনিয়মে হতাশ হয়ে, জেএসএস সহযোগী অঙ্গসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সশস্ত্র শাখায় যোগ দেন। ইউপিডিএফ তাকে স্বায়ত্তশাসন ও একটি লাভজনক জীবনের স্বপ্ন দেখায়। তিনি ভেবেছিলেন, এই নতুন সংগঠন তাকে তার আদর্শের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

কিন্তু ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে কাজ করার সময় শেখর বুঝতে পারেন যে, এখানেও একই ধরনের চাঁদাবাজি, হিংসা এবং ক্ষমতার খেলা চলছে। জনগণের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল, কিন্তু সেই অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। সংগঠনের নেতারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন, আর শেখরের মতো সাধারণ সশস্ত্র সদস্যরা তাদের পরিবারের জন্য সামান্য টাকা নিয়ে সংগ্রাম করছিলেন। তিনি দেখলেন, তার থেকে অনেক জুনিয়র সদস্যরা চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে, কিন্তু তার নিজের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

শেখরের মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে: এই সংগ্রাম কি সত্যিই জাতির জন্য, নাকি এটি কিছু নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য? তিনি বুঝতে পারেন যে, স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন কেবল একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। সংঘাত, হত্যা এবং রক্তপাত ছাড়া এই সংগ্রামে কোনো আলোর সম্ভাবনা নেই। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকেন, তিনি কার জন্য এই জীবন বেছে নিয়েছেন? তার পরিবার, তার স্ত্রী-সন্তানের জন্য তিনি কী দিতে পারছেন?

সশস্ত্র জীবনের কঠিন বাস্তবতা: পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন। শেখরের জীবন ছিল ঝড়-বৃষ্টি, মশা-পোকামাকড় এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে কাটানো। গহিন অরণ্যে দিনের পর দিন কাটাতে হতো তাকে, যেখানে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার ভয় এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে খুন হওয়ার আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে ফিরত। তিনি তার স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখতে পেতেন না। পরিবারের জন্য সামান্য টাকা পাঠানোর পরও তাদের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত কিছু করতে পারতেন না।

দলের নির্দেশে তাকে অনেক নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করতে হয়েছে। চাঁদাবাজির জন্য জনগণকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং কখনো কখনো হত্যার মতো কাজে জড়িত থাকতে হয়েছে। এই সব কাজ তার মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছিল। তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি যে আদর্শের জন্য সংগ্রামে নেমেছিলেন, তা কেবল একটি মায়া। সংগঠনের নেতারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের জন্য তাকে এবং তার মতো অনেককে ব্যবহার করছেন।

শেখরের জীবনে আরেকটি বড় ধাক্কা আসে যখন তিনি জানতে পারেন যে, সশস্ত্র সদস্যরা যদি সরকারি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন, তবে সংগঠন তাদের আর গ্রহণ করে না। এসময় নজরদারি করা হয়। এই তথ্য তাকে বিস্মিত ও হতাশ করে। তিনি ভাবতে থাকেন, তিনি কার জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করছেন? তার জীবনের মূল্যবান সময় কি শুধুই অপচয় হচ্ছে?

আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত: একটি নতুন পথের সন্ধান: দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর সশস্ত্র জীবনের পর শেখরের মনে একটি গভীর পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে পারেন যে, এই সংগ্রামে কোনো লক্ষ্য নেই, কোনো আলো নেই। তিনি নিজেকে দুটি পথের সামনে দাঁড়িয়ে দেখেন: হয় তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, নয়তো আত্মহত্যা করবেন। আত্মহত্যার চিন্তা তার মনে এলেও তিনি তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন। তিনি ভাবেন, তারা কোনো দোষ করেনি, তাদের জন্য তাকে বাঁচতে হবে।

শেখর সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি সরকারি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। তার মনে ভয় ছিল—সরকার কি তাকে ক্ষমা করবে? তার অতীতের অপরাধের জন্য তাকে কি শাস্তি দেওয়া হবে? কিন্তু তিনি সাহস করে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর আন্তরিকতা ও উদার নীতি তার মন থেকে সব ভয় ও শঙ্কা দূর করে দেয়। সরকার তাকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় গ্রহণ করে এবং পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়।

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা, আলোর পথে: আত্মসমর্পণের পর শেখরের জীবনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি এখন আর পাহাড়ের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন না, প্রশাসন বা প্রতিপক্ষের ভয়ে রাত কাটান না। তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তার মেয়েরা এখন বাবার আদর পায়, আর তার স্ত্রী তার অধিকার ফিরে পেয়েছে। শেখর এখন খোলা আকাশের নিচে স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেঁচে আছেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। আমার ভুলের কারণে আমি অন্ধকার জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু এখন আমি আলোর জগৎ ফিরে পেয়েছি। আমি আমার আত্মীয়দের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করছি। এখন আর কোনো ভয় নেই।”

শেখরের গল্প শুধু তার নিজের জীবনের নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িত অনেক তরুণের জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, তার মতো অনেক সশস্ত্র সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তারা সংগঠনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও চাঁদাবাজির বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু সংগঠনের কঠোর নজরদারি এবং শাস্তির ভয় তাদের পিছিয়ে রাখছে। শেখর মনে করেন, যদি সরকার আরও উদার নীতি গ্রহণ করে এবং সশস্ত্র সদস্যদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়, তবে অনেকেই আলোর পথে ফিরে আসবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগ্রামের শিকড় গভীর এবং জটিল। এই অঞ্চলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তথাকথিত অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত হয়ে আসছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে জেএসএস এবং পরবর্তীতে ইউপিডিএফ-এর মতো সংগঠনগুলো এই দাবিকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। কিন্তু এই সংগ্রাম ক্রমশ ব্যক্তিগত স্বার্থ, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার খেলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

শেখরের গল্প থেকে বোঝা যায় যে, এই সংগ্রামে জনগণের কল্যাণের চেয়ে নেতাদের ব্যক্তিগত লাভ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়নি। বরং, এটি নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ক্ষমতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কার্যক্রম এখনো চলমান।

শেখরের মতো অনেক তরুণ এই সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছেন আদর্শের টানে। কিন্তু বাস্তবতা তাদের সামনে এই আদর্শের মুখোশ খুলে দিয়েছে। সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, হত্যা এবং অত্যাচার জনগণের মধ্যে ভয় ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের উদার নীতি এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেখরের বার্তা, শান্তি ও পুনর্বাসনের আহ্বান: শেখর চাকমার জীবনের গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। তিনি বলেন, “সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর কঠোর নজরদারি না থাকলে অনেক সশস্ত্র সদস্য আত্মসমর্পণ করবে। তারা শান্তির পথে ফিরতে চায়।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন আরও বেশি সশস্ত্র সদস্যদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সুযোগ ও নিরাপত্তা পেলে অনেকেই তাদের অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসবে।

শেখরের গল্প শুধু তার নিজের জীবনের নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন। এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের পরিবর্তে সংলাপ, পুনর্বাসন এবং উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। শেখরের মতো মানুষের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে সবসময়ই থাকে, এবং সঠিক সুযোগ পেলে তারা তাদের জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।

শেখর চাকমার জীবনের গল্প একটি জটিল ও আবেগঘন যাত্রার বিবরণ। তিনি তার তরুণ বয়সে আদর্শের টানে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, এই সংগ্রাম জনগণের কল্যাণের জন্য নয়। তার আত্মসমর্পণ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত তার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার গল্প আমাদের শিখিয়েছে যে, শান্তি ও পুনর্বাসনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, যদি সঠিক সুযোগ ও সমর্থন থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগ্রামের সমাধান সহজ নয়, তবে শেখরের মতো মানুষের গল্প আমাদের আশা দেয়। সরকার, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। শেখরের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে, এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আশা কখনো হারানো উচিত নয়।

আগের পোস্টকবুলিয়তের ফাঁদে বন্দি পার্বত্য বাঙালি: আটকে আছে জমি রেজিষ্ট্রেশন।
পরের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রামে আরও সেনা মোতায়েন চান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন