নিউজ ডেস্ক:
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির জন্য আরও বেশি সংখ্যায় সেনা মোতায়েন জরুরি বলে মনে করছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। বিদেশি গোয়েন্দাদের ইন্ধন ও প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে পাহাড়ে দায়িত্ব পালনে গিয়ে নিহত সেনা সদস্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিও জানান তারা।
‘সমস্যা সংকুল পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তির অন্বেষণ’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজক ছিল রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া প্লাজায় আলোচনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলেন, দেশি-বিদেশি শক্তির সরাসরি ইন্ধনে পার্বত্য এলাকা অশান্ত হয়।
এ সময় অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নয়। এটা বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এটা একটা আঞ্চলিক সমস্যা।’
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল আল ইউসুফ বলেন, ‘সিভিলিয়ানদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য আমরা এপিসি কিনেছি। আমাদের এপিসি কেন পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন করা হয় না?’
সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলেন, পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধে সব পক্ষকে ইতিবাচক হতে হবে। বনে গাছ কাটা বন্ধ করতে পারলে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে যাবে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল উই ক্যান থীন বলেন, ‘অন্তত আগামী ৫ থেকে ১০ বছর সব ধরনের কাঠ, বাঁশ, বালু-পাথর আহরণ বন্ধ করা গেলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থ প্রবাহ বন্ধ হবে। পরিবেশও রক্ষা পাবে।’
পার্বত্য সংকট প্রসঙ্গে কবি ও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী পাহাড়ে উসকানি দিচ্ছে।
কবি ও সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘এই আধিপত্যবাদের সেবাদাস বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এরাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মূল পৃষ্ঠপোষক।’
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মোট কতজন সেনা কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামে শহীদ হয়েছেন? তাদের নাম জাতির জানা দরকার, যাতে সবাই জানতে পারে এরা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজেদের প্রাণ দিয়েছেন।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করা ৩৭ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।



