ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার: রাজার সনদ প্রসঙ্গ!

0

‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’ এই বহুলপ্রচলিত প্রবাদটির হুবহু প্রতিফলন আজও দেখা যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তথাকথিত সার্কেল চীফ নামধারী রাজাদের মাঝে। ইতিহাসে কোনো কালে তারা রাজা ছিলেন না; ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন কেবল সুবিধাবাদী শাসনের অংশ হিসেবে তাদের “চীফ” উপাধি দিয়েছিল। রাজ্য নেই, সিংহাসন নেই, বাহিনী বা যুদ্ধাস্ত্র নেই, ক্ষমতাও নেই; অথচ আচরণ এমন, যেন তারা প্রজাপরিচালনায় নিয়োজিত কোনো ঐশ্বরিক শাসক। বাস্তবে তারা ইতিহাসের ভুল অধ্যায়ে আটকে থাকা প্রতীক, যাদের রাজনীতি আজও মিথ্যা মর্যাদার আবরণে ঢাকা। তাদের সেই ভণ্ডামিই আজ নিধিরাম সর্দারের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে পার্বত্য জনপদে।

বান্দরবানের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি প্রবল আলোচনায় এসেছে তা হলো “রাজার সনদ”। জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকরি, কিংবা নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে এই সনদকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বাধ্যবাধকতার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি কোথায়?

রাজার সনদের উৎপত্তি ও বিতর্ক: বোমাং সার্কেলের তথাকথিত রাজা দীর্ঘদিন ধরে এই সনদের বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করছেন, এমন অভিযোগ বহুলপ্রচারিত। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়। আবার অর্থ দিলে অনেক ক্ষেত্রেই বাদ পড়ে যাবতীয় কাগজপত্রের জটিলতা। অর্থাৎ, সনদটি একটি ‘বাণিজ্যিক দলিল’-এ পরিণত হয়েছে বললে অতিরঞ্জন হবে না।

১৩ অক্টোবর এ নিয়ে বান্দরবানে অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। সচেতন মহল ও আইনজীবীদের ভাষায়, এটি একটি অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক হয়রানি, যা সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক জটিলতার ফাঁদে ফেলে রাখছে।

আইনের দৃষ্টিতে রাজা না চিফ সার্কেল: এখন প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (Chittagong Hill Tracts Regulation, 1900) কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি (১৯৯৭)-এর কোথাও কি “রাজা” শব্দটির উল্লেখ আছে? উত্তর হলো, না।
কোনো প্রামাণ্য আইনি নথিতে “রাজা” শব্দটি পাওয়া যায় না; বরং ব্যবহৃত হয়েছে “চিফ সার্কেল” বা “সার্কেল চিফ” শব্দ।

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির ৩৭নং ধারায় তিনটি সার্কেল: চাকমা, বোমাং ও মং-এর কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি সার্কেল একজন করে সার্কেল চিফ দ্বারা পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু কোথাও “রাজা” বলা হয়নি। সুতরাং “রাজার সনদ” পরিভাষাটি আইনি নয়, বরং প্রশাসনিক কল্পনার ফসল।

সার্কেল চিফের ক্ষমতা ও ভূমিকা: শাসনবিধির ৩৮ ধারায় সার্কেল চিফকে ডেপুটি কমিশনারের উপদেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তারা প্রশাসনিক বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু ডেপুটি কমিশনার তাঁদের পরামর্শ মানতে বাধ্য নন। এছাড়া, চিফ সার্কেল খাজনা আদায়ে সহায়তা করেন, মৌজার হেডম্যান নিয়োগে পরামর্শ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। তবে এই ক্ষমতা কখনোই এমন নয় যে, জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকরি বা নাগরিক সনদের ক্ষেত্রে তাঁর অনুমোদন ছাড়া কিছু করা যাবে না।

সুতরাং “রাজার সনদ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন সম্ভব নয়” এমন বিধান শাসনবিধিতে কোথাও নেই।

জমি বন্দোবস্ত ও মৌজা ব্যবস্থার মূলনীতি: ১৮৯২ সালের শাসনবিধিতে পার্বত্য অঞ্চলকে ৩৩টি তালুকে বিভক্ত করে মৌজা ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯০০ সালের বিধিতে ৩৯০টি মৌজা গঠন করা হয়।
৩৪ ধারায় বলা আছ, মৌজার হেডম্যানের সুপারিশ ছাড়া কোনো জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, হেডম্যানের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সার্কেল চিফ বা রাজা শব্দের কোনো উল্লেখ নেই।

এ থেকে স্পষ্ট যে, ভূমি বন্দোবস্তে সার্কেল চিফের ভূমিকা পরামর্শমূলক, নির্দেশমূলক নয়।

পার্বত্য চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনের দৃষ্টিতে সনদ: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির জেলা পরিষদ আইনের খ খন্ডের ৪(ঘ)(৪) উপ-ধারায় বলা আছে, যে ব্যক্তি জেলা পরিষদের সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান, তাঁর সম্প্রদায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হেডম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর চেয়ারম্যানের সনদ বিবেচনা করে সার্কেল চিফের কাছ থেকে একটি সনদ নিতে হবে।

অর্থাৎ, এই সনদটি কেবল জেলা পরিষদের অ-উপজাতীয় সদস্য পদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখানে কোথাও জমি বিক্রয়, চাকরি, বা নাগরিক সনদের ক্ষেত্রে সার্কেল চিফের অনুমোদন আবশ্যক বলা হয়নি।

বাঙালি জনগোষ্ঠীর হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ: বান্দরবানের বাঙালি বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাজার সনদ পেতে তাদের ওপর অসংখ্য উদ্ভট শর্ত আরোপ করা হয়। ১৫-২০টি কাগজপত্র দাখিল করতে হয়, আর এসবের অজুহাতে অর্থ আদায় চলে।
ফলে এই সনদ এখন সাধারণ বাঙালির কাছে “সোনার হরিণ” হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করা হয়েছে, যেন বাঙালিদের প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা যায়।

যদিও সরকারিভাবে এই সনদের প্রয়োজনীয়তার কোনো ব্যাখ্যা নেই, তবু স্থানীয় প্রশাসন নানা অজুহাতে জমির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রাখে। এতে নাগরিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এবং রাষ্ট্রের সংবিধানসম্মত সমঅধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

আইন বনাম বাস্তবতা ও প্রশাসনিক জটিলতার ফাঁদে সাধারণ মানুষ: আইনের কোথাও “রাজার সনদ” বাধ্যতামূলক নয়, তবু বাস্তবে তা যেন একটি অঘোষিত প্রশাসনিক ফাঁদ।
ডেপুটি কমিশনার অফিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই সনদের অনুপস্থিতিতে জমি রেজিস্ট্রেশন আটকে রাখছে, চাকরির আবেদন গ্রহণ করছে না। অথচ আইন অনুযায়ী এসব কাজের জন্য রাজার বা সার্কেল চিফের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

আইনজীবীদের মতে, এটি একটি অসাংবিধানিক প্রয়োগ, যা সমতা ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। কিন্তু বান্দরবানে এই সমতা কার্যত ভঙ্গ হয়েছে।

ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উপজাতীয় শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানসম্মত একক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় পুনর্বিবেচনার দাবি: রাজার সনদ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি শুধুমাত্র প্রশাসনিক খামখেয়ালিপনার ফল নয়, বরং এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অসমতা ও নীতিগত অস্পষ্টতার প্রতিচ্ছবি। যে সনদের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, সেটিকে প্রশাসনিক নথিপত্রে বাধ্যতামূলক করা সংবিধানের চেতনা ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা বলছেন, আজ প্রয়োজন এই তথাকথিত রাজার সনদের আইনগত পর্যালোচনা ও বাতিল ঘোষণা। পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন আবারও বিভাজনের রাজনীতিতে না জড়ায়, সে দায় নিতে হবে রাষ্ট্রকেই। কারণ সংবিধান বলে, “কোনো নাগরিকের অধিকার রাষ্ট্রের অনুমোদিত বৈষম্যে পরিণত হতে পারে না।”

উল্লেখ যে, দীর্ঘদিন ধরে বাঙালিরা জমি বেচাকেনা, চাকরি ও বিভিন্ন কাজে হেডম্যান প্রতিবেদনের জন্য হয়রানির শিকার হচ্ছে। তা অবসানে গত ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাফর ও অ্যাডভোকেট মো.শাহজাহান সার্কেল চিফ কর্তৃক ইস্যুকৃত স্থায়ী বাসিন্দা সনদ এবং হেডম্যান প্রতিবেদন দাখিলের আইন বহির্ভূত নিয়ম বাতিলের দাবি জানিয়ে ডেপুটি কমিশনার বান্দরবান বরাবর আবেদন করেছে। লিখিত আবেদনে আইনজীবীদ্ধয় জানান, তারা পার্বত্য জেলায় স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশের নাগরিক। পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা দায়রা জজ আদালতে কর্মরত রয়েছেন।
‘দ্যা চিটাগাং হিলট্রেক্টস রেজিস্ট্রেশন ১৯০০ এর ১৮(২)(সি)নং বিধি অনুসারে সরকারের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্তে বিধি প্রণয়ন করার অধিকারী এবং উক্ত বিধি অনুসারে প্রণিত রুলস ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্যা সিএইচটি এর ১২ নং বিধি অনুসারে অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, দান, বণ্টন, বন্ধকি দলিল, অবস্থাবর সম্পত্তির লীজ দলিল, অবমুক্তির সার্টিফিকেট, স্টেট ও সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সংক্রান্ত দলিল সমূহের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একই বিধিমালায় ১৭ বিধি অনুসারে কোন দলিলে অস্থাবর সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ না থাকলে, উক্ত দলিল নিবন্ধন যোগ্য হয় না। বর্ণিত বিধিমালায় সার্কেল চিফ এর সনদ কিংবা হেডম্যান প্রতিবেদন সংযুক্তির বিধান না থাকা স্বত্বেও বেআইনি ভাবে ও অবৈধভাবে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে ও নামজারি কার্যক্রমে সার্কেল চিফ কর্তৃক ইস্যুকৃত স্থায়ী বাসিন্দা সনদ ও হেডম্যান প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জমা দিতে বলা হয়। ’দ্যা চিটাগাং হিলট্রেক্টস রেজুলেশন ১৯০০ এর রুলস ফর দ্যা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্যা সিএইচটি এর ২৫ নং বিধিতে দলিল নিবন্ধনের পূর্বে দলিল সম্পাদনকারীগণ’কে শনাক্ত করার বিধান রয়েছে। যা উক্ত বিধি প্রণয়ন সময় অর্থাৎ ১৯০০ সালে কঠিন দু:সাধ্য থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০২৩ অনুযায়ী শতভাগ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির পর উক্ত পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজতর হয়েছে। দ্যা চিটাগাং হিলট্রেক্টস রেজুলেশন ১৯০০ এর বিধান অনুযায়ী ১৯০০ সালে রুলস ফর দ্যা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্যা সিএইচটি প্রণয়ন সময় হইতে ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অধ্যাদেশ প্রণয়ন পুর্ববতী সময় পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাগরিকদের উক্ত জেলার বাসিন্দাদের সমর্থনে কোন দলিলপত্র ছিল না বিধায়, কাজের সুবিধার্থে বোমাং সার্কেল চিফের কাছ থেকে সনদপত্র ইস্যু করা হলেও ২০০৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অধ্যাদেশ মূলে নাগরিকদের অনুকূলে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ পূর্বক ছবি সহ জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করার উক্ত সনদপত্র আইনগত ভাবে অকার্যকর এবং অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। উক্ত বোমাং সার্কেল চিফের স্থায়ী বাসিন্দা সনদপত্র ইস্যু সংক্রান্ত একাধিক জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। উক্ত সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বান্দরবান জেলার নাগরিকদের আর্থিক এবং মানসিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এ রূপ পরিস্থিতিতে বোমাং সার্কেল চিফ সংক্রান্তে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রচলিত আইন ও বিধিতে সরাসরি সাফ কবলা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোন বাধা-নিষেধ না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সাফ দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে না এবং বেআইনি ভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাগণকে বায়নানামা দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসার খরচসহ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে ইচ্ছুক জমি বিক্রেতাগণ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কিছুক্ষেত্রে অসাধু জমি বিক্রেতাগণ একাধিক ব্যক্তিকে বায়নানামা দলিল সম্পাদন করে দেওয়ায় ক্রেতাগণের মধ্যে দেওয়ানী ও ফৌজদারি বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ১৯০০ সালে দ্যা চিটাগাং হিলট্রেক্টস রেজুলেশন ১৯০০ এর অধীনে রুলস ফর দ্যা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্যা সিএইচটি-এ জমির নামজারি সুনির্দিষ্ট বিধান নাই। ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাতন্ত্র আইনের ১৪৩ ধারা অনুসারে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) নামজারীর কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত বিধান অনুসরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা বান্দরবান পার্বত্য জেলায় নামজারীর কার্যক্রম চালু করা হলেও ক্রেতার স্থলে বিক্রেতাকে নামজারি কার্যক্রমে দরখাস্তকারী হিসাবে সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, যা আইনসংগত নয় এবং কষ্ট সাধ্যও বটে।জমি বিক্রয়ের পর বিক্রেতার স্বার্থ নি:শেষ হওয়ায় নামজারি কার্যক্রমে বিক্রেতার আগ্রহ কম থাকায় নামজারী কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পর্যবসিত হয়। উপরন্তু নামজারি কার্যক্রমে হেডম্যান প্রতিবেদন দাখিলের বিধান চাপিয়ে দেওয়া, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধির কোন বিধান দ্বারা সমর্থিত নয়। এ রূপ অবস্থায় হেডম্যান প্রতিবেদনের অজুহাতে দরিদ্র ক্রেতা-বিক্রেতাগণ থেকে হেডম্যান কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ রশিদবিহীন অবৈধ অর্থ আদায় করছেন, যা চাঁদাবাজির শামিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে হেডম্যান প্রতিবেদনের নামে বাঙালি হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এই হয়রানি বন্ধে হেডম্যান প্রতিবেদন ও সার্কেল চীফ প্রথা বিলুপ্তি দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে।

 

আগের পোস্টরাঙামাটিতে সেনা অভিযানে অস্ত্রসহ ২ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক।
পরের পোস্টকোটার নেপথ্যে সমতা, নাকি সমতার নামে কোটা: মনজিলা ঝুমা।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন