স্টাফ রিপোর্টার | পার্বত্য চট্টগ্রাম
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে জেলা পরিষদ উপজাতিদের আধিপত্য বিস্তারে ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদে উপজাতি কোটা সংরক্ষণ করে আসছিল। ওই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন বাঙালি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হলো, তখন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ রাঙ্গামাটি/বান্দরবান/খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও এর আওতাধীন হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে ১১-২০তম গ্রেডের শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্মারক নং: ২৯.০০.০০০০.০০০.২১৪.২২.০০০২.২৫-৭৭, তারিখ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিকট নথিভুক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
উক্ত প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (বিধি-১ শাখা) ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ০৫.০০.০০০০.০০০.১৭০.১১.০০১০.২৪.২৪৬ জারি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব প্রদান করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জবাবে বলা হয়েছে যে—উচ্চ আদালতের রায় এবং সরকার কর্তৃক প্রণীত নতুন কোটা নীতিমালা (২৩-০৭-২০২৪ খ্রি.) অনুযায়ী কোটায় নির্ধারিত প্রার্থীরা না থাকলে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদ সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে, এবং কোনো বিশেষ জাতি, গোষ্ঠী বা জেলার বাসিন্দাদের চাকরিতে ‘অগ্রাধিকার’ প্রদানে সুযোগ নেই।
তবে একইসঙ্গে স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নিয়োগ সংক্রান্ত এমন একটি ধারা আছে যেখানে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এ ধারা কার্যকর করার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ—তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুরোধ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠানো চিঠির উত্তরে জনপ্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। মন্ত্রণালয় বলেছে: “আপনাদের প্রশ্ন নির্বাচিত/প্রেরিত হয়েছে; আইনগত দিকটি আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনা করাই সঙ্গত হবে এবং সেই মতামতের ভিত্তিতে দেখা হবে।”
বাংলাদেশে উপজাতি জনগোষ্ঠীর আনুমানিক অনুপাত ১ শতাংশেরও কম—তবু অতীতে তাদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রায় ৫ শতাংশ কোটা ধার্য থাকায় সমন্বয়ের অভাব ও অনুপাতগত বৈষম্য তৈরি হওয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও উচ্চ আদালতের রায়ের পরে সরকার কোটা কাটা-ছেঁড়ায় যাই নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে উপজাতিদের জন্য ১ শতাংশ কোটা বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবু পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় নিয়োগনীতি—বিশেষত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তুলনায় অন্যান্য ক্ষুদ্র উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি অনুন্নত প্রদর্শন এখনো বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বলা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগে এখনো ৯০ শতাংশের বেশি উপজাতি সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা দীর্ঘদিন ধরে উপজাতি কোটাবিহীন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ দাবী করে আসছে। তারা বলছে, স্থানীয় প্রশাসনিক প্রয়োগে পার্থক্য রয়ে গেলে পাহাড়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা আরো গভীর হবে। অন্যপক্ষে, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অবস্থান হল উপজাতীয় আধিপত্য বিস্তার করা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক ওই চিঠি সরকারের বর্তমান নীতিমানের প্রতিফলন; কিন্তু কোটা-ধারা ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের দ্বিধা নিষ্পত্তির জন্য এখন প্রয়োজন আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, যা না এলে বিষয়টি প্রশাসনিক ও সামাজিক উভয়ভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কি হবে তা এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেল।
এই নিয়ে সচেতন মহল বলছেন, আদালতের কোটা নিয়ে চূড়ান্ত রায় থাকার পরও পার্বত্য মন্ত্রণালয় কোটা নিয়ে মতামত চাওয়া এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সমাধান না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।



