তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্থগিত পার্বত্য ভূমি কমিশনের বৈঠক।

0

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের আগামী ১৯ অক্টোবর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাঙালি সংগঠন, সাংবাদিক, লেখক ও ব্লগার অ্যাকটিভিস্টদের তীব্র প্রতিবাদ, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় এবং গণঅসন্তোষের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

কমিশনের পক্ষ থেকে স্থগিত হওয়ার পত্রটি স্বাক্ষর করেন, মোঃ সাহাব উদ্দিন, সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। স্মারক নং- পাচভূবিনিক/খাগড়া-৫৫ পত্রে ভূমি কমিশনের আহবানকৃত সভাটি অনিবার্য কারণ বশতঃ স্থগিত করার কথা জানায়।

গত ৭ অক্টোবর পাচভূবিনিক/খাগড়া-৪৮, স্মারক সূত্রে জানা যায়, কমিশনের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল রাঙামাটি জেলা পরিষদে অবস্থিত পার্বত্য ভূমি কমিশনের শাখা কার্যালয়ে। কিন্তু বৈঠকের খবর প্রকাশের পর থেকেই বাঙালি সংগঠন, হিল ব্লগার ফোরাম এই বৈঠকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, কমিশনের বর্তমান কাঠামো এবং কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ও উপজাতি-নিয়ন্ত্রিত। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি স্থায়ী নাগরিকদের ভূমি ও বসতভিটা কেড়ে নেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের অভিযোগ, এই কমিশনের মাধ্যমে “প্রথাগত আইন” বা “শাসনবিধি”র আড়ালে বাঙালিদের উচ্ছেদ ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন— “রাষ্ট্রীয় আইন ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো কমিশন কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে?” তারা বলেন, কমিশনের কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি আইন ও সংবিধানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকারের জন্য হুমকি।

অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের নয় সদস্যের মধ্যে সাতজনই উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতমূলক প্রবণতা স্পষ্ট। এ অবস্থায় বাঙালি প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষিত থাকায় বাঙালি সমাজে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবাদ বাড়তে থাকায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কমিশন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি স্থগিত ঘোষণা করে। তবে নতুন বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

পার্বত্য বাঙালি সংগঠনের এক মুখপাত্র জানান, “আমরা কোনোভাবেই এমন একপেশে কমিশন মেনে নেব না। এই কমিশন পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিদের উচ্ছেদ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সংবিধান অনুযায়ী ভূমি আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

অন্যদিকে হিল ব্লগার ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাষ্ট্র ও বাঙালির স্বার্থে সবসময় অনলাইন প্রচারণা চালিয়ে কমিশনের বিতর্কিত আইন বাতিল ও কমিশনের পুনর্গঠনের দাবি জানাবে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কমিশনের বৈঠক স্থগিত হওয়াকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি নাগরিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই প্রতিবাদ পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণসচেতনতার একটি শক্ত প্রতিক্রিয়া হয়ে উঠেছে।

 

আগের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি কমিশনের বৈঠক ঘিরে নতুন শঙ্কা।
পরের পোস্টপিসিসিপি’র প্রতিবাদে ভূমি কমিশনের বৈঠক স্থগিত।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন