উপজাতিরা কী ধর্ষণ করে? স্বজাতি কর্তৃক পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী: সমাধান প্রথাগত বিচারে

0

কাপ্তাইয়ে তিন পাহাড়ি যুবকের হাতে স্বজাতি নারী ধর্ষিত — পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা: প্রথাগত নিয়মে বিচার, তবুও উপজাতি সংগঠনগুলোর নীরবতা!

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড চংড়াছড়ি মূখ এলাকায় এক মারমা প্রতিবন্ধী নারীর ওপর সংঘটিত এক নৃশংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বজাতি তিন পাহাড়ি যুবক ওই নারীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ করে তাকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা করে তোলে।

এ ঘটনায় গত ১৭ অক্টোবর প্রথাগত উপজাতি সামাজিক বিচারে অভিযুক্ত তিন যুবককে ভিকটিমের জন্য তিন লাখ টাকা এবং সমাজের নামে একটি শুকর ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এবং নারী থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে শুকরের জন্য। এভাবেই একটি ভয়াবহ অপরাধকে তথাকথিত ‘প্রথাগত শাস্তি’ দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সিএইচটি টাইম বরাতে জানা যায়, ধর্ষকরা হলেন, ১) অনুচিং মারমা(৫০) (২) কালা মারমা (৫৫) ও (৩) মং উ মারমা (৩৫)। ধর্ষণের পর বিচারের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সিং থোয়াই উ মারমা নিশ্চিত করেছেন।

৩নং চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু ওয়েশ্লিমং চৌধূরীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে বলেন, বিচার হয়ে যাওয়ার পরে আমি ঘটনাটি শুনেছি। তিনি বলেন, এলাকার কার্বারীরা এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বেসরকারিভাবে বোমাং সার্কেল কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্বারী অংমা খৈ মারমা, প্যানেল চেয়ারম্যান সাবেক মেম্বার ও কার্বারী সিং থোয়াই উ মারমা ও মংনু চিং মারমা এই তিনজনের নেতৃত্বে এই সামাজিক বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিচারকারি কার্বারী ও প্যানেল চেয়ারম্যান সিং থোয়াই উ মারমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান করে ফেলছি। বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ভিকটিম মহিলাটি ষোলআনা সুস্থ নয়; বারো আনার মতো সুস্থ। একজনের সাথে সম্পর্ক করতে দেখে অন্য আরেকজনে তার সাথে সম্পর্ক করে; এভাবে তিনজনের সাথেই উক্ত নারীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে মহিলাটি গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে উক্ত ভিকটিম নারীর পেট ব্যথা শুরু হলে তার পেটে টিউমার হয়েছে বলে জানালেও এক পর্যায়ে একজন গ্রাম্য ধাত্রী উক্ত ভিকটিম গর্ভবর্তী বলে জানালে বিষয়টি জনসম্মুখে উঠে আসে। এরপর আমরা স্থানীয় তরুন-তরুনীদের সম্পৃক্ত করে ১৫ জনের কমিটি করে সামাজিকভাবে বসে ভিকটিমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তিনজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে দেখান। এরপর সংশ্লিষ্ট্যরা সকলে তাদের অপরাধ স্বীকার করলে আমরা সকলেই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে অপরাধকারি তিনজনকে প্রতিজন এক লাখ ১০ হাজার টাকা করে মোট তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দিই।

এই ঘটনায় উক্ত ভিকটিমকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে জানিয়ে সিং থোয়াই উ মারমা কার্বারী বলেন, আমরা উক্ত জরিমানার অর্থগুলো থেকে তিন লাখ টাকা অনাগত বাচ্চাটির জন্য ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখা হবে আর আমাদের সমাজের প্রথা-রীতিমতো বন্যা(শুকর) দিতে হয় তাই সমাজের জন্য তিন অপরাধীর কাছ থেকে ৩০ হাজার এবং ভিকটিমের কাছ থেকে ৫ হাজার মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।

এই ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে সমাজের জন্য শুকর কিনা হবে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, অনাগত বাচ্চাটির কোনো দোষ নাই। তাই তার সুস্থভাবে ডেলিভারির পাশাপাশি ভবিষ্যত লালনপালনের জন্য আমরা তিন লাখ টাকাগুলো রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই জরিমানা টাকাগুলো আদায়ে সংশ্লিষ্ট্য অভিযুক্তদেরকে তিনমাস সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নির্মম এই ঘটনাটি শুনেই চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম ও তার পরিবারকে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিতে অনুরোধ করলেও অজ্ঞাত কারনে এখনো পর্যন্ত তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান কামাল।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উক্ত এলাকাটি পাহাড়ের একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিকদলের সশস্ত্রবাহিনীর দখলে থাকায় তাদের চাপে ভিকটিম পরিবারটি আইনের আশ্রয় নিতে পারছেনা বলে জানিয়েছে এলাকার স্থানীয় সূত্র। নিরাপত্তা বাহিনীর একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি প্রচার হলে প্রথমেই উক্ত এলাকায় একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এবং তাদের প্রত্যক্ষ বাধার কারনে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় আনতে পারেনি।

ভিকটিমের একমাত্র মা ও ভাই ছাড়া আর কেউই তার পাশে নেই এবং ভিকটিম একজন প্রতিবন্ধি নারী মন্তব্য করে একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা সকলেই আঞ্চলিকদলের রাজনীতির সাথে জড়িত তাই প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলের প্রত্যক্ষ চাপে ভিকটিম অন্তসত্তা নারী ৫ মাসের পেটের সন্তানের পিতা কে এবং তাকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণকারি তিন অভিযুক্তের বিচার দাবি করতে পারছে না।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা পাহাড়ে ‘সামাজিক বিচার’-এর নামে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত প্রথার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এমন অনৈতিক বিচার সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

বিস্ময়করভাবে, এমন ঘৃণ্য অপরাধের পরও পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস, কেএনএফ সহ অন্যান্য উপজাতি সংগঠনগুলো রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। অথচ, যখন কোনো বাঙালির বিরুদ্ধে পাহাড়ি নারীর প্রতি ‘কথিত ধর্ষণ’ বা ‘নিপীড়নের’ অভিযোগ ওঠে, তখনই এসব সংগঠন ও তাদের সহযোগী মহল তীব্র আন্দোলন, প্রচার-প্রচারণা এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার শুরু করে, যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়িতে কথিত ধর্ষণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, তার বিপরীতে কাপ্তাইয়ের এই ঘটনায় তাদের সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ভয়ানক দ্বিমুখী মানসিকতার পরিচয় বহন করছে।

আগের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রাম টাস্কফোর্সের ১২তম সভা স্থগিত।
পরের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরকারী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন