পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা বর্মাছড়ি, যেন এক অজানা রহস্যের আড়ালে আবৃত। খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি মাত্র ৬০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। উপজেলার সবচেয়ে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এটি, উত্তরে লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম, লেলাং ও কাঞ্চননগর ইউনিয়ন দিয়ে ঘেরা। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুসারে, এখানকার জনসংখ্যা মাত্র ৬,৮৩১ জন – যার মধ্যে ৬,৬৫৩ জন বৌদ্ধ, ৯৯ জন হিন্দু, ৬১ জন মুসলিম এবং ১৮ জন খ্রিস্টান। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি বৈচিত্র্যময় সমাজের ছবি আঁকে, যেখানে শান্তির ছায়ায় লুকিয়ে আছে অন্ধকারের ছায়া।
এই ইউনিয়নটি একটি চরম দুর্গম অঞ্চল, যেখানে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, ঝিরি-ঝর্ণা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে যেতে হয়। সভ্যতার ছোঁয়া এখানে কমই পৌঁছেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল – চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পের কার্যকরী সীমা এখানে পৌঁছায় না। শুকনাছড়িতে একটি ক্যাম্প থাকলেও, বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা কভার করা তার পক্ষে অসম্ভব। বর্মাছড়ির কিছু অংশ খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে এবং কিছু রাঙ্গামাটির কাউখালীতে পড়েছে, যা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর প্রভাবাধীন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, এখানে ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র গ্রুপের হেডকোয়ার্টার রয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই হেডকোয়ার্টারের অধীনে কয়েকটি সার্কেল, কোম্পানি, প্লাটুন এবং সেকশন রয়েছে, যা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘাঁটিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। সশস্ত্র সদস্যদের প্রকাশ্য বিচরণ স্থানীয়দের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন এক অদৃশ্য শাসনের ছায়ায় তারা বাঁচতে শিখেছে।
ইউপিডিএফ-এর এই প্রভাবের ফলে, স্থানীয় জনজীবন ভয়ের ছায়ায় আবৃত। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্ল্যাছড়ি, বর্মাছড়ি এবং কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অংশে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের প্রায় ৭০০-৮০০ জন সশস্ত্র সদস্যের উপস্থিতি রয়েছে। এখানে কেন্দ্রীয় নেতা জয় বসু, চীফ কালেক্টর রবি চন্দ্র অকির্ড এবং অন্যান্য নেতারা অবস্থান করেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এখানে সাম্প্রতিক সময়েও ইউপিডিএফ নতুন সদস্য নিয়োজিত করতে একাধিক গোপন সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করেছে। যেখানে অছাত্র, হতদরিদ্র, বেকার যুবকদের ভর্তি করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের সশস্ত্র তৎপরতা শক্তিশালী করার কার্যক্রম এই এলাকায় থেকে করে থাকে। তাদের এই ‘নিরাপদ আবাসন’ রক্ষার জন্যই সেনা ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করা হচ্ছে – কারণ এটি স্থাপিত হলে ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং নির্যাতনের উৎস শুকিয়ে যাবে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, অপহরণ, গুম-খুন, এবং অস্ত্রের ভয় থেকে মুক্তির জন্য সেনা ক্যাম্পের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, সন্ত্রাসবাদ দমনের অংশ হিসেবে গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ সালে খিরাম ক্যাম্প থেকে সেনা দল রওনা হয়। সেখানে খাস জমিতে অস্থায়ী সেনা শিবিরের জন্য তাঁবু স্থাপন করে এবং হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শুরু করে।

কিন্তু ইউপিডিএফ এবং তাদের সমর্থক জনপ্রতিনিধিরা এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা আর্য কল্যাণ বনবিহার এবং স্থানীয়দের জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে, সড়কে বাঁশ-গাছ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে কাজে বাধা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই বিরোধিতায় ভয়ভীতি এবং জরিমানার হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে জড়ানো হয়েছে। ক্যাম্প নির্মাণের স্থান বিহারের দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার, কিন্তু তারা এটিকে বিহারের জায়গা দাবি করে। উপজাতি সম্প্রদায়ের দাবি সত্ত্বেও, কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। দেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুসারে, খাস জমির মালিক সরকার (১ নম্বর খতিয়ান)। অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পের জায়গায় বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে দখল করা হয়েছে, যেমন কতুকছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি, পানছড়ি এবং নানিয়ারচরে। এসব জায়গা আজ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বর্মাছড়িতে আর্য কল্যাণ বনবিহারকে ব্যবহার করে সেখানে একধরণের ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে ইউপিডিএফ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে খিরাম ক্যাম্প থেকে সেনা সদস্যরা ক্যাম্প নির্মাণে রওনা হলে, ইউপিডিএফ-সমর্থকরা উপজাতি জনসাধারণকে ভয় দেখিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয় এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি-র কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে:
“১। বৌদ্ধ বিহারের জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করা হলে তা ধর্মীয় পরিহানী হবে। ভিক্ষুদের ধ্যান কার্যে বিঘ্ন ঘটবে। ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকাগণ ধর্মীয় কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিহারে আসতে ইতস্ততবোধ করবেন। ধর্মীয় পূজা-পার্বণ, নানা উৎসবসহ বিহারের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।
২। আমাদের এলাকায় কোনো চুরি-ডাকাতি, খুন, চাঁদাবাজি, অবৈধ মালামাল বহন তথা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না। এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলে না। বর্মাছড়ি বাজারে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আমরা উভয় সম্প্রদায় শান্তিতেই বসবাস করছি।
৩। বর্মাছড়ি এলাকার কাছাকাছি খিরাম ও শুকনাছড়ি আর্মি ক্যাম্প নামে দুটো সেনা ক্যাম্প রয়েছে। কাজেই নতুন করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন মোটেই কাম্য নয় যা ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তির লঙ্ঘন। এ চুক্তিতে সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।
৪। আমরা জনগণের মতামত নিয়েছি। তারা কেউ ক্যাম্পের পক্ষে নয়। তারা ক্যাম্প চায় না।
৫। আর্মি ক্যাম্প হলে আমাদের মেয়েরা সম্পূর্ণ অনিরাপদ ও অরক্ষিত হয়ে যাবে। তারা একা একা আর কোথাও যেতে পারবে না। বাসায়ও একা একা থাকতে পারবে না। একা একা জঙ্গলে, জুমে, ঝরণা থেকে পানি আনতে, বাজারে যাওয়া আসা করতে ও প্রতিবেশির বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারবে না। তাদেরকে সব সময় যৌন হামলার ভয়ে থাকতে হবে। কারণ আপনারা সব সময় সব সৈন্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এমন গ্যারান্টি দিতে পারবেন না।
৬। আমাদের এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী নেই। কেউ হয়তো আপনাদের কাছে ভালো সাজার জন্য, কিংবা আপনাদের কাছ থেকে টাকা খাওয়ার জন্য সন্ত্রাসের ব্যাপারে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে থাকতে পারে। আমাদের এলাকায় চাঁদাবাজিও হয় না। এত ভেতরের এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করে না। চাঁদাবাজি হয় বড় রাস্তায়।
৭। যদি কোনো সময় নিরাপত্তার দরকার হয়, আমরা নিজেরা এসে আপনাদের বলবো। আপনাদের সহযোগিতা চাইব। দয়া করে জনগণের অমতে আমাদের এলাকায় ক্যাম্প দেবেন না।”
এই স্মারকলিপির প্রত্যেক পয়েন্ট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এটি ইউপিডিএফ-এর স্বার্থ রক্ষার একটি ছলনাময় দলিল। প্রথম পয়েন্টে ধর্ম পালনে বাধার অভিযোগ তোলা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বত্র হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা প্রদান করে, কখনো বাধা দেয়নি। এটি ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের একটি উদাহরণ, যা উগ্র চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিতীয় পয়েন্টে এলাকায় শান্তি এবং কোনো অপরাধ না থাকার দাবি করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে উপজাতি জনগোষ্ঠী ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসের শিকার। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয়ে চাঁদা দিতে হয়, অস্ত্রের ভয়ে মানুষ মুখ খোলে না। বাঙালি সংখ্যালঘু হওয়ায় ভেদাভেদের প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু এটি শান্তির ছদ্মবেশ।
তৃতীয় পয়েন্টে খিরাম এবং শুকনাছড়ি ক্যাম্পের উল্লেখ করে নতুন ক্যাম্পকে পার্বত্য চুক্তির লঙ্ঘন বলা হয়েছে। কিন্তু খিরাম বর্মাছড়ির বাইরে, এবং শুকনাছড়ি একা বিস্তীর্ণ এলাকা কভার করতে পারে না। চুক্তিতে অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের কথা আছে, কিন্তু ইউপিডিএফ নিজেই ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রসিত বিকাশ খীসা এবং রবি শংকর চাকমার নেতৃত্বে চুক্তির বিরোধিতা করে গঠিত। চুক্তি মানেন না, অথচ এখন তার দোহাই দিয়ে স্বার্থ রক্ষা করছে – এটি তাদের স্বার্থপরতার প্রমাণ।
চতুর্থ পয়েন্টে জনগণের মতামতের দোহাই দিয়ে ক্যাম্পের বিরোধিতা করা হয়েছে, কিন্তু ইউপিডিএফ অস্ত্র এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে শাসন চালায়। সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই; যারা বিক্ষোভে জড়িত, তারা নিয়ন্ত্রিত। অনেকে গোপনে সেনা ক্যাম্পের দাবি জানান, কারণ তারা চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র থেকে মুক্তি চান।
পঞ্চম পয়েন্টে সেনাবাহিনীর কারণে মেয়েরা অনিরাপদ হবে বলা হয়েছে, যা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ১৯৬০-এর কাপ্তাই বাঁধ প্রকল্প থেকে শুরু হয়েছে। ১৯৭২ সালে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) গঠন, ১৯৭৫-৭৭ সালে রাষ্ট্রীয় সম্পদে আক্রমণ এবং ১৯৭৯ সালে বাঙালি পুনর্বাসনের সময়ও সেনা নিয়োজিত ছিল। যা সময়ে সময়ে বাড়িয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক সেনা উপস্থিতি ছিল। যদি সেনা নারীদের প্রতি অপরাধ করতো, তাহলে চেহারায় পরিবর্তন দেখা যেত, কিন্তু তা হয়নি। এটি নারীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে সেনা এবং বাঙালিদের বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র।
ষষ্ঠ পয়েন্টে সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজির অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু এটি ভয়ের প্রকাশ। সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শীতকালীন সহায়তা প্রদান করে। যদি কোনো সন্ত্রাস না থাকে, তাহলে সেনা ক্যাম্পে ভয় কেন? এটি ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসী তৎপরতা লুকানোর চেষ্টা।
সপ্তম পয়েন্টে জনগণের অমতের দোহাই দিয়ে ক্যাম্প না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাপ্রধান অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারেন। এজন্য জনগণের অনুমতি লাগে না; এটি অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ।

সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এখানে অপরিহার্য, কারণ ইউপিডিএফ একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, যারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চালাচ্ছে। তারা ভারত এবং মিয়ানমার থেকে ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করে, দেশের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী এবং বাম দলগুলোর সমর্থন নিয়ে যুবকদের বিপথগামী করছে। সেনা ক্যাম্প স্থাপিত হলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে, চাঁদাবাজির উৎস শুকাবে, এবং শান্তির সুবাতাস বইবে। বিরোধিতা করা হচ্ছে কারণ এটি ইউপিডিএফ-এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে – তাদের হত্যা, অপহরণ এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের চক্র ভেঙে পড়বে। চুক্তিপক্ষ জেএসএস এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলো ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে, কারণ তারা জাতিগত বিভক্তি তৈরি করে।
এই বিরোধিতায় ইউপিডিএফ-মদদপুষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জড়িত, যেমন বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুইচালা চৌধুরী, ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি মারমা, আর্য কল্যাণ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল চাকমা এবং সমাজকর্মী পাইচিউ মারমা। স্থানীয় সূত্র জানায়, তারা ইউপিডিএফ-এর নির্দেশে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে। এদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।

অনেক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে সেনা ক্যাম্পের পক্ষে কথা বলেন, কারণ তারা নিরাপত্তা চান। এই গল্প শুধু বর্মাছড়ির নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি এবং ঐক্যের লড়াইয়ের। সেনাবাহিনী এখানে না থাকলে সন্ত্রাসের ছায়া আরও গাঢ় হবে, কিন্তু তার উপস্থিতি আলো ছড়াবে – একটি সত্যিকারের শান্তির পথে।



