রাষ্ট্রবিরোধী ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা: জনপ্রতিনিধির মুখোশে বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুন।

0

জিহান মোবারক | কাউখালী 

রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ২ নং ফটিকছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা, জনপ্রতিনিধির মুখোশে লুকানো এক দেশদ্রোহীর নাম। প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সেনাবাহিনীবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি এখন পাহাড়জুড়ে সমালোচনায়। পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও সেনা-বাঙালি হত্যাকারী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামক সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাঙালি ও শান্তিপ্রিয় পাহাড়িদের মধ্যে।

অদ্য মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকালে উষাতন চাকমা তার নিজ ফেসবুক আইডি, Ushaton Chakma Rangei থেকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমরা আপানাদের বিরুদ্ধে না। আপনারা যদি আমাদেরকে আমাদের মতো থাকতে না দেন, সেটা অন্যায় হবে। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করতে বাধ্য হব। ক্যাম্প হলে অবধারিতভাবে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। তাই আপনারা দয়া করে ক্যাম্প দেবেন না। আপনারা আপনাদের স্থায়ী ব্যারাকে ভালো থাকুন, আমাদেরকেও ভালো থাকতে দিন।

সভাপতি
ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম।”

উষাতন চাকমার সেনা বিরোধী ফেসবুক পোস্ট

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর তিনি একই ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ” আমি ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে আহ্বান জানাচ্ছি খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাধীন বর্মাছড়ি ইউনিয়নে আর্য কল্যাণ বনবিহারের জমি বেদখল করে সেনা ক্যাম্প নির্মাণের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি দেয়ার জন্য।

জেএসএস সভাপতিকে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৭ নং দফা মোতাবেক সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও ছয়টি সেনানিবাস ছাড়া সামরিক বাহনিী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য। কিন্তু সেটা না করে ড. ইউনূস সরকার পূর্ববর্তী সরকারের মতো নতুন করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করছে।

এই অবস্থায় চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষ হিসেবে জেএসএসের দায়িত্ব হলো এই ক্যাম্প স্থাপনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। আমি আশা করি জেএসএস বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের প্রতিবাদে অবিলম্বে একটি বিবৃতি দিয়ে জনগণের কাছে তার অবস্থান স্পষ্ট করবে।”

ছবি: পার্বত্য চুক্তির বিরুদ্ধে গঠন হওয়া ইউপিডিএফ মদদপুষ্ট জনপ্রতিনিধি চুক্তির দোহাই দিয়ে সেনা ক্যাম্পের বিরুদ্ধে করা ফেসবুক পোস্ট

তার এই পোস্ট রাষ্ট্রীয় বৃহৎ বাহিনীকে হুমকি দেওয়ার সামিল বলে মনে করেন, স্থানীয় বাঙালি সম্প্রদায়। তার সম্প্রতি ও বিগত বছরগুলোর কর্মকাণ্ড সমূহ: যা সেনা ক্যাম্পের বিরুদ্ধে তৎপরতা।

গত ২৪ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৫, উষাতন চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে উপস্থিত হয়ে সেনা ‘ক্যাম্প-হেলিপ্যাড’ নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। তৈরি করেন, স্মারকলিপি ও জনসমর্থন। তিনি সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়ান এবং ইউপিডিএফ কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “চেয়ারম্যান উষাতন খোলাখুলি বলেছে—এই ক্যাম্প আমরা বসতে দেব না।” তার এই অবস্থান সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।

ছবি: বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন বন্ধ করতে ইউপিডিএফ প্রতিনিধি হিসেবে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেছেন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম রেখে

জুন মাসের সমাবেশ: সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার:

গত ১২ জুন ২০২৫, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার কচুখালী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় ইউপিডিএফ-সহযোগী সংগঠন ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’ আয়োজিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন উষাতন চাকমা। “কল্পনা চাকমা অপহরণ দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করেন এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দমননীতির বাহন বলে উল্লেখ করেন। উপস্থিতদের বক্তব্যে বলা হয়, তার বক্তব্য ছিল সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভাজনমূলক।

ছবি: কলমপতি কোলাপাড়া ইউপিডিএফ কর্মসূচিতে উষাতন চাকমা

মে মাসের কর্মসূচি: ইউপিডিএফের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে:

এর আগে ১২ মে ২০২৫, বিকেল তিনটায় উষাতন চাকমা ও তার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কাউখালী থেকে রাঙামাটি সদর উপজেলার কতুকছড়ি গিয়ে ইউপিডিএফ-এর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে উস্কানিমূলক বিক্ষোভ পালিত হয়।

গত ১৯ মে ২০২৫, কাউখালী ৪নং কলমপতি ইউনিয়নের কোলাপাড়া ইউপিডিএফ কর্মসূচিতে সংগঠনের প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসা মোবাইল ফোনে বক্তব্য দেন। একই মঞ্চে উষাতন চাকমা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ‘দখলদার বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই বাহিনী চলে গেলে পাহাড়ের শান্তি ফিরবে।”

রাষ্ট্রীয় মঞ্চে সেনাবাহিনী-বিরোধিতা:

গত ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি, রাঙামাটি উপজাতি ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক সভায় উষাতন চাকমা প্রকাশ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নালিশ করেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে তিনি বলেন, “এরা পাহাড়ে ভয় সৃষ্টি করছে, অপহরণ করছে, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে, লংগদুতে সেনা, পুলিশের সহযোগিতায় পাহাড়িদের ঘর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।” সরকারি জনপ্রতিনিধির মুখে এমন বক্তব্যে কমিশন ও প্রশাসনের মধ্যে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তারা এই বক্তব্য ইউপিডিএফ এর নোট দেওয়া ছিল।

২০২৩ সালে রাঙামাটি মানবাধিকার কমিশনের সেনাবাহিনী, পুলিশের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান উষাতন চাকমার ইউপিডিএফ এর হয়ে অভিযোগ করেন

স্মারকলিপি ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ:

উষাতন চাকমা এর আগে কাউখালী নাভাঙা সেনা ক্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরু হলে বর্মাছড়ির মত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেন, যা পরবর্তীতে বটতলীতে স্থানান্তরিত হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লগিং করে ইউপিডিএফের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য প্রভাব খাটান। এমনকি ইউপিডিএফ-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনিক সহযোগিতাও আদায় করেন।

সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ ও সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষণার অভিযোগ:

জনপ্রতিনিধি হয়েও উষাতন চাকমা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও ভিজিটি কার্ড ইউপিডিএফ সমর্থকদের মধ্যে বণ্টন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ তিনি আত্মসাৎ করেন। সরকারি প্রকল্পের অর্থ ইউপিডিএফ কর্মীদের মাধ্যমে সরবরাহের প্রমাণ স্থানীয়দের হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার ইউনিয়ন ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত যার কারণে সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তদারকি হয়না। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, তার ইউনিয়নের কার্যক্রম সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদের যে তথ্য ওয়েবসাইট আছে সেখানে হালনাগাদ হয়না। তিনি বেশিভাগ সময় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে উপজেলা ও জেলার বাহিরে অন্য জেলায় গিয়ে ইউপিডিএফ এর গোপন বৈঠক ও মিছিল সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেন। এছাড়াও বেশিভাগ সময় নিজ ইউনিয়নে না থেকে কাউখালী সদরে থেকে ইউপিডিএফ এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য:

অভিযোগ অনুযায়ী, উষাতন চাকমা ইউপিডিএফ-এর সহযোগী সংগঠন ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার ফেসবুক পোস্ট ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এমন তথ্য উঠে আসে। কচুখালী এলাকায় ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা প্রদান এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কার্যক্রমে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

জনশঙ্কা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা:

স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা মো. আব্দুর করিম ও মো. জহির বলেন, “উষাতনের ভয় এখন কাউখালীর মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে সে আরও বেপরোয়া হয়েছে।” স্থানীয় পাহাড়িরাও বলেন, “উষাতন এখন ইউপিডিএফের অংশ, প্রশাসন কিছু বলে না; আমরা বাধ্য হয়ে তাদের কর্মসূচিতে যাই। না গেলে আমাদের জরিমানা ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

সম্পত্তি বৃদ্ধি ও গোপন আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগ:

চেয়ারম্যান হওয়ার পর অল্প সময়েই উষাতন চাকমার ব্যাংক একাউন্ট, জমি ও সম্পত্তি বিভিন্ন স্থানে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ। তাদের বক্তব্য—“রাষ্ট্রের টাকা ও ইউপিডিএফের তহবিলের মিশ্রণে উষাতন এখন লাখপতি।” অভিযোগ রয়েছে, উষাতন চাকমা নিজ ফটিকছড়ি ইউনিয়নের বাহিরে কাউখালী উপজেলা সদর কচুখালী-হেডম্যান পাড়া জায়গাক্রয় করে বাড়ি করেছেন৷ তার এই অর্থের উৎস কী? এবং সবসময় চলাচলের সময় ২/৩ জন বডিগার্ড রাখেন, তাদের খরচ কীভাবে বা কোনো উৎস থেকে আসে? এছাড়াও চেয়ারম্যান হওয়ার আগে এনজিও লিন এ চাকরি করছিলেন৷ তার পূর্বে কোনো অর্থ-সম্পদ ছিল না৷ কিন্তু এখন এত অর্থ-সম্পদ কোথায় থেকে? স্থানীয়রা তার আয়-ব্যয়ের হিসাব, ইউপিডিএফ এর সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল ফোন ট্যাকিং ও সম্পদ উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগে অপসারণ দাবি:

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে—উষাতন চাকমাকে ইউপিডিএফের সহযোগী হিসেবে তদন্ত করে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও গ্রেফতার করতে হবে। তাদের মতে, “যে ব্যক্তি সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করে, রাষ্ট্রের আইন অমান্য করে এবং ইউপিডিএফের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, সে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

ছবি: উষাতন চাকমা নিজ ইউনিয়ন এবং উপজেলার বাহিরে খাগড়াছড়ি লক্ষ্মীছড়ি বর্মাছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়ার কথার সময়

সে যে ইউপিডিএফ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত তার ছবি, ভিডিও, বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনা ক্যাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া পোস্ট রয়েছে।

জনপ্রতিনিধির মুখোশে উষাতন চাকমা এখন এক ভয়ের নাম। তার সাম্প্রতিক তৎপরতা পাহাড়ের শান্তি, প্রশাসনের কর্তৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি—রাষ্ট্র যেন আর বিলম্ব না করে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, যাতে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, উষাতন চাকমা ২০২৩ সাল থেকে নজরদারির আওতায় ছিল৷ বিভিন্ন সময় কাউখালী সেনা ক্যাম্পে ডেকে তাকে সতর্ক করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিলতার কারণে উষাতন চাকমা এখন বেপরোয়াভাবে ইউপিডিএফ এর কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে৷

গত ২৭ অক্টোবর রাতে
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে “খাগড়াছড়ির বর্মাছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসিত খীসা/মূল) এর নাশকতামূলক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড প্রসঙ্গে” জানায়, এই রাজনৈতিক অপকৌশল ও সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি সংস্থার সমন্বিত এবং দ্রুত পদক্ষেপই একমাত্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষা করতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি অবশ্যম্ভাবী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়াতে সেনাবাহিনী বর্মাছড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী পেট্রোল বেস অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিন্তে সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পার্বত্য অঞ্চলে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকবৃন্দ ইউপিডিএফ সহ সকল রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে মাতৃভূমির অখন্ডতা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব দৃঢ়তার সাথে পালন করতে দেশবাসীর নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চেয়ারম্যান উষাতন চাকমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আগের পোস্টরাজা ত্রিদিব রায় পশ্চিম পাকিস্তানের শেষ রাজা: মেজর নাসিম অব.
পরের পোস্টখাগড়াছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন