সেনা অভিযানে চাঁদার উৎসের কোটি টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ: মাথায় হাত ইউপিডিএফের।

0

খাগড়াছড়ি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় বুধবার (২৯ অক্টোবর) সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ইউপিডিএফ (মূলদল) দ্বারা সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে। বর্মাছড়ির দেওয়ান পাড়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। অভিযানের টের পেয়ে ইউপিডিএফ সদস্যরা পালিয়ে যায়। জব্দকৃত কাঠ বর্তমানে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে রিজার্ভ বনাঞ্চল এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের নিষিদ্ধ গাছগাছালি কেটে খাল দিয়ে পাচার করে আসছিল। অবৈধ কাঠ এবং আদায়কৃত চাঁদার অর্থ দিয়ে তারা প্রতিদেশী দেশগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন থেকে ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করত।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বর্মাছড়িতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযান পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করার চেষ্টা করলে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াতে থাকে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সম্প্রীতি রক্ষার কারণে ক্যাম্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, বর্মাছড়ি, খিরাম এবং সত্তার খাল এলাকায় ইউপিডিএফের কাঠ পাচারের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। এই অর্থ ব্যবহার করে তারা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালায়।

অভিযানের পর স্থানীয় অধিবাসীরা সেনাবাহিনীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সব ধরনের অবৈধ কাঠ পাচার বন্ধ করার জন্য তাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়ে অস্ত্রবাজদের কার্যক্রম মূলত এই কাঠের চাঁদারের অর্থায়নের কারণে গড়ে উঠেছে।

সূত্র জানায়, অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ হওয়ার পর ইউপিডিএফ নেতারা লক্ষ্য করেছেন যে তাদের দীর্ঘদিনের অর্থ উপার্জনের উৎস একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কাঠের চাঁদার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম চলছিল, সেই ঘাঁটি এবার ভেঙে যাচ্ছে। আর ইউপিডিএফ এখন কার্যত মাথায় হাত-অবৈধ কাঠ পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সাংগঠনিক পরিকল্পনায় আঘাত আসে।

আগের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা উপস্থিতি: শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য।
পরের পোস্টসার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ সেনাবাহিনী; কেন পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরিহার্য?

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন