পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কেবল অপরিহার্যই নয়, বরং এ অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব, শান্তি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এক গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর এ অঞ্চল থেকে ২৩৯টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলেও, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার ফল হয়েছে বিপরীত। পার্বত্য অঞ্চলের সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার হওয়ার পর পাহাড়ের প্রকৃত চিত্র হয়েছে অরক্ষিত এবং সন্ত্রাস কবলিত।
ক। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি: চুক্তির পরেও পাহাড়ের আনাচে-কানাচে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি থামেনি।
খ। চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুন-গুম: পাহাড়ে সর্বত্র চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং খুন-গুমের মতো চরম অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ। নিরাপত্তা সংকট: এই পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষ এক গভীর নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে।
এসব কারণেই এ অঞ্চলের আপামর জনগণের প্রধান দাবি হলো প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্পগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন করা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করার জন্য সেনাবাহিনীর মতো সুসংগঠিত এবং প্রশিক্ষিত বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রতিবেশি দু’টি দেশের ১৭৪ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। এই অরক্ষিত সীমান্ত ব্যবহার করে:
ক। ভারী অস্ত্রের অনুপ্রবেশ: উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে অবাধে সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারী অস্ত্রশস্ত্র।
খ। রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা: এসব অবৈধ অস্ত্র কেবল পাহাড়েই নয়, সমতলেও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পার্বত্য বাঙালি ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ কারণেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। দেশকে এই লাগামহীন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করতে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করা রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্বের জন্য চরম ক্ষতিকর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধা সৃষ্টি করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো। এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী পেট্রোল বেস স্থাপনে বাধা।
জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন রাষ্ট্রের খাস জমিতে একটি অস্থায়ী পেট্রোল বেস স্থাপন করতে চেয়েছিল, তখন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত স্থানীয় একটি চক্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে জমি দখলের মিথ্যা দাবি তুলে এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা দিয়েছে। ইউপিডিএফ তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে স্থানীয় সাধারণ জনগণকে উসকানি দিয়ে সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় এবং নারী-শিশুদের সামনে রেখে মানবঢাল তৈরি করে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ও নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি কতটা জরুরি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যায়-অবিচার বন্ধ, বৈষম্য নিরসন এবং উন্নয়নের সুষম বন্টন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পার্বত্য অঞ্চল সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত থাকলে এ অঞ্চলের সমস্যা-সংকট নিরসন হবে এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে। সন্ত্রাসীদের দমন করে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর বিকল্প চিন্তা করা অসম্ভব ও বিপজ্জনক।



