নেত্র নিউজের ফিচার ফটো-স্টোরি Living under Militarisation শিরোনামের প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও অসত্য।

0

Netra News-এর ৩১ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত ফিচার ফটো-স্টোরি “Living under Militarisation” শিরোনামে প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রায়োগিকভাবে ভুল উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদক Denim Chakma এবং Mashruk Ahmad পাহাড়ের জীবনযাত্রা, সেনা উপস্থিতি ও “সাইলেন্ট অকুপেশন” নিয়ে যে চিত্র উপস্থাপন করেছেন, তা সত্যিকার বাস্তবতার চেয়ে অনেকটাই অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ সংক্ষিপ্ত ব্লগে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরব এবং প্রকাশিত তথ্য যে মিথ্যা ও অসত্য তা পাঠকের কাছে উপস্থাপন করবো।

Netra News প্রতিবেদনে সেনা উপস্থিতিকে যেন দমনমূলক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা লিখেছেন, “Since the beginning of Operation Uttoron in 2001, the Chittagong Hill Tracts have remained heavily militarised. This situation persists today, with indigenous peoples continuing to face ongoing military repression.” বাস্তবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি ত্রিদেশীয় সীমান্ত অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর দুর্গমতা এবং উপজাতি জাতিসত্তার নিরাপত্তায় জন্য সেনাবাহিনীর উপস্থিতি অপরিহার্য। সেনারা মূলত নিরাপত্তা বজায় রাখে, সাধারণ জনগণকে সশস্ত্র চাঁদাবাজ, অপহরণ, খুন-গুম থেকে রক্ষা করে।

Netra News-এর বর্ণনা বনাম বাস্তব চিত্র
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেএনএফ-এর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে “In a joint forces operation to suppress so-called KNF ‘terrorists,’ about 43 people were shot dead. Various media outlets reported that the KNF members were terrorists. But among those 43 people, around 19 were ordinary Bawm civilians—including a 13-year-old child.” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে, চুক্তির পরও বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন স্বায়ত্তশাসন দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সেনাবাহিনী পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং শান্তি স্থাপনে কাজ করছে। অভিযানগুলিতে নিহতদের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক মানুষ নেই, সংখ্যাগরিষ্ঠ নিহতরা সত্যিকারের সন্ত্রাসী ও আইনভঙ্গকারী। মিডিয়ার কিছু ভুল প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে পুরো অভিযানকে “নির্যাতন” হিসেবে চিত্রায়ন করা সঠিক নয়।

পর্যটন ও উন্নয়ন কাজকে “development and tourism in the Chittagong Hill Tracts are state-planned projects aimed at the displacement of indigenous communities” হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে, সরকারী প্রকল্পগুলি পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য করা হয়। যেমন, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান সড়ক, বাঁধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থে নির্মিত হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে সামান্য স্থানান্তর তা বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

Netra News প্রতিবেদক কাপ্তাই বাঁধের প্রভাবকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “The ‘civilisation’ that was destroyed in the 1960s through the Kaptai Dam project was not replaced. It was shattered, and its people were left to survive on the fragments.” প্রকৃতপক্ষে, ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত কাপ্তাই বাঁধ রাঙ্গামাটি জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ, অর্থনৈতিক ও পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেছে। প্রকল্পের সময় যেসব উপজাতিরা স্থানান্তরিত হয়েছিল, তবে সরকারি উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক তহবিলের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদক দ্বারা বর্ণিত “বিনষ্ট সভ্যতা” ও “প্রজন্ম ধরে ধার্য গভীর যন্ত্রণার ইতিহাস” বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

Netra News-এর বক্তব্যে সেনা উপস্থিতিকে এক ধরনের বন্দিশালার মতো দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “Through militarisation, particularly since Operation Uttoron began in 2001, the Chittagong Hill Tracts have been turned into a prison.” প্রকৃতপক্ষে, সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিচ্ছিন্নতাবাদ এলাকায় আইডি কার্ডের প্রয়োজন এবং চেকপয়েন্ট ব্যবস্থা অপরিহার্য নিরাপত্তা প্রোটোকল। মানুষকে হুমকি বা দমনমূলক পরিবেশে রাখার উদ্দেশ্য নয়, বরং সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণই মূল উদ্দেশ্য।

Netra News প্রতিবেদনে বন কাটা, জলাশয় শুকানো, এবং পানি সংকটের বিষয়ও অতিরঞ্জিতভাবে দেখানো হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “Due to the reduction in forest cover, streams and springs are drying up.” প্রকৃতপক্ষে, কিছু স্থানীয় নদী ও জলাশয়ের গভীরতা মৌসুমি কারণে পরিবর্তিত হয় এবং এই অঞ্চলের মাটি পানি ধারণ ক্ষমতা নেই। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে জলাধার পুনঃখনন ও মেরামত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আর বন নিধনের জন্য ইউপিডিএফ, জেএসএস ও কেএনএফ এর মত সন্ত্রাসীরা দায়ী৷ তারা চাঁদার জন্য কাঠ পাচার করে।

তথ্যভিত্তিক বাস্তব চিত্র:
১. পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, যেমন জেএসএস সন্তু, ইউপিডিএফ প্রসীত, কেএনএফ, এমএলপি, জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জেএসএস সংগঠনটি পূর্ণভাবে অস্ত্র সরকারের নিকট জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। চাঁদাবাজি, অস্ত্র বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার ফলে প্রাণহানি ঘটে নিরীহ সাধারণ মানুষেরও।
২. সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে। ২০০১ সালে ইউপিডিএফ কর্তৃক তিন বিদেশি নাগরিক অপহরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাছাড়া, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জেএসএসকে ৪৫ দিনের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এর ফলে জেএসএস ও ইউপিডিএফ-এর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘অপারেশন উত্তোরণ’ শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল চুক্তি-পরবর্তী অস্থিরতা দূর করা, সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ন্ত্রণ করা, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান। এর আগে একই উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল ‘অপারেশন দাবানল’।
৩. সরকারের নেয়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও পর্যটন প্রকল্প পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনজীবন সহজতর ও আধুনিকতর হয়েছে।
৪. পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর প্রতি সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং সামাজিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হয়েছে আইনসঙ্গত ও মানবিক।

Netra News-এর ফিচার ফটো-স্টোরি “Living under Militarisation” পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তব পরিস্থিতি অতিরঞ্জিত ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে। সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমিকা ব্যর্থ ও দমনমূলক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে মেলে না। প্রকৃত পরিস্থিতি হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকারী নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায়।

আগের পোস্টরাঙামাটির বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে ৭০ জন গরীব শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ।
পরের পোস্টত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে ইউপিডিএফ কেন বিশ্বাসঘাতকতা করে?

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন