রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার রামহরি পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর হাতে মিলন তালুকদার নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহরের পূর্ব ট্রাইবেল আদম ৭নং ওয়ার্ড বনরুপা এলাকার বাসিন্দা মিলন তালুকদারকে তার শ্বশুরবাড়ি রামহরি পাড়া থেকে অস্ত্রধারী ইউপিডিএফ সদস্যরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরদিন শনিবার (১ নভেম্বর) সকালেই অপহৃতের স্ত্রী কুয়েলী চাকমার কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা দাবি করে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
অপহৃত মিলন তালুকদার রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অংসুপ্রু চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে ছিলেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী কুয়েলী চাকমা স্থানীয় বুইয়াদম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
অপহরণের পর থেকে পরিবার ও স্বজনরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত মিলন তালুকদারকে জীবিত উদ্ধার এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রামহরি পাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে প্রশাসনের কার্যক্রম প্রায় স্থবির, যার সুযোগ নিয়ে এসব অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বারবার ঘটছে।
অপহরণের ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নানিয়ারচর থানায় দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় জনমনে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা এতদিন ধরে এমন অপরাধ চালিয়ে গেলেও কেন প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
পাহাড়িরা অভিযোগ করছেন, ইউপিডিএফ জাতির অধিকারের দোহাই দিয়ে সংগঠন গঠন করলেও এখন তা পরিণত হয়েছে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুন-গুমের ঘাঁটিতে। এসব কর্মকাণ্ডে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
রাঙামাটির নানিয়ারচর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইউপিডিএফের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।



