বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থায়নের অভিযোগ।

0

পার্বত্য বান্দরবানে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী সংগঠক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য লাল জারলম বম। তার বিরুদ্ধে এবার উঠেছে সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ (KNF)-কে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করার গুরুতর অভিযোগ।

লাল জারলম বম একইসঙ্গে কমিউনিটি এডভান্সমেন্ট ফোরাম (CAF) নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, Presbyterian Church in Bangladesh-এর বান্দরবান লোকাল চার্জের নামে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিমাসে ৬ হাজার ৩৯১ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত লাখ টাকা) মার্কেটাইল ব্যাংক থেকে ইউসিবি ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট হিসাব-এ স্থানান্তর করা হয়। এই অর্থ ‘অনাথ শিশুদের সহায়তার অনুদান’ হিসেবে দেখানো হলেও, মাঠপর্যায়ে তেমন কোনো কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদক দেখতে পান, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির নামে বান্দরবানে কোনো শিশু আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা কার্যক্রম বা সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প চালু নেই। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা কখনও কোনো অনাথালয় বা শিশু সহায়তা কেন্দ্র দেখিনি। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাঝে মাঝে বিদেশি লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখি।

এ নিয়ে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছেড় যেখানে অনুদানের টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল, সেখানে কার্যক্রম নেই কেন?

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্র জানায়, লাল জারলম বমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ও তার নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেন বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, বিদেশি অনুদানের একটি অংশ তার ব্যক্তিগত খরচ ও কেএনএফ-এর (কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ব্যাংক ট্রানজেকশনগুলো ট্রেস করছি। অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের গন্তব্য নিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, অনুদানের অর্থ যদি সত্যিই সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

বান্দরবান নাগরিক ফোরামের এক সদস্য বলেন, অবৈধ অর্থ প্রবাহ ও বিদেশি অনুদানের নামে প্রতারণা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিচার হওয়া উচিত।

সম্প্রতি বান্দরবানের বিভিন্ন এনজিও, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিদেশ থেকে আসা প্রতিটি অনুদানের উৎস ও ব্যয়ের দিক যাচাই করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনুদান গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ অনুমোদন না থাকলে সংস্থার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাল জারলম বমের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এখন বান্দরবানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সরকারি তদন্তে প্রমাণ মিললে বিষয়টি পার্বত্য অঞ্চলের এনজিও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য লাল জারলম বম এর সাথে মুঠোফোন একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকা, বুধবার ৫ নভেম্বর ২০২৫

আগের পোস্টঐতিহাসিক বাস্তবতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ও বাঙালি আগমন
পরের পোস্টরাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন