রাঙামাটি কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের মাষ্টারঘোনার এক মারমা যুবককে গত ৪ নভেম্বর রাতে মগ লিবারেশন পার্টি (এমএলপি) সন্দেহে অপহরণ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ প্রসীত সন্ত্রাসীরা। অপহরণটি ঘটেছে ২নং ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ডাবুয়া কুকুচান টিলাপাড়া বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত চীবরদান অনুষ্ঠানের সময়।
অপহৃত যুবকের জবানবন্দি অনুযায়ী, ৪নং কলমপতি ইউনিয়নের আমছড়ি পাড়ার আরেক মারমা যুবকে এমএলপি সদস্য সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে ইউপিডিএফ।
সূত্র জানিয়েছে, রাজস্থলী থেকে গঠিত মারমা সংগঠন এমএলপি-তে যারা যোগদান করেছে বা সমর্থক রয়েছে, এমন সন্দেহে তাদের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছে। এই নজরদারির ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মারমা যুবককে অপহরণ করেছে ইউপিডিএফ। জানা গেছে, আরও ২৫ জন মারমা যুবক ইউপিডিএফের নজরদারিতে রয়েছে।
অপহরণের সময় যুবকদের চোখ-মুখ বেঁধে মারধর করা হয় এবং তাদের পাহাড়ের গভীরে নেওয়া হয়। অপহরণের পর যুবকদের নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা তাদের স্বপ্ন ও জীবনকে গভীর ক্ষত দিয়েছে।
অপহৃত যুবকদের মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, যদি ইউপিডিএফ মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করতে সক্ষম হয়, তবে হয়তো তাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
সূত্র আরো জানায় পরিবার এবং গ্রামবাসীদেরকে অপহরণের বিষয়টি প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা কথা বলবে, তাদের জন্য কঠোর পরিণতি ভোগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে, নিরাপত্তা বিবেচনায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি।
অপহরণের খবরটি গোপন রাখার চেষ্টা সত্ত্বেও, পাহাড়ি গ্রামে ব্যাপক কানাঘুষো ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, অপহৃত যুবকদের কোলাপাড়া-দেবাপাড়া এলাকায় রাখা হতে পারে।



