সেনাবাহিনীর উপস্থিতিই পাহাড়ের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনজীবনের একমাত্র ভরসা, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে রাঙামাটি কাউখালীতে ইউপিডিএফের আজ ১৬ নভেম্বরের রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায়। যদি এ বাহিনী না থাকত, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে আজ পাসপোর্ট-ভিসা প্রয়োজন হতো, এমন মন্তব্যই এখন জনমনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে স্বায়ত্তশাসনের আড়ালে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে পার্বত্য চুক্তি সমর্থনকারী পক্ষ জেএসএস, আর চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ, এই দুই সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের দ্বন্দ্বে চুক্তি পরবর্তী সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টার্গেট কিলিং, অপহরণ ও লাশের পর লাশ পড়েছে পাহাড়ে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গ্রুপ, উপগ্রুপ, বিভাজন ও চরম অনিশ্চয়তা; পাহাড় আজ অশান্ত, আতঙ্কিত, দোদুল্যমান।

রবিবার সকাল ১১টায় কাউখালী উপজেলায় ইউপিডিএফ সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশে যোগদান করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাবেশে যোগ না দিলে জরিমানা, এলাকা ছাড়া, হামলা, এমনকি হত্যার হুমকি প্রদান করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সমাবেশে সেখানে “Go Back Military”, “Stop Military Rule” ইত্যাদি দেশবিরোধী ও উস্কানিমূলক স্লোগান ছড়িয়ে একটি জাতিগত দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা হয়।

কিন্তু সেনাবাহিনীর ধৈর্য, মানবিকতা, সংযম ও পেশাদার কৌশল পরিস্থিতিকে ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করে। ইউপিডিএফ বিক্ষোভকারীদের বেরিকেডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ, দাবি শোনা, আলোচনায় আনা এবং উত্থাপিত জেএসএস সশস্ত্র কার্যক্রম বিরোধী অভিযোগ ইউএনও এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ, এসব পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে যে, পাহাড়ি নারী-পুরুষদের ভয় দেখিয়ে এবং সামাজিক চাপ প্রয়োগ করে ইউপিডিএফ তাদের মাঠে নামায়, যা গভীরভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সংগঠন টিকিয়ে রাখার অপতৎপরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া পাহাড়ি কিছু জনপ্রতিনিধি ও পরিচিত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা এবং কিছু বাঙালি দালাল শ্রেণীর সহায়তা ইউপিডিএফকে আরও প্রভাবশালী ও দুঃসাহসী করে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দালাল প্রকৃতি কিছু বাঙালি কখনও সেনাবাহিনীর সামনে গিয়ে বিশ্বস্ততার অভিনয় করে, আবার ইউপিডিএফের কাছে গিয়ে তাদেরও বিশ্বস্ত অনুসারী সাজে, আর এই দ্বিমুখী চরিত্রই পাহাড়কে আরও জটিল, বিপজ্জনক ও বিভাজিত করেছে।

ইউপিডিএফের এই অস্থিতিশীল কার্যক্রমের পর পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ, শঙ্কা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতামত:
“কাউখালীতে ইউপিডিএফ যদি আবার উস্কানিমূলক সমাবেশ, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালায়, তবে অতীতের মতো পুনরায় পাহাড়ি–বাঙালি দাঙ্গার আশঙ্কা চরমে উঠবে; আর সেই সুযোগেই তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের প্রভাব রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে; চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম এখন আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। পূর্বে তারা কাউখালীর আশপাশে এসে সেনাবাহিনী বিরোধী স্লোগান দেওয়ার সাহস পেত না, কিন্তু এখন উপজেলা প্রশাসন, থানা ও সেনাক্যাম্পের নিকটেও প্রকাশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিতে দুঃসাহস দেখাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।



