রাঙামাটি জেলার দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলার জগনাতলী এলাকায় চাকমা সম্প্রদায়ের নবদম্পতি জুয়েল চাকমা ও চন্দনা চাকমার বিয়ের অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মানবিক উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর পাহাড়–সমতলের সম্প্রীতি, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে নেটিজেনদের মাঝে দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর নবদম্পতির বিয়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পার্শ্ববর্তী সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তারা নবদম্পতির জীবন সুখ সমৃদ্ধির কামনা জানিয়ে উপহার সামগ্রী প্রদান করেন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। উপস্থিত সেনা সদস্যদের মুখে ছিল হাস্যোজ্জ্বল আন্তরিকতা, ছিল না কোনো রাগ প্রতাপ বা কর্তৃত্বের বার্তা; বরং ছিল মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসার নিদর্শন।
এই ঘটনাটি আলোচনায় আসে যখন Utsahi Chakam নামে এক পাহাড়ি তরুণী তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি উল্লেখ করে ১৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে একটি পোস্ট দেন। তাঁর পোস্টে তিনি লেখেন:
“এমন সেনাবাহিনী পাহাড়িরা প্রত্যেশা করে। চাকমা নব দম্পতির বিয়ে বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে গেলো সেনাবাহিনীর একটি দল। মুখে হাস্যজ্বল সেনাবাহিনী তুলে দিলেন নব দম্পতিকে উপহার সামগ্রী… তাদের বন্ধুকের নল সেদিন নুয়ে ছিলো, রাগান্বিত নয় ছিলো মানুষ-মানুষকে ভালোবাসার প্রকাশ… এই যেন রুপকথার গল্পে এক সম্প্রীতির সেনাবাহিনী। দেশের স্বার্থে, সার্বভৌমত্ব স্বার্থে সেনাবাহিনীর সাথে পাহাড়িরা আছে, থাকবে।”
পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং অসংখ্য লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যে ভরে ওঠে। অনেক নেটিজেন এটি পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে মতবিরোধও রয়েছে; কেউ কেউ পোস্টটিকে সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে স্বাগত জানালেও, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।
পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সন্দেহ, দূরত্ব ও দ্বিধা দূর করতে এমন ঘটনাগুলো সম্প্রীতির অবিনশ্বর সেতু হিসেবে কাজ করবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
এই ধরণের মানবিক উপস্থিতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সহাবস্থানের পথ আরও সুদৃঢ় করবে বলে সকলে আশাবাদী।




