রাঙামাটি কাউখালীতে ইউপিডিএফের গুলিতে জেএসএস সদস্য নিহতের যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা যাচাই–বাছাই করে দেখা গেছে, পুরোপুরি অসত্য।
গতকাল ২৬ নভেম্বর বিকালে কাউখালী উপজেলার মেতিঙ্গ্যাছড়ি ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রইস্যাবিলি এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে দূরবর্তী স্থান থেকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় কোনো পক্ষেরই হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এলাকাটিতে কাঠ, বাঁশ ও গরুর ঘাস সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন বাঙালি জানায়, “বিকাল আনুমানিক চারটা সময় পরপরই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। কিছুক্ষণ পর দূর থেকে দেখি সন্ত্রাসীরা দ্রুত সরে যাচ্ছে। আমরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে আসি।”
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া–কাউখালী সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে জেএসএস উল্লেখযোগ্যভাবে অবস্থান নিয়েছে। চেলাছড়া-যৌথখামার সড়কের দক্ষিণ পাশ মেতিঙ্গ্যাছড়ি একসময় ইউপিডিএফের দখলে থাকলেও বর্তমানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ তাদের নেই। জেএসএসের উপস্থিতি সরিয়ে দিতে ইউপিডিএফ গত ১৬ নভেম্বর কাউখালীতে মিছিল শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয় এবং গত ২৩ নভেম্বর ডাবুয়াতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করে।
বুধবার ২৬ নভেম্বর জেএসএসকে এলাকাটি থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে ইউপিডিএফ এর ফলে বিকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউপিডিএফ মেতিঙ্গ্যাছড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে রইস্যাবিলিতে জেএসএস অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পাল্টা জেএসএসও গুলি ছোড়ায় উত্তেজনা বাড়ে। পরে ইউপিডিএফ সদস্যরা পিছু হটে। দূরত্ব বেশি হওয়ায় কোনো পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি গুলি একটি বসতবাড়ির ভেতরে গিয়ে পড়ে, যদিও এতে কেউ আহত হয়নি। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এরপর ইউপিডিএফ সমর্থকরা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে একটি ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেয় এবং দাবি করে, জেএসএসের একজন সশস্ত্র সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য একেবারেই ভিন্ন।
রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ কোনো হতাহতের তথ্য পায়নি। কাউখালী থানার পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে তারা বিষয়টি শুনেছে, কিন্তু লাশ উদ্ধার বা স্পষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে নেই। স্থানীয়রা কোথাও লাশ দেখেনি, সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও নেই, এমনকি রক্তের চিহ্ন পর্যন্ত পায়নি।
জেএসএস ও ইউপিডিএফ কোনো পক্ষই নিহতের বিষয়ে কিছু বলেনি। নিহত ও আহতদের পরিচয়ের কোনো তথ্য নেই।
সুতরাং, যেখানে পুলিশের রিপোর্ট নেই, নিরাপত্তা বাহিনী সত্যতা নিশ্চিত করেনি, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য নেই, এবং ঘটনাস্থলে কোনো আলামত নেই, সেখানে জেএসএস সদস্য নিহত হওয়ার সংবাদটি পরিষ্কারভাবেই গুজব।



