রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের চোরাচালান চক্রের কর্মকাণ্ড ভেস্তে গেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি টিওবি ক্যাম্প এলাকার প্রধান চেকপোস্টে পরিচালিত নিয়মিত তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট, নগদ অর্থ ও একটি পিকআপসহ ৪ জনকে আটক করা হয়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা একটি সন্দেহভাজন পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালান। এসময় অবৈধভাবে পাচারকালে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোট ১০ হাজার প্যাকেট (অরিস ০৮ কার্টন, পেট্রোন ১০ কার্টুন, বেন্সন ৫ কার্টুন) আটক করা হয়েছে। যার মোট আনুমানিক বাজার মূল্য ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও দেড় লক্ষ টাকা নগদ অর্থসহ ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— শিমুল দাস (৪৫), পিতা মৃত চিত্র রঞ্জন দাস, বাঙ্গালহালিয়া বাজার, মোঃ সাজ্জাদ ইসলাম (২২), পিতা মৃত শফিকুল ইসলাম, পাথরবন পাড়া, মোঃ মহিবুল হাসান (২৩), পিতা মৃত শহিদুল ইসলাম, শফিপুর, রনি তঞ্চঙ্গ্যা (২০), পিতা গোলকধন তঞ্চঙ্গ্যা, রাজস্থলী বাজার।
সূত্র জানা গেছে আঞ্চলিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সিগারেট পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে৷ বর্ডার এলাকা দিয়ে আসা এসব সিগারেট পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর মত বিচ্ছিন্নদাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো৷ যাদের চাঁদার উৎস সিগারেট চোরাচালান।
চোরাচালান সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মর্তুজা সাইফ রাসেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিদের ও উদ্ধারকৃত মালামাল থানায় হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে রাজস্থলী থানার এসআই মোঃ হাফিজ জানান, সেনাবাহিনীর হাতে আটক চোরাকারবারি, জব্দ সিগারেট ও পিকআপ থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে এমন ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতে অবৈধ বাণিজ্য আর আঞ্চলিক দলের চাঁদাবাজির উৎস আরও কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



