পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মাঝেও কিছু উপজাতি উগ্রপন্থী ব্যক্তি নিজেকে আলোচনায় রাখতে হঠাৎ হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় “বোমা ফাটানোর” মতো পোস্ট দেয়। উদ্দেশ্য একটাই: বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করা, ভয় দেখানো, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়া এবং নিজেকে আলোচনায় ধরে রাখা।
এই নোংরা কৌশল বহুদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন ইউপিডিএফ (প্রসিত) ঘরানার বিতর্কিত ব্লগার প্রজ্ঞা তাপস চাকমা, যিনি PT Chakma নামে পরিচিত।
যার অতীত দানবাক্স চুরি থেকে শুরু করে জাল ভারতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, বিদেশে পালিয়ে গিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রচারণায় যুক্ত হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. রাত ৮টা, তিনি আবারও তার ফেসবুকে একটি ভয়ংকর এবং রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেন—
যা নিছক গুজব নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন।
PT Chakma–র পোস্ট হুবহু:
“পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবান- বাংলাদেশ থেকে পৃথক হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর কোন ক্ষমতা নেই, এটা একটা আন্তকাল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করতে মাত্র ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের এক লেফট্যান্যান্ট জেনারেল। ৫ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় বসে চা খাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরাজিত হলে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত অখণ্ডভাবে বসবাসরত দখলদার সেটেলারের বাঙালি নিজের থেকেই পালিয়ে যাবে, কিছু করা লাগবে না।
আমাদের CHT Defence force দরকার নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শক্তি কতটুকু আমরা ভালো করেই জানি এবং ভারতের সেনাবাহিনীও জানে।
সুতরাং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্র আইন প্রতিষ্ঠা করা, সেনা শাসন বন্ধ করা এবং দখলদার সেটেলার বাঙালিদের তাদের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া।”
এ পোস্ট যে কেবল মিথ্যা নয়, বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অপমান করার, বিভক্ত করার ও উসকানি ছড়ানোর খোলাখুলি ষড়যন্ত্র—তা মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
প্রজ্ঞা তাপস চাকমা হচ্ছেন রাঙামাটি বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের তেলোন কার্বারী পাড়ার সাবেক বাসিন্দা। পিতা গুনো চাকমা তেলোন কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা। স্ত্রী রুপসী চাকমা, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বড়আদম গ্রামের।
প্রজ্ঞা তাপস চাকমা একসময় সাভার বৌদ্ধ বিহারে শ্রমণ ছিলেন। সেখানেই অভিযোগ ওঠে দানবাক্স থেকে টাকা চুরি করেছেন। এই অভিযোগেই তাকে বিহার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর তিনি হঠাৎ বাংলাদেশ ছাড়েন।
মিজোরাম, কলকাতা, বুদ্ধগয়া, দিল্লি ঘুরে অবশেষে জাল ভারতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, এমন তথ্য বহুদিনের।
পরবর্তীতে তিনি দুবাই হয়ে কানাডায় অভিবাসী হন। এখন কানাডাতেই বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালান।
তিনি পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ প্রসিত)-এর “আন্তর্জাতিক ব্লগার”, প্রচার–পরিচালক, লবিং কর্মী।
কানাডার আয়ের একটি অংশ নাকি ইউপিডিএফের বৈঠক, কনফারেন্সে ব্যয় হয় এ অভিযোগ বহুদিনের। বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক লবিং নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য।
PT Chakma–র পোস্ট কতটা ভয়ংকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক?
১. তার দাবির একটিও তথ্যভিত্তিক নয়, ১০০% গুজব। তিনি দাবি করেছেন: ভারত তিন পার্বত্য জেলা দখল করবে। রাশিয়া S-400 ও Sukhoi 59 দেবে। BBC খবরটি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৮ ঘণ্টায় পরাস্ত হবে।
একটিও সত্য নয়। BBC–তে এমন খবর নেই। রাশিয়া–ভারতের এমন কোনো সামরিক চুক্তি নেই। এমনকি Sukhoi 59 নামের কোনো ফাইটার জেট বিশ্বে নেই।
অতএব PT-এর পোস্ট শুধু গুজব নয়, ইচ্ছাকৃত মানসিক অপারেশন।
২. বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অপমান করার প্রচেষ্টা—মহা রাষ্ট্রবিরোধিতা।
তিনি লিখেছেন: “৮ ঘণ্টায় পরাস্ত করা যাবে”। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন তা একজন অভিবাসী, উগ্রপন্থী, সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রচারকের কাছ থেকে আসে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বের শীর্ষ শান্তিরক্ষী বাহিনী, প্রশিক্ষণ, মনোবল, সক্ষমতা: সবদিক থেকেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। তারপরও PT–এর এই মন্তব্য কেবল বিদ্বেষ।
৩. পার্বত্য বাঙালিদের “দখলদার” বলা — জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো। এটি আন্তর্জাতিক আইনে Hate Speech।
দেশের সংবিধান অনুযায়ী বাঙালিরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। PT Chakma ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালিদের লক্ষ্য করে উগ্রপন্থী ন্যারেটিভ চালান: “দখলদার” “নিজে নিজে পালাবে” “তাদের ফিরিয়ে নেওয়া দরকার।” এগুলো সুস্পষ্ট জাতিগত উস্কানি।
৪. ভারতের নামে মিথ্যা প্রচারণা, দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা। PT Chakma ভারতের “জেনারেল” এর নামে যে মন্তব্য লিখেছেন: তা সম্পূর্ণ বানানো। এটি নেহাতই ইন্ডিয়া–বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্ক নষ্ট করার কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র।
৫. “গণতন্ত্র আইন” নামে নতুন বিভক্তিকরণ ন্যারেটিভ—হুমকিস্বরূপ।তিনি লিখেছেন— “পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্র আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”এটি আসলে জুম্মল্যাণ্ড ধরনের আইনগত কাঠামোর প্রচার। অর্থাৎ—স্বশাসিত রাষ্ট্র।
এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি ওপর আঘাত।
এখন PT Chakma–কে কেন্দ্র করে যেসব কঠোর সত্য উন্মোচিত হয়। তিনি কোনো উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন—একজন বিতর্কিত কানাডা অভিবাসী। উপজাতি মহলে তাকে ডাকা হয়— “দানবাক্স চোর” (চুক্তিপক্ষ জেএসএস সহ-সভাপতি করুনালংকার ভিক্ষুর ভাষায়)। এ থেকে বোঝা যায় তিনি উপজাতিদের ভেতরেও অবিশ্বাসের প্রতীক।
ইউপিডিএফ প্রসিতের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র। যে সংগঠন নিজে সশস্ত্র, চাঁদাবাজ, অপহরণকারী। তাদের আন্তর্জাতিক ব্লগার হিসেবে PT কাজ করেন। তাহলে তার উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট: বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দুর্বল করা।
তিনি বিদেশে বসে পাহাড়ে অস্থিরতা উসকে দেন। নিজে নিরাপদ দেশে বসে ভোগ করছেন কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে ঠেলে দিচ্ছেন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে।
শেষ কথা হলো: PT Chakma–র বিভ্রম শুধু হাস্যকর নয়, বিপজ্জনকও বটে। তার ব্যক্তিগত ইতিহাস, দানবাক্স কেলেঙ্কারি, জাল কাগজ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর লবিং,
সব মিলিয়ে PT Chakma একজন নৈতিকভাবে দেউলিয়া, কেন্দ্রবিমুখ, রাষ্ট্রবিরোধী উগ্রপন্থী অভিবাসী।
তার মতো বিভ্রান্ত ব্যক্তির পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া মানে, তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। PT Chakma–র মতো গুজববাজরা—এই বাস্তবতা বদলাতে পারবে না।



