হিল নিউজ বিডি প্রতিবেদক:
পার্বত্য চট্টগ্রাম—বাংলাদেশের সেই অঞ্চল যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং জাতিগত বিভেদের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি, সরকারের একটি প্রকল্প প্রস্তাব এই অঞ্চলকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন এবং এর সদর দপ্তর স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখা থেকে নেওয়া উদ্যোগ, যা পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় ২৪ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এই খবরটি বাংলা স্ট্রিমের আতাউর রহমান রাইহানের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে।
প্রথম দর্শনে এই প্রকল্পটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এর পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক ঝুঁকি এবং প্রশ্ন। এই প্রতিবেদনে আমি এই প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ, এর উদ্দেশ্য, পটভূমি এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব। একই সাথে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ এবং এই প্রকল্পের বিরোধিতার কারণগুলো তুলে ধরব। আমার লক্ষ্য হলো এই প্রকল্পকে শুধু সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং স্থানীয় জনগণ, পরিবেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করা।
প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ:
প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু করে ২০২৮ সালের জুন মাসে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিক সহায়তা আসবে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে। এটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ব্যয়ের বিভাজন দেখলে বোঝা যায়: ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খরচ হবে ১৯১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, পরের অর্থবছরে ২৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলো খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এতে বলা হয়েছে যে, পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারী করে গড়ে তোলা। এছাড়া, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার উপযোগী বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা প্রয়োজন। ডিআইজি মাউন্টেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়সহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন স্থাপন করলে পাহাড়ি এবং বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত কমবে এবং আর্মড পুলিশের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। এছাড়া, মামলা তদন্ত এবং দৈনন্দিন ছুটির কারণে থানা পুলিশের সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দমন করা সম্ভব হয় না। তাই জেলা পুলিশ সুপাররা এপিবিএন সদস্যদের সহায়তা চান। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ আবশ্যক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে, এবং তখন এই বাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।
প্রকল্পে ব্যয়ের মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে চলাচল উপযোগী ১৫৫টি যানবাহন কেনার জন্য ১১২ কোটি টাকা, অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ৯৪ কোটি টাকা, আবাসিক ভবন নির্মাণে ৩০৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৮৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই বিপুল অর্থব্যয় দেখে মনে হয় যে, সরকার এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই প্রকল্প কি সত্যিই শান্তি আনবে, নাকি নতুন সংঘাতের দ্বার উন্মোচন করবে?
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ:
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা বোঝার জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭২ সালে। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) গঠন হয়, যা পরবর্তীকালে শান্তিবাহিনী হিসেবে পরিচিত হয়। এই গোষ্ঠী পার্বত্য অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় সরকার ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনী বৃদ্ধি করে এবং ১৯৭৯ সালে বাঙালি পুনর্বাসন করে। কিন্তু সমস্যা সমাধান না হওয়ায়, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি সংবিধানবিরোধী বলে অনেকে মনে করেন, কারণ এতে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীকে একচেটিয়া সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং বাঙালিদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
চুক্তির পরও জেএসএস স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। দল-উপদল সৃষ্টি হয়েছে, যেমন ইউপিডিএফ প্রসীত, সংস্কার জেএসএস, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। এই সংগঠনগুলোর চাকমা প্রীতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে মগ পার্টি (এমএলপি), বম পার্টি এবং কেএনএফের মতো গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের হাতে রয়েছে ভারী অস্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সেনাবাহিনীর মতো প্রশিক্ষিত বাহিনী এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরস্ত্র করতে পারেনি। এই বাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু নিজ দেশের পার্বত্য অঞ্চলে সফলতা অর্জন করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়, প্রতিকূল পরিবেশ, এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র।
এখন প্রশ্ন হলো, আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন কি এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে? পাহাড়ের ইতিহাস বলছে না। এই প্রকল্প যদি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের কথা বলে—অর্থাৎ সেনা বাহিনী প্রত্যাহার—তাহলে ত্রিদেশীয় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল বাংলাদেশ থেকে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়েক হাজার অস্ত্রধারী রয়েছে, যারা পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছে। সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার সুযোগে তারা সশস্ত্র সংগ্রাম বৃদ্ধি করতে পারে, যা এখনো চলমান।
প্রকল্পের সমালোচনা এবং ঝুঁকি:
পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টর ডিভিশনের মতামতে বলা হয়েছে যে, প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা এবং অবকাঠামোর কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক, কারণ এই প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের ভঙ্গুর পরিবেশে বিপুল অবকাঠামো নির্মাণ জঙ্গল কাটা, মাটির ক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ঘটাতে পারে।
কিন্তু এর চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো জাতীয় নিরাপত্তা। সেনা প্রত্যাহারের পর আর্মড পুলিশ কি এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? পুলিশ বাহিনী যতই প্রশিক্ষিত হোক, পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো যে পরিবেশে, যে মনস্তত্ত্বে এবং যে নেটওয়ার্কে টিকে আছে—তা মোকাবিলা করার সক্ষমতা কেবল একটি সামরিক বাহিনীরই থাকে। পুলিশ সেখানে সহায়ক হতে পারে, বিকল্প নয়।
সচেতন মহল বলছেন- সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র উদ্ধার না করে শান্তি আসবে না। বরং এই প্রকল্প সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের অজুহাত হয়ে উঠতে পারে, যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করে তুলবে। বাঙালি এবং পাহাড়িদের মধ্যে বিভেদ বাড়তে পারে, এবং বিদেশী হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে ২০২২ সালের ২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন পার্বত্য জেলায় আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু করার প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। এজন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটি, ১৯ এপিবিএন বান্দরবান ও ২০ এপিবিএন খাগড়াছড়ি গঠন করা হয়। তখন জেএসএস চুক্তি শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু পরবর্তীতে এই নিয়ে জেএসএস এর আপত্তি কিংবা প্রতিবাদ চোখে পড়েনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন- আর্মড পুলিশ মাউন্টেন গঠন করে পাহাড়ের দীর্ঘ সংঘাত বা বৈরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বরং কোনো শর্তহীন ভাবে যদি আর্মড পুলিশ মাউন্টেন হয় সেটি স্বাগতম কিন্তু সেনা প্রত্যাহার শর্তে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে।
কী করা উচিত?
এই প্রকল্পটি বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালের চুক্তির শর্ত হিসেবে যেসব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় স্থাপন করা দরকার। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে সম্পূর্ণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। একই সাথে, আলোচনা এবং রাজনৈতিকভাবে সমস্যা নিরসনের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। শান্তি আসবে না শুধু পুলিশ বাহিনী বৃদ্ধি করে, বরং সকল পক্ষের অংশগ্রহণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাধান দিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এটিকে রক্ষা করতে হলে সতর্কতা এবং দূরদৃষ্টি দরকার।
উল্লেখ যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য ‘আর্মড পুলিশ মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ন’ গঠনের প্রস্তাব: জামাল উদ্দিন, বাংলা ট্রিবিউন, প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২১, বলা হয়, “তিন পার্বত্য জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের একটি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ‘আর্মড পুলিশ মাউন্টেইন ব্যাটালিয়ন’ নামে প্রকল্প প্রস্তাবের ফাইলটি সোমবার (১৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে হস্তান্তর করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। সংশ্লিষ্টরা জানান, শান্তি চুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনেকগুলো ক্যাম্প ছেড়ে চলে এসেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তিন পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাসীদের উৎপাত বেড়ে যায়। এজন্য সেখানে নতুন করে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২১) পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার সঙ্গে বৈঠক হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন আনা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয়ে কিছু সুপারিশ করেছেন। ‘শান্তি বাহিনী’র দীর্ঘ বিদ্রোহের অবসান ঘটাতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও সরকারের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।”



