ইউপিডিএফ ব্লগারের বাংলাদেশের মানচিত্র পরিবর্তন করে রাষ্ট্রভাঙনের বিপজ্জনক বয়ান।

0

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে যে বক্তব্য, ছবি ও মানচিত্র প্রকাশিত হচ্ছে, তা কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। আলোচ্য অ্যাকাউন্টের নাম PT Chakma—যেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক পোস্টে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মানচিত্র ‘বদলে যাওয়ার’ দাবি তোলা হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনকে ‘আসন্ন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’-এর পরিণতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে বাঙালি ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

২০ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. ভেরিফাইড আইডি PT Chakma থেকে পোস্টে লেখা হয়েছে— “ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও এবং হামলার পর আসন্ন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে পর বাংলাদেশের মানচিত্র কেমন হবে তা বদলানো হয়েছে -।” পোস্টটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে৷ ১ লাখ লাইক অতিবাহিত হয়েছে।

পোস্ট স্কিনশট

২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আরেক পোস্টে বলেন- “বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারিত- আমরা অচিরেই নিজেদের নাগরিকত্ব, অধিকার এবং অস্তিত্ব ফিরে পেতে চলেছি- ইনসাল্লাহ। আমরা ভারতের মানুষ নিজ ঘরে ফিরছি, শেষ পর্যন্ত। আলহামদুলিল্লাহ-।”

পোস্ট স্কিনশট

গত ১৭ ডিসেম্বর এক পোস্টে বলা হয়- “আসন্ন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানচিত্র।”

এই বাক্যটি একাই বহুস্তরীয় প্রশ্ন উত্থাপন করে। প্রথমত, এখানে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে একটি সহিংস ও অস্থির রাজনৈতিক রূপান্তরকে অনিবার্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সেই সম্ভাব্য সহিংসতার পরিণতি হিসেবে বাংলাদেশের মানচিত্র পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—যা কোনো নাগরিকের মতামত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের কল্পিত দাবি।

পোস্টের সঙ্গে যুক্ত মানচিত্রে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়—বাংলাদেশের পশ্চিমের  দক্ষিণ-উত্তারঞ্চল, , বিশেষত খুলনা অঞ্চল থেকে উত্তরের কুড়িগ্রাম সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডকে একটি লাল রেখা টেনে আলাদা করে “Hindudesh” নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকেও আলাদা চিহ্ন অঙ্কিত।আরেকটি মানচিত্রে ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া তৈরি করা। এটি কোনো একাডেমিক গবেষণার মানচিত্র নয়, কোনো ঐতিহাসিক দলিলও নয়—বরং একটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রভাগের ভিজ্যুয়াল কল্পচিত্র।

এ ধরনের উপস্থাপনাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে বলে—‘অমুক ঘটনার পর দেশের মানচিত্র এমন হবে’—তাহলে সেটি মতামত নয়; সেটি রাষ্ট্রভাঙনের বয়ান।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘আগামীর বাংলাদেশ’ কথাটির মাধ্যমে বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোকে অকার্যকর ও অস্থায়ী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি নির্বাচিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, সংবিধান ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখাকে পাশ কাটিয়ে একটি বিকল্প ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা কল্পনা করে সেটিকে জনমনে প্রোথিত করার চেষ্টা চলছে।

এই বয়ানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক ইঙ্গিত। ২০ ডিসেম্বরের পোস্টে তিনি লিখেছেন—
“আমরা অচিরেই নিজেদের নাগরিকত্ব, অধিকার এবং অস্তিত্ব ফিরে পেতে চলেছি— ইনসাল্লাহ। আমরা ভারতের মানুষ নিজ ঘরে ফিরছি, শেষ পর্যন্ত। আলহামদুলিল্লাহ—।”

এখানে ‘নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া’ এবং ‘ভারতের মানুষ নিজ ঘরে ফেরা’—এই দুটি বক্তব্য একত্রে রেখে একটি বিপজ্জনক বার্তা দেওয়া হয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বকে অস্বীকার করা, অন্যদিকে সেই বৌদ্ধ কথিত ইহুদি হিসেবে ধর্মীয় শব্দ (ইনসাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ) ব্যবহার করে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের উপহাস করেছে। সেই অস্বীকৃতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা—এটি নিছক ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; এটি পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনকে উসকে দেওয়ার ভাষা।

এই ধারাবাহিক পোস্টগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। গত কয়েক মাসে একই অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়, মানচিত্র ও সামরিক কাঠামো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে; বাঙালি ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। সেনাবাহিনী নিয়ে প্রতিদিন থাকছে তার অপপ্রচার, কুৎসা, নোংরা মন্তব্যে পোস্ট। একই সঙ্গে চুক্তিপক্ষ জেএসএস সন্তুর রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধাচরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের একটি অংশকে আলাদা ভূরাজনৈতিক সত্তা হিসেবে কল্পনা করার প্রবণতাও চোখে পড়েছে।

এখানে প্রশ্ন ওঠে—এই বয়ান কাদের উপকারে যায়? একটি বহুজাতিক, স্বাধীন রাষ্ট্রে যখন সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তখন মানচিত্র বিকৃতি ও ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’-এর ডাক সমাজকে কোন দিকে ঠেলে দেয়? এটি কি শান্তিপূর্ণ অধিকার আদায়ের ভাষা, নাকি অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অনুঘটক?

আরও বিস্ময়কর হলো রাষ্ট্র ও তথাকথিত সুশীল সমাজের নীরবতা। ধর্ম বা অন্য জাতি জনগোষ্ঠী নিয়ে সামান্য মন্তব্য হলেই যাঁরা মুসলমানদের ‘উগ্রবাদ’ তকমা লাগাতে তৎপর হন, তাঁরা কেন রাষ্ট্রভাগের কল্পচিত্র দেখিয়েও নীরব থাকেন? বাংলাদেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য বিভাজনমূলক বয়ান কি কম বিপজ্জনক?

এই প্রেক্ষাপটে সচেতন মহলের অনেকেই অভিযোগ তুলছেন—এই ধরনের অনলাইন প্রচারণার পেছনে সংগঠিত রাজনৈতিক স্বার্থ আছে কি না। কেউ কেউ বলছেন, এটি উপজাতিদের বিশ্বাসঘাতকতার বহিঃপ্রকাশ, তবে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী শক্তির দীর্ঘদিনের বয়ানেরই ডিজিটাল রূপ। আবার কারও মতে, এটি ব্যক্তিগত পরিচিতি ও আলোচনায় থাকার কৌশল। তবে উপজাতিদের বৃহৎ অংশ মনে করেন: প্রজ্ঞা তাপস ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার পাওয়ার জন্য উস্কানিমূলক পোস্ট করছে। জাতিগোষ্ঠী বিভাজন, ধর্মীয় বিভাজন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উস্কানি নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা। কিন্তু সে এখন যা করছে তা একধরনের মানসিক রোগ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, যে কারণই হোক, ফলাফল একটাই—রাষ্ট্রের অখণ্ডতা প্রশ্নবিদ্ধ করা।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে দেয়, মানচিত্র নিয়ে খেলা কখনো নিরীহ নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে রক্ত, ত্যাগ ও ঐক্যের বিনিময়ে। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. সকালে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ‘ভাঙাদেশ’ বলা, ‘আগামীর মানচিত্র’ বানিয়ে ভাগ দেখানো—এসব বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক মতভেদ নয়; এগুলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

এই কারণেই প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্র কী ভূমিকা নেবে? একটি ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ্যভাবে এমন বয়ান ছড়ালে প্রশাসনের নীরবতা কি ভবিষ্যতে আরও উগ্র কল্পনার সাহস জোগাবে না? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যদি সংবিধানবিরোধী ও বিভাজনমূলক প্রচারণায় রূপ নেয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অধিকার থাকে না—তা হয়ে ওঠে সমষ্টিগত ঝুঁকি।

ইউপিডিএফ ব্লগারের প্রকাশিত রাষ্ট্র ভাগের মানচিত্রের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ইউপিডিএফ-এরই। যদি ইউপিডিএফ বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকত, তাহলে এই ধৃষ্টতা কিভাবে প্রকাশ পেত? ইউপিডিএফের সক্রিয় প্ররোচনা ছাড়া কীভাবে সে প্রতিনিয়ত পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে? আরও বিস্ময়ের বিষয়, যেখানে তার পিতা-মাতা এবং স্বজনরা বসবাস করছেন, সেখানে সে কীভাবে এত সাহস দেখাতে পারে? এরজন্য কী তার স্বজনরা লজ্জাবোধ করে না? ইউপিডিএফ কেন তাদের তলব করে না? প্রজ্ঞা তাপসের পোস্টের লাইক কমেন্ট ও মন্তব্যকারীরা প্রায় ইউপিডিএফ নেতাকর্মী ও সমর্থক।

তার সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জানা গেছে,  প্রজ্ঞা তাপস চাকমা, সম্পূর্ণ নাম প্রজ্ঞা তাপস চাকমা প্রকাশ PT চাকমা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের তেলোন কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতার নাম গুনো চাকমা। তিনি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বড়আদম গ্রামের রুপসী চাকমাকে বিয়ে করেন। প্রথমদিকে তিনি ঢাকার সাভার বৌদ্ধ বিহারে শ্রমণ হিসেবে ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মীয় লেবাসে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ভিসা ব্যবহার করে কানাডায় চলে যান। কথিত আছে যে, তিনি মিজোরাম-কলকাতা হয়ে বুদ্ধগয়ায় গিয়ে একটি মন্দিরে আশ্রয় নেন। নয়াদিল্লিতে লোকজ্যোতি ভিক্ষু নামে এক বৌদ্ধ গুরু তাকে আশ্রয় দেন। পরে সেখান থেকে পাসপোর্ট এবং ভিসা তৈরি করে কানাডায় যান। কানাডা যাওয়ার আগে তিনি দুবাইয়ে একটি খেলনা এবং হ্যান্ডিক্র্যাফটের দোকানে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ইউপিডিএফ (প্রসিত বিকাশ গ্রুপ)-এর একজন স্বঘোষিত আন্তর্জাতিক ব্লগার। তার কর্মকাণ্ডে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করেন। এতে প্রশ্ন ওঠে: বাংলাদেশের নাগরিক না হলে তিনি কেন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জনগণ নিয়ে এত মন্তব্য করেন? তার এই আচরণকে অনেকে মানসিক বিকারগ্রস্ততা বা হীন উদ্দেশ্যের ফল বলে মনে করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি সাভার একটি বৌদ্ধ বিহার থেকে দানবাক্স চুরি করেছিলেন।

এই বিতর্কের শেষ কথা একটাই: এখানে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়, বরং তার নিজের বক্তব্য ও চিত্রই যথেষ্ট। বাংলাদেশের মানচিত্র বদলের স্বপ্ন যারা প্রকাশ্যে দেখায়, তাদের সেই স্বপ্নের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা রাষ্ট্রের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত ১৭ মাসে উন্নয়নের গল্প শোনালেও, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার মতো মৌলিক বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। প্রজ্ঞা তাপসের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রভাগের মানচিত্র প্রচার হচ্ছে, অথচ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে তার স্বজনদের নজরদারি বা জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। এই নীরবতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রজ্ঞা তাপসকে আরও আগ্রাসী ও সাহসী করে তুলেছে।

প্রজ্ঞা তাপসের পোস্ট লিংক গুলো-

১. https://www.facebook.com/share/p/1CkTW7Nz57/

২. https://www.facebook.com/share/p/1GYH8krxe2/

৩. https://www.facebook.com/share/p/14QLuc8PLLv/

৪. https://www.facebook.com/share/p/1C4PLNW7EX/

৫.
https://www.facebook.com/share/1Bv47LPipu/

আগের পোস্টপার্বত্য চট্টগ্রামে আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন: শান্তির নামে ঝুঁকির প্রকল্প?
পরের পোস্টঢাকায় পিসিসিপির বি‌শিষ্টজন সংবর্ধনা ও বিজয় দিবস উদযাপন।

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন