ইউপিডিএফ দ্বারা পর্যটকদের হেনস্থার প্রতিবাদে পিসিসিপির বিক্ষোভ।

0

 

রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে আবারও ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক পর্যটকদের মোবাইল ছিনতাই, হেনস্থা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার পক্ষ থেকে (২ জানুয়ারি) রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ হতে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বনরূপা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম, পিসিএনপি’র রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, সহ-সভাপতি কাজী জালোয়া, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: নূর হোসেন, রাঙামাটি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, রাঙামাটি ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর, হিল সার্ভিস রাঙামাটি জেলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা, এসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিষ্ট গাইড এর রাঙামাটি সভাপতি সোহেল রানা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা রাকিব, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, মো. রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

এসময়ে বক্তারা বলেন, মেঘ ছোঁয়ার নেশায় আসা পর্যটকরা এখানে প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফ’র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে অপদস্থ হচ্ছেন। এমনকি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে করে পর্যটকদের স্বপ্নের এই গন্তব্য এখন এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, ফুরমোন পাহাড়কে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। পাহাড়ে ঘুরতে আসা সাধারণ পর্যটকদের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো, মোবাইল ছিনতাই করা, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সাথে অশোভন আচরণের মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকরা ভয়ে মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।

ভুক্তভোগী সুমন বক্তব্যে বলেন, ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহরকে এক পলকে দেখা যায়। এমন একটি অমিত সম্ভাবনাময় জায়গায় দিনের আলোয় অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ করে যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা অবিলম্বে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পিসিসিপি’র নেতৃবৃন্দদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূলে নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা না হলে অচিরেই এই অঞ্চলের পর্যটন খাত ধসে পড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আগের পোস্টবিলাইছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ।
পরের পোস্টফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন জেলা পরিষদের সদস্য হাবীব আজমের

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন