কাউখালীতে ইউপিডিএফ-এর নারী সমাবেশে প্রসীত বিকাশ খীসার বার্তা।

0

আলী নেওয়াজ | কাউখালী

প্রসীত বিকাশ খীসা, রবি শংকর চাকমা ও প্রদীপন খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) পাহাড়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন-গুমসহ রাস্ট্র বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত। সংগঠনটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাঙামাটি কাউখালীতে সহযোগী নারী অঙ্গসংগঠনকে সুসংগঠিত করতে মাঠ পর্যায়ে নারী সদস্য সংগ্রহে নামে। জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়ে প্রতিরোধমূলক অপপ্রচার চালাতে নারীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে সংগঠনের বেশ কিছু গোপন তথ্য, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধারের পর, ইউপিডিএফ তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মাধ্যমে ‘নারী আন্দোলনের’ নামে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করেছে।

সর্বশেষ আজ ১৯ মার্চ কাউখালী উপজেলার ৪ নং কলমপতি ইউনিয়নে ইউপিডিএফ বিশাল নারী সমাবেশ আয়োজন করে। এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসার অডিও বার্তা বাজিয়ে শোনানো হয়, যেখানে তিনি নারীদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহিত করেন এবং ৭ মার্চের ঘাগড়া দেবাছড়ি সেনা অভিযানের সময় নারীদের ‘সফল ঘেরাও’-এর প্রশংসা করেন।

ছবি: ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা

“নারীর সম্মান-সম্ভ্রম ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে জেগে ওঠো” স্লোগানে সমাবেশ শুরু করা হয়। ইউপিডিএফ-এর অন্যতম নারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য এন্টি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন— দীর্ঘদিন গুম থাকা ইউপিডিএফ-এর অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও উপজেলার ২ নং ফটিকছড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ঊষাতন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক পরিণীতা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক রূপন মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রায় দুই হাজার নারী সমাবেশে যোগদান করে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে জোরপূর্বক ও বাধ্য করে নারীদের সমাবেশে এনেছে।

এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হিল উইমেন্স ফেডারেশনকে শক্তিশালী করা। এই কাউখালী হচ্ছে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পূর্বের পটভূমি। এখানে সেনা অভিযানে কয়েক বছর ধরে নারী সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত ছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নারী সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠন শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা করছে, একইসাথে ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে কৌশলগত বাধা তৈরি করা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ইউপিডিএফ ৪টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে নারীদের সংঘবদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়।

গঠিত কমিটিগুলো হলো:

১। ঘাগড়া ইউপি কমিটি: সভাপতি সুভাষী চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মিনুচিং মারমা
২। বেতবুনিয়া ইউপি কমিটি: সভাপতি উবাইচিং মারমা, সাধারণ সম্পাদক ছবিমা মারমা
৩। কলমপতি ইউপি কমিটি: সভাপতি ক্রাথুইনু মারমা, সাধারণ সম্পাদক ধ্বনি মারমা
৪। ফটিকছড়ি ইউপি কমিটি: সভাপতি বিউটি মারমা, সাধারণ সম্পাদক সাধনা দেবী চাকমা

গত ৭ মার্চ ঘাগড়া দেবাছড়ি সেনা অভিযানে ইউপিডিএফ-এর আস্তানা থেকে বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীকে ঘিরে রাখার জন্য ইউপিডিএফ নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এতে স্পষ্ট যে, সংগঠনটি সেনা অভিযানের কার্যকারিতা নষ্ট করতে নারীদের বিভ্রান্তিকর কাজে নিয়োজিত করছে।

ইউপিডিএফ বরাবরই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল করতে নারীদের ব্যবহার করে আসছে। তাদের এই পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানের মুখে নতুন মাত্রা পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী যখন সক্রিয়, তখন ইউপিডিএফ নারীদের সামনে এনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটি হবে নতুন এক চ্যালেঞ্জ।

 

আগের পোস্টরাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ
পরের পোস্টসেনাবাহিনীর সহায়তায় দীর্ঘ ১১ মাস পর ঘরে ফিরল ৭ বম পরিবার

রিপ্লাই দিন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন