ইউপিডিএফ-এর নামে পার্বত্যাঞ্চলের থানা গুলোতে পাঁচ শতাধিক মামলা রয়েছে প্রায়!

0
69

 

ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রসিত বিকাশ খিসার বিরুদ্ধে ২৫টির বেশি মামলা রয়েছে। তবুও তাকেই অদৃশ্য শক্তির ইশারায় গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে হত্যা- অপহরণ ও চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি সহ রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত তবুও ইউপিডিএফ’কে নিষিদ্ধ করা হয়নি অদৃশ্য শক্তির ইশারায়। বিভিন্ন মিছিল সমাবেশে রাষ্ট্রও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কটাক্ষ করে স্লোগানও দেওয়া হয়। এমনকি এ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি এযাবৎকাল। এ সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মী ও সশস্ত্র শাখার প্রথম সারির অনেক নেতার নামে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি সহ একগাদা মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানা গুলোতে। পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলের থানায় মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং, খুলশী, বন্দর, পতেঙ্গা থানা ও ঢাকা আশুলিয়া থানায় অহরহ মামলা রয়েছে সন্ত্রাসীদের নামে। এরপরেও এ সন্ত্রাসী সংগঠন সমতলে ও পাহাড়ের আনাচে কানাচে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে প্রভাব খাটিয়ে। হাজার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার স্বত্বেও ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে অপারগ! রবি শংকর চাকমা ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডার আনন্দ চাকমা ঢাকা হতে গত ২০১৮ ইং অস্ত্র সহ আটক হওয়ার পরে তার স্থলাভিষিক্ত হলেন, সজিব চাকমা প্রকাশ দিপক চাকমা। রবি চন্দ্র অর্কিড (অর্নব- অর্কিড) বাবু ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্রীয় চীফ কালেক্টর হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এদের নামে মামলার পাহাড় থানা গুলোতে। পার্বত্যাঞ্চলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে ইউপিডিএফ বাৎসরিক ৩০০ কোটি টাকার অধিক চাঁদাবাজি করে! এসব টাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ক্রয় করে পার্বত্যবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি হরহামেশাই হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কেউ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের মধ্যে এসমস্ত চাঁদাবাজি হয় বলেও জানা যায় সূত্র মতে। জন প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশিরভাগেরই ইউপিডিএফ’কে ১০/২০ লাখ টাকা করে চাঁদা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেছে। ইউপিডিএফ-এর সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত এসকল কতিপয় জন প্রতিনিধি প্রকাশ্যে ইউপিডিএফ’কে প্রশাসনিক সহযোগিতা করে। তার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বাঙ্গালী বিরোধী কর্মসূচী বাস্তবায়নে পরোক্ষভাবে সহযোগী করে কতিপয় জন প্রতিনিধিগণ। পাহাড়ের ভোট বাক্স ইউপিডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে। অস্ত্রের ভয়ে সন্ত্রাসীদের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিতে সবাই বাধ্য হয়। এ জন প্রতিনিধিরা এ ইউপিডিএফ-এর সহযোগিতায় নানান অপরাধ সংগঠিত করে। লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদের এক নারী ভাইস চেয়ারম্যান গত ২০১৬ ইং বাঙ্গালি যুবকদের সঙ্গে সম্পর্কের অজুহাত তোলে ১৬ বছরের এক মারমা কিশোরীকে হত্যা করে লাশ বাথরুমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। এধরনের অভিযোগ অনেক কতিপয় জন প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। ইউপিডিএফ একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রবাদী দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক সশস্ত্র গোষ্ঠী। সাধারণ মানুষদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও নারী ধর্ষণ করা সহ অতিমাত্রায় সংঘবদ্ধভাবে গণধর্ষণ করে অনেক নারীকেও হত্যা করে। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেও উল্টো হয়রানি হতে হয়। নির্যাতিত হয়ে প্রতিকারের আশায় অনেক সময় কেউ গোপনে অভিযোগ করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কতিপয় লোক সন্ত্রাসীদের নিকট অভিযোগকারীর তথ্য ফাঁস করে দেয়। তখন অভিযোগকারী ফেঁসে যায়। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের হাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির স্বীকার হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ উল্টো মামলা না নিয়ে থানা হেফাজতে ভিকটিমকে আটক রেখে নির্যাতন করারও অভিযোগ পার্বত্য থানা গুলোর পুলিশের বিরুদ্ধে কম নয়। একাধিক মামলার হুলিয়া নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে ঘুরে বেড়ায় সন্ত্রাসীরা। এসব আসামীদের পুলিশ আটক করতে নারাজ একদম। পুলিশের ভাষ্য এসমস্ত আসামীদের গ্রেফতার করে এবং তাদের মামলার তদন্ত করে পুলিশের কোন লাভ হয়না। পুলিশের উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শতশত মামলা থাকার স্বত্বেও তাদের গ্রেফতার করা হয়না রহস্যময় কারনে, তাদের গ্রেফতার করার পরে স্থানীয় উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজাতি নেতারা পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টিও তদবির করেন। অনেক সময় উপজাতীয় এমপি, মন্ত্রীরাও থানার ওসি ও এসপি সহ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে চাপ সৃষ্টিও তদবির করেন। তাই বিচ্ছিন্নতাবাদী এ সন্ত্রাসীদের ধরা হয়ে উঠে না। তাছাড়া ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের নেতাদের পুলিশ শনাক্ত করতেও বর্থ্য। প্রসিত বিকাশ খিসা সহ ইউপিডিএফ-এর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা গুলোর সঠিক তদন্ত ও আসামীদের পিসিপিআর যাচাই-বাছাই করণে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় ইএস প্রেরণ না করার প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত মামলা পরিচালনা করতে পুলিশে দক্ষ জনবল নেই। সমতুল্য আর পাহাড় এক না। এখানকার প্রকৃতি পরিবেশ মানুষ, সন্ত্রাস সমতল থেকেও অনেক ভিন্ন। পাহাড়ে পুলিশ সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও তাদের সম্পর্কে যথেষ্ট অনুসন্ধান পূর্বক তদন্ত করার মতো উপযুক্ত নয়। দুর্গম এলাকায় হওয়ার কারনে পুলিশ অনেক মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও করেনা যথাসময়, অনেক সময় মামলার সঠিক তদন্ত না করে দায়সারাভাবে প্রতিবেদন জমা দেয় আদালতে। ইউপিডিএফ-এর বিরুদ্ধে মামলা গুলোর যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ প্রতিবেদনে দায়সারা কাজের অন্যতম কারন হলো এ মামলা গুলো থেকে পুলিশ বেনেফিট পায়না, মামলা গুলোর বাদী সব পুলিশ। পাবলিক বাদী মামলা হলে পুলিশ তদন্তের সময় যেসকল সুবিধাও বেনিফিট আদায় করে রাষ্ট্র বাদী অথাৎ পুলিশ বাদী এসকল মামলা গুলোতে কোনরকম সুবিধা আদায়ের সুযোগ নেই। আর ইউপিডিএফও পুলিশকে খরচাপাতি দেয়না। এ থেকে পুলিশের অনিহা ইউপিডিএফ-জেএসএস সহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত মামলা গুলোর সম্পূর্ণ তদন্ত ও আসামীদের নাম-ঠিকানা পরিচয় শনাক্ত সহ সংশ্লিষ্ট থানায় পিসিপিআর যাচাই-বাছাইও ইএস প্রেরণ হয়না। উচ্চ পদস্থ এ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হয় উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের স্থলে যদি বাংগালীরা এ সন্ত্রাসী কার্যক্রমও মামলার একাধিক আসামী হতো তখন পুলিশ কি দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করার পাশাপাশি আসামী গ্রেফতারে অনিহা প্রকাশ করতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ বাংগালীদের সম্পর্কে ধারণা রাখেন আর বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পুলিশের প্রতি বাধা নেয়।

সস্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত মামলা গুলোর সঠিক তদন্তের অভাবে সন্ত্রাসীরা আদালত হতে ছাড়া পেয়ে যায়। ছাড়া পেয়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়।

একটি সংগঠন টিকে থাকার মূল ভিত হলো ৩টি যথা,

১. হলো জনশক্তি,

২. অর্থনীতিক চালিকা শক্তি,

৩. সাংগঠনিক শক্তি।

ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের নীরবতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের প্রভাব দেখিয়ে সবকিছু মজবুত করে নিতে সক্ষম হয়েছে৷ ইউপিডিএফ-এর লাগাম টেনে ধরা ভবিষ্যতে অসাধ্য হবে বলে উপরোক্ত বিষয়াদি অনুমেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here